বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

বাচ্চার দুধের জন্য চুল বিক্রি করা সেই অসহায় মায়ের পাশে দাঁড়াচ্ছেন মানুষ

ইয়াসিন, সাভার প্রতিনিধি: বিশ্বজুড়ে প্রাণঘাতী করোনার কারনে অর্থনীতির চাকা যখন অচল, সেখানে বাংলাদেশের মতো নিম্ন আয়ের দেশের জনগনের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই নাজুক। ঢাকার অদুরে সাভারে দেখা মিললো ক্ষুধায় কাতর সন্তানের মুখে খাদ্য তুলে দেবার চেষ্টা।

করোনার ছোবলে স্বামী কর্মহীন হয়ে পড়ায় অর্থাভাবে নিজের মাথার চুল বিক্রি করে বাচ্চার দুধ কিনে আনলেন অসহায় এক মা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সাভারের ব্যাংক কলোনী এলাকায় নান্নু মিয়ার টিনসেড বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে ভাড়া থাকেন অসহায় মা সাথী বেগম, তার মুখ থেকে শোনা যায় এমন তথ্য। স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছে পরিবারটি। তার বড় ছেলের বয়স আড়াই বছর ও ছোট ছেলে বয়স ১ এবছর।

সাথী বেগম জানান, গত দেড় মাস আগে তার স্বামী মানিকের সাথে সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকায় টিনশেডের ভাড়া বাড়িতে উঠেন। পেশায় দিনমজুর স্বামী কে নিয়ে তার সংসার চলে যাচ্ছিলো, তিনি নিজেও বাসা-বাড়িতে কাজ করে সংসারে সহায়তা করে আসছিলেন।

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে সব কিছুই লক ডাউনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পরেন তারা। বাড়িওয়ালা কাজে যেতে নিষেধ করায় বিপাকে পরেন মা সাথী বেগম। তার স্বামীও কোন কাজ না পেয়ে বাড়িতে বেকার বসে দিন কাটাতে হচ্ছে।

তিনি জানান, এখানে নতুন এসেছেন, কাউকেই তেমন চেনে না। কোথায় ত্রাণ দেয়- সেটাও জানা নেই তার। প্রতিবেশীর কাছ থেকে ত্রাণের খবর পেয়ে দুই জায়গায় সহযোগিতার জন্য গিয়েছিলেন। তবে তাকে চেনে না বলে খালি হাতে ফিরিয়ে দেয়। খাদ্য সহায়তা খুঁজতে গিয়ে এক হকারের (চুলক্রেতা) সাথে পরিচয় হয়। পরে সাথী বেগম তার মাথার চুল বিক্রি করেন ১৮০ টাকায়। ওই টাকা দিয়ে শিশুর জন্য দুধ ও এক কেজি চাল কিনেছেন।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে উপজেলা প্রশাসেনর সহকারী কমিশনার (ভূমী) আবদুল্লাহ আল মাহফুজ জানান, গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আমরা শুনেছি। বিষয়টি সত্যিই অনেক দুঃখজনক। তিনি দ্রুত ওই পরিবারে ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।

সাভার পৌর মেয়র আব্দুল গনি জানান, হতদরিদ্রদের পৌর এলাকায় অনেক জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। তবে এক নারী তার বাচ্চার খাবারের জন্য নিজের চুল বিক্রি করার বিষয়ে তিনি জানেন না।

এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব বিষয়টি জানার সাথে সাথে অসহায় সাথী বেগমের বাসায় শিশু খাদ্য ও প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ছুটে যান এবং এ ধরনের ঘটনার যেনো পুনারাবৃত্তি না ঘটে তার আশ্বাস দেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) বিষয়টি জানাজানি হওয়ার অনেকেই ত্রান সহায়তা নিয়ে সাথী বেগমের সাথে দেখা করতে গিয়েছেন।

লাইটনিউজ