বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

রমজানে ইফতার পার্টি বাদ দিয়ে গরীবদের খাওয়াবে তরুণরা

লাইট নিউজ ডেস্ক: ঘরবন্দি এমন রমজান মাস কখনো দেখেনি কেউ। করোনাভাইরাসের এই মহামারির সময়টাতে ভারতের মুসলিমদের তারাবির নামাজ, ইফতার সবই করতে হবে ঘরে। লকডাউনের কারণে কাজ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন দরিদ্ররা। আসছে রমজানে তাই দিল্লির অনেক তরুণ ইফতার পার্টি বাদ দিয়ে গরীবদের খাওয়ানোর পরিকল্পনা করেছেন।

গত সপ্তাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটিতে লকডাউনের সময়সীমা ৩ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ভারতে ২৪ এপ্রিল শুরু হতে পারে রমজান। অর্থাৎ লকডাউনের মধ্যেই শুরু হচ্ছে রমজান। এরপরই দেশটির কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়, লকডাউন চলাকালীন সময়ে ভারতের মসজিদগুলো রমজানের সময়ও বন্ধ রাখতে হবে।

দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী দিল্লির বাসিন্দা ইরতিজা কোরেইশি মারহাম নামে একটি এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হয় আমাদের হেরে যেতে হবে, নয়তো কিছু একটা করতে হবে।

যেহেতু মসজিদে তারাবীর নামাজ বন্ধ তাই কোরেইশি চিন্তা করলেন এ বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেবেন। চিন্তা-ভাবনার পর তিনি ফেসবুকে লিখলেন, আমরা তো ২০ রাকাত তারাবীর নামাজ পড়ি। এবার একটা কাজ করলে কেমন হয়? আমরা ২০টি অতিদরিদ্র পরিবারকে খুঁজে বের করব। রমজানের ২০ দিন তাদেও জন্য খাবারের ব্যবস্থা করব। এরপর আমরা রাতে যার যার বাড়িতে ২০ রাকাত তারাবীর নামাজ আদায় করব।

স্বেচ্ছাসেবী হতে যারা আগ্রহী তাদের জন্য কিছু শর্ত দিয়েছিলেন কোরেইশি। রমজানের প্রথম ২০ দিন রাত ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত কাজ করতে হবে। করোনার হটস্পট নয়, এমন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবীদের বাড়ি হতে হবে। গাড়ি থাকতে হবে এবং সেই গাড়ি নিয়ে দিল্লির যে কোনো স্থানে গিয়ে দরিদ্র মানুষের হাতে খাবার পৌঁছে দিতে হবে।

কয়েকদিনের মধ্যে কোরেইশি ব্যাপক সাড়া পান। ৬০ জনের বেশি মানুষ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। হামদর্দ ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন এরই মধ্যে ২০ লাখ রুপির খাদ্য সামগ্রী কিনে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া অনেকে ব্যক্তিগতভাবেও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের প্রতি।

শুধু কোরেইশিরাই নন, দিল্লির অনেক মুসলিমই যার যার জায়গা থেকে নজিরবিহীন এই সংকটের সময় কিছু একটা করার চেষ্টা করছেন। যেমন- ‘মিনিমাল মুসলিম’ নামের একটি নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেসবুকে সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছে। তাদের বক্তব্য হলো, এই রমজানে প্রত্যেক মুসলমানকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

লাইট নিউজ