বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

জরুরি কলে শুধু খাবারের অনুরোধ করা হচ্ছে

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় অধিকাংশ জেলা শহরগুলোতে অঘোষিত লকডাউন চলছে। বাকি জেলাগুলোতে চলাফেরায় ব্যাপক নজরদারি রাখা হয়েছে। এমন অবস্থায় দিন এনে দিন খাওয়া মানুষদের জন্য খাবার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এসময় অসহায় মানুষের ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এবং জাতীয় তথ্যসেবা হেল্পলাইন-৩৩৩।

তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ২৩ দিনে জাতীয় তথ্যসবা হেল্পলাইন-৩৩৩ ফোন পেয়ে ৯ হাজারেরও কিছু বেশি জনের বাসায় খাবার পৌঁছে দিয়েছে। আবার গত ১৮ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এ ২ লাখ ৩৪৮টি কল এসেছে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত। এর মধ্যে অধিকাংশই খাদ্যসামগ্রীর ব্যাপারে ফোন করেছেন।

এ দুটি হটলাইনে ফোন করে মানুষ খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে চিকিৎসা সহায়তার মতো অতিপ্রয়োজনীয় সহায়তা চাইছেন। চাহিদা অনুযায়ী সেবাপ্রত্যাশীদের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন হেল্পলাইন কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

জাতীয় তথ্যসেবা হেল্পলাইন-৩৩৩ সূত্র জানায়, গত ২৯ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত ২৩ দিনে ৯ হাজার ৫০ জন ৩৩৩ নম্বরে ফোন করেন। তাদের প্রত্যেককে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে খাদ্যপণ্য সহায়তা দিয়েছে ৩৩৩ কর্তৃপক্ষ। ৩৩৩ ফোন পাওয়ার পর সাধারণত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে দরিদ্র মানুষের ঘরে খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে ডিসি ও ইউএনওরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে জানিয়েছেন ৩৩৩ কর্তৃপক্ষ। অনেক ক্ষেত্রে একটি কলের বিপরীতে ওই এলাকার ৪০-৫০ জন অসহায় মানুষকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তবে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেও জাতীয় তথ্যসেবা হেল্পলাইন-৩৩৩তে ফোন করতে সংযোগ স্থাপন করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ আছে।

অন্যদিকে আবার জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৮ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় এক মাসে ২ লাখ ৩৪৮টি কল এসেছে নভেল করোনাভাইরাস সম্পর্কিত। এর মধ্যে ৭ হাজার ৩৬৬ জনকে অনগ্রাউন্ডে (মাঠপর্যায়ে) গিয়ে সেবা দিয়েছে পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। এর মধ্যে বেশিরভাগ কল ছিল করোনা সম্পর্কে নানা জিজ্ঞাসা ও খাদ্যপণ্য চাওয়া। তবে খাদ্যপণ্য দেওয়ার এখতিয়ার না থাকায় ৯৯৯ কর্তৃপক্ষ এ সম্পর্কিত কল যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানান্তর করা হয়েছে।

জানতে চাইলে সরকারের এটুআই (একসেস টু ইনফরমেশন) প্রকল্পের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট ইকবাল হোসাইন সোহেল বলেন, ‘৩৩৩-এ ফোন পেয়ে আমাদের সাধ্য মতো মানুষকে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি। এ কাজে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে একসঙ্গে অনেক মানুষ ফোন করায় ৩৩৩ দীর্ঘ সময় ব্যস্ত থাকে।

একই বিষয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ বলেন, করোনা সম্পর্কিত অনেক কল পাচ্ছি। কলের ধরন অনুযায়ী সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। যেগুলো আমাদের এখতিয়ারে নেই সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।

লাইটনিউজ/এসআই