বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

করোনার আগেই ইন্ডাস্ট্রি লোকসানে ছিলো : রিয়াজ

 

বিশ্বব্যাপী ভয়ংকর আঘাত এনেছে করোনাভাইরাস। যার শিকার প্রায় দুই লাখ মানুষ। এর মন্দ প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যে।সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতেও মন্দ প্রভাব পড়েছে। পৃথিবীর কোথাও কোনো শুটিং নেই, কোনো সিনেমার মুক্তি নেই। একই অবস্থা বাংলাদেশের সিনেমাতেও।

অনেকেই ধারণা করছেন কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়বে ইন্ডাস্ট্রি। তবে চিত্রনায়ক রিয়াজ বললেন, খুব একটা ক্ষতি হবে না।

তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে দেশের সব সিনেমা হল বন্ধ, সকল কাজই স্থগিত। এ দুর্যোগ কাটানোর পর খুব একটা লোকসান আমাদের হবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি করোনার আগেও যে বিশাল কিছু ছিল তা কিন্তু না। আগেও যা ছিল, এখনও তাই মনে হচ্ছে আমার কাছে।

১২০০ সিনেমা হল থেকে মাত্র ৮০টিতে নেমে এসেছে। সেটা তো কোন ভাইরাস ছাড়াই নেমে এসেছে। করোনার আগেই আমাদের ইন্ডাস্ট্রি লোকসানে ছিলো। দিনের পর দিন এখানে লোকসান হয়েছে। নতুন করে বলার কিছু নেই।

তবে আমার কাছে খারাপ লাগছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট মানুষজনের জন্য। যারা দিন আনে দিন খায়, শুটিং করে দিনযাপন করে তাদের জন্য এখন খুব কঠিন সময় যাচ্ছে। তাদের জন্য বেশি খারাপ লাগছে।’

অসহায়, দিনমজুরদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিত্বরা। শোবিজের অসহায় মানুষদের পাশে আছেন অনেক শিল্পী ও তারকারা।
কেউবা অসহায়দের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে অন্যদেরকে উৎসাহিত করতে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের কিংবা ত্রাণের ছবি পোস্ট করেছেন। আবার অনেকেই সহায়তা করেছেন একান্তই গোপনে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক কাঁদা ছোড়াছুড়িও হচ্ছে।

চিত্রনায়ক রিয়াজ মনে করেন দুই ভাবনার লোকরাই ভুল। সাহায্য করলেই যে দেখাতে হবে এমন কিছু নয়। আবার দেখালেই যে সাহায্য ছোট হয়ে গেল তাও নয়। এখন সংকটকাল। সবাইকে এক হয়ে থাকার দিন।

তিনি বলেন, ‘এখন দেশের যে অবস্থা যাচ্ছে তাতে করে শুধু চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি নয়, টেলিভিশন মিডিয়াসহ পুরো দেশই খারাপ সময় পার করছে। এসময় অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব। আমি আমার সেই দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কাজ করছি।

আর সবকিছু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখাতে হবে এমন তো কিছু না। আমি শুধু ‘সোশ্যাল অ্যাওয়ারনেস’ সম্পর্কিত আপডেটগুলোই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছি। এছাড়া অন্য কিছু শেয়ার করার প্রয়োজন মনে করছি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেখলাম যারা ফেসবুকে ত্রাণ সহায়তায় চাল-ডাল দেওয়ার ছবি দিতে দেখা যাচ্ছে না তাদেরকে নিয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে। আসলে ঘরে বসে ফেসবুকে লেখালেখি করাটা তো খুব সহজ। এখন তো ঘরে বসে কোন কাজ নেই তাই ফেসবুকের বাটন চেপে যে যার মত যা খুশি লিখছে। ফেসবুকে এটাও দেখছি যে, ‘রাষ্ট্র কিভাবে চলবে’ সেটারও প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন অনেকে। সরকার আর প্রাইভেট কাজ চালানো তো এক জিনিস নয়। আর তাদের কথায় আমার কিছু যায় আসে না। আমি কারও কথাতে নিজেকে পরিবর্তন করার পাত্র নই।

আমি কি করছি সেটা একান্তই আমি জানি। আমি আমার সামর্থ্য ও সাধ্য অনুযায়ী কাজ করছি, সহায়তা করছি। আমি যাকে সহযোগিতা করছি সে উপকৃত হলেই আমি খুশি। কে কি ভাবলো বা বলল সেটা নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নেই।

যারা নেগেটিভিটি বলছেন বা লিখছেন, তারা তাদের বিচারবুদ্ধিতে লিখছেন। তাদেরটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু না।’