বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

ফেরার অপেক্ষায় জাপানে আটকে পড়া ১০০ বাংলাদেশি

জাপানে প্রায় ১০০ জন বাংলাদেশি দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে বাংলাদেশ সরকার ইদানীং বিভিন্ন দেশে আটকা পড়া বাংলাদেশি মানুষকে ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে, এতে এরা আশার আলো দেখছেন।

এমন পরিস্থিতি দেখা দে্ওয়াটা ছিল মানুষের কল্পনাতীত। বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। মানুষ ঘরবন্দী হয়ে দিন কাটাবে, তাও আবার যুদ্ধকালীন নয়, শান্তির সময়ে, আমরা কেউ স্বপ্নেও ভাবিনি। এ জন্য কোনরকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখার চিন্তা কারও মাথায় আসেনি। বাস্তবে তা ঘটে যাওয়ায় অনেকে নানাভাবে আটকা পড়ে গেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে, নানা দেশে। এই দলে বাংলাদেশি মানুষের সংখ্যা একেবারে কম নয়। জাপানে আছেন এমন প্রায় ১০০ জন। দেশে কীভাবে ফিরে যাওয়া যায়, তা নিয়ে যারা এখন চিন্তিত। তবে বাংলাদেশ সরকার ইদানীং বিভিন্ন দেশে আটকা পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে, এতে এরা আশার আলো দেখছেন।
টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাস কিছুদিন আগে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের নাম-ঠিকানা পাঠানোর অনুরোধ করেছিল। বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর জিয়াউল আবেদিন প্রথম আলোকে জানান, দূতাবাসের সেই অনুরোধে সাড়া দিয়ে শুরুতে ৯০ জনের মত বাংলাদেশি দেশে ফিরে যেতে দূতাবাসের সাহায্য চেয়ে আবেদন করেন। এর মধ্যে বড় একটি দল হচ্ছে মার্চ মাসে শিক্ষা শেষ করা শিক্ষার্থীরা। স্বাভাবিক অবস্থায় শিক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার পর জাপানে কাজের সুযোগ যাদের হয় না বা দেশে যারা কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে জাপানে এসেছেন, তাঁরা সবাই মার্চ মাসের শেষ দিকে সার্টিফিকেট লাভ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দেশে ফিরে যান। এবারও এঁদের পরিকল্পনা সেরকম ছিল। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিস্তৃত হওয়ার মুখে বিমান চলাচলসহ অন্যান্য যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হঠাৎ করেই এরা ভিন্ন এক পরিস্থিতিতে জাপানে আটকা পড়ে গেছেন। এতে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগটি ছিল খুবই সময়োচিত, যা এদের অনেকের মনে স্বস্তি এনে দেয়।
বাংলাদেশ দূতাবাস এর মধ্যে এদের ফেরত পাঠানো নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর ভাড়া করা বিমানে দেশে ফেরত যাওয়ার খরচ কিরকম হতে পারে, তার আনুমানিক হিসাব আবেদনকারীদের জানিয়ে দিয়ে দেশে যাওয়া পুনরায় নিশ্চিত করার অনুরোধ তাদেরকে জানিয়েছিল। এই অনুরোধে সাড়া দে্ওয়া আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকের নীচে নেমে আসে। এর মূল কারণ সম্ভবত স্বাভাবিক সময়ের বিমান ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ পরিশোধ। ওই সময়ের মধ্যে জাপান সরকার আটকে পড়ে যাওয়া বিদেশিদের ভিসার মেয়াদ ঢালাওভাবে তিন মাস বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে এরা হয়তো মনে করে থাকবেন, অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে এলে নিয়মিত ফ্লাইটে ফিরে যেতে অসুবিধা হবে না। এর বাইরে আবার জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে যাঁরা পড়তে এসেছিলেন, তাঁদের জন্য জাপানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করে। এর সঙ্গে সরকার মাথাপিছু ১ লাখ ইয়েন প্রণোদনা ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করে। এতে ভাড়া করা বিমানে দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি হয়তো তাঁদের নিরুৎসাহ করে।

ভাড়া করা বিমানে মাথাপিছু খরচ যেন কমিয়ে আনা যায়, সেই চেষ্টায় বাংলাদেশ দূতাবাস জাপানে ফিরে আসতে ইচ্ছুক দেশে আটকা পড়ে যাওয়া বাংলাদেশিদের একই ফ্লাইটে ঢাকা থেকে নিয়ে আসার একটি ব্যবস্থাও ঠিক করে নিয়েছে। ফেব্রুয়ারি-মার্চ জাপানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা বর্ষ শেষ হওয়ার ছুটি চলতে থাকায় জাপানের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত বেশ কিছু বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ছুটি কাটাতে সেই সময়ে দেশে গিয়েছিলেন এতে অনেকেই বাংলাদেশে আটকা পড়ে যান। এর বাইরে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও কিছু চাকরিজীবীও সেই দলে আছেন, দ্রুত জাপানের ফিরে না এলে চাকরি হারানো বা ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তাঁরা ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এর সুরাহার জন্য ধারনা দেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশ বিমানের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার কাজ এখন অনেকটা এগিয়ে নিয়েছে। তবে টোকিও থেকে ঢাকায় যাওয়া যাত্রীর সংখ্যা প্রাথমিক হিসাবের চেয়ে কমে যাওয়ায় ঢাকায় ফিরে যাওয়া যাত্রীদের বেলায় জনপ্রতি ভাড়া কিছুটা বেশি পড়বে। সেই সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব করে নিতে টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাস বিমানের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে বিমান যেন ফেরার পথে দক্ষিণ কোরিয়া থেকেও আটকা পড়া বাংলাদেশিদের নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখে। কোনো অগ্রগতি এখনো দেখা না গেলেও বাংলাদেশ দূতাবাসের জিয়াউল আবেদিন আশা করছেন, চলতি মাসের শেষ নাগাদ বিমানের চার্টার্ড ফ্লাইট দেশে ফিরতে ইচ্ছুক জাপানে আটকা পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হবে।