বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

ত্রাণ বিতরণে ডিএনসিসি’র সার্বক্ষণিক হটলাইন চালু

করোনা সংকটের শুরু থেকেই অসহায়, দুস্থ ও মধ্যবিত্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী অভাবে পড়ে যাওয়া মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়াই ডিএনসিসি’র প্রধান লক্ষ্য। যেন কেউ অনাহারে না থাকে সেজন্য প্রযুক্তির সাহায্যও নেয়া হয়েছে। খোলা হয়েছে হটলাইন নম্বর।

কিভাবে এই হটলাইন নম্বর কাজ করছে তার সবিস্তারে বলেছেন ডিএনসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহা: আমিরুল ইসলাম (পিএসসি)। একটি অ্যাপের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে ডিএনসিসি’র ত্রাণ কার্যক্রম। ‘ই-রেশন অ্যাপে’ জানা যাচ্ছে যিনি সহায়তা চেয়েছেন তিনি পাচ্ছেন কি না? হটলাইন নম্বরে ফোন আসার সঙ্গে সঙ্গে ডিএনসিসি’র সার্ভারে পুরো তথ্য লিপিবদ্ধ হচ্ছে। একটি তথ্য চলে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। আর অন্যটি ডিএনসিসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে।

ফলে ত্রাণ চুরি বা লুকানোর সুযোগ থাকছে না। পুরো প্রক্রিয়াটা স্বচ্ছতা আনায়নের জন্য প্রধান প্রকৌশলী বিশেষ এই অ্যাপটি তৈরি করেছেন। তার চিন্তাভাবনা যদি সফল হয় তাহলে আগামীতে জাতীয়ভাবে এই প্রক্রিয়া সকল জায়গায় ব্যবহার করা হবে।

লোক লজ্জার ভয়ে যারা ত্রাণ বা সহায়তা চেতে পারছেন না তাদের জন্য খোলা হয়েছে হটলাইন নম্বর। ডিএনসিসি কার্যালয়ের নিচ তলায় একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেখানে সার্বক্ষণিক ৩ জন লোক নিয়োজিত। এই হটলাইন নম্বরে-০৯৬০২২২২৩৩৩ ও ০৯৬০২২২২৩৩৪ ফোন আসার সাথে সাথে তথ্য সংগ্রহকারী প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে সার্ভারে ডাটা এন্ট্রি করছে। তথ্য সংগ্রহের সময় সহায়তা চাওয়া ব্যক্তির চাহিদার গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ যার এখনই সহায়তা দরকার তার তালিকা একটা হচ্ছে আর যার দুই দিন পরে দিলে চলে তার জন্য আর একটা তালিকা হচ্ছে।

সহায়তাকারী ডিএনসিসি’র ভোটার কি না? বা ঢাকার ভোটার কিনা এসব বিবেচ্য বিষয় না। শুধু তার ভোটার আইডি নম্বরটা রাখা হয় তথ্য সংগ্রহের জন্য। যখনই কারো তথ্য সার্ভারে যাচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে যে এলাকা থেকে সাহায্য চাওয়া হচ্ছে ওই এলাকার জন্য আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তথ্যটি চলে যাচ্ছে। এরপর বিতরণকারী কর্মীর কাছেও যাচ্ছে তথ্যটি। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা চাহিদার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিতরণকারী কর্মীরা কাছে ডিএনসিসি’র সহায়তা সামগ্রী তুলে দেবেন। এরপর বিতরণকারী কর্মী মোটরসাইকেলে ত্রাণ নিয়ে ছুটবে যিনি সাহায্য চেয়েছেন তার বাড়িতে। জিওগ্রাফিক্যাল ম্যাপের মাধ্যমে বিতরণকারী যখন সাহায্য প্রার্থীর কাছে যাবেন তার সম্মতি থাকলে একটা ছবি তুলে রাখা হবে আর সম্মত না হলে ওই বাড়ির একটি ছবি চলে যাবে ডিএনসিসি’র সার্ভারে। ফলে তথ্যটি সার্ভারে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। আর এতে ত্রাণ আত্মসাতের কোনো সুযোগ থাকবে না।

অ্যাপ নির্মাতা ডিএনসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহা: আমিরুল ইসলাম (পিএসসি) বলেন, ‘আসলে ত্রাণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার জন্য মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের নির্দেশনায় আমি এটি করেছি। এই অ্যাপের মাধ্যমে জানা যাবে সাহায্য প্রার্থী সাহায্য পেয়েছেন কি না? বা যিনি চাচ্ছেন তার আসলে প্রাপ্যতা আছে কি না। এসব বিষয় তথ্য সংগ্রহের সময় যাচাই হয়ে যায়। এখানে কোন রকম ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নাই। কেননা তথ্যটির আপডেট ঊর্ধ্বতন সকল কর্মকর্তার কাছে চলে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়া সফল হলে আগামীতে আরো বড়ভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে।

হটলাইনের মাধ্যমে (২২ এপ্রিল) পর্যন্ত ডিএনসিসি এলাকায় ডিএনসিসি, ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণ এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধির উদ্যোগে মোট ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৮৯টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সর্বশেষ (২২ এপ্রিল) ১৫ হাজার ৯০১টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ডিএনসিসি কর্তৃক ১০ হাজার ২৮৯টি পরিবার, কাউন্সিলরদের উদ্যোগে ৪২৭৩টি, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ১ হাজার ৩৩৯টি পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। শুধু মাত্র ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৬১ হাজার ৮৬৪টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বিতরণকৃত ত্রাণের মধ্যে রয়েছে চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, তেল, লবণ, সাবান, শিশুখাদ্য। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ডিএনসিসির ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত থাকবে।

লাইটনিউজ/এসআই