বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

ইসলামের প্রথম মসজিদ কুবা

লাইট নিউজ ডেস্ক : কুবা’ একটি কূপের নাম। এই কূপকে কেন্দ্র করে মদিনায় যে বসতি গড়ে উঠেছে, তা কুবা মহল্লা হিসেবে পরিচিত। এখানেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয় ইসলামের প্রথম মসজিদ। এই মসজিদের নামকরণ হয় মসজিদে কুবা। এটি মুসলিমদের জন্য অন্যতম ফজিলতময় স্থান হিসেবে বিবেচিত। মসজিদে কুবার নির্মাণ ইতিহাস নিয়ে লিখেছেন আন্দালিব আয়ান নির্মাণের প্রেক্ষাপট

৪০ বছর বয়সে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নবুয়ত লাভের পর মক্কায় ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন। ইসলাম প্রচারের কারণে কুরাইশরা মহানবী (সা.) এবং তাঁর সাহাবাদের ওপর নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের পরও মহানবী (সা.) দ্বীনের দাওয়াত চালিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে কুরাইশরা মহানবী (সা.)-কে হত্যা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

এ অবস্থায় আল্লাহর আদেশক্রমে মহানবী (সা.) হযরত আবু বকরকে (রা.) সঙ্গে নিয়ে ইসলামের শত্রুদের চোখ ফাঁকি দিয়ে ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মাতৃভূমি মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করেন।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় আসছেন এই সংবাদ পেয়ে মদিনাবাসী আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন। প্রতিদিন দলে দলে আবালবৃদ্ধবনিতা মদিনা থেকে তিন মাইল দূরে অবস্থিত কুবা পল্লীর হাররা নামক স্থানে জড়ো হতে লাগলেন এবং তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকলেন। কিন্তু তাকে না দেখে সবাই হতাশ হয়ে ফিরে যেতেন। এক দিন এক ইহুদি দুর্গ প্রাচীরে উঠে বহু দূরে ধূলি উড়তে দেখে চিৎকার করে মদিনাবাসীকে হযরত মহানবীর (সা.)-এর আগমনের সু-সংবাদ জানায়। সংবাদ শুনে মদিনাবাসী আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে এবং মহানবীকে (সা.) সাদরে বরণ করে নেন। মক্কা থেকে মদিনা হিজরত করে আসার পথে মদিনার নিকটবর্তী কুবায় রাসুল (সা.) পৌঁছান ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ২৩ সেপ্টেম্বর, অর্থাৎ হিজরি প্রথম বছরের রবিউল আউয়াল মাসের ৮ তারিখ। ইসলামের প্রথম মসজিদটি এখানেই স্থাপন করা হয়।

যেভাবে শুরু হয় নির্মাণকাজ

মদিনায় হিজরত করে নবী করিম (সা.) সর্বপ্রথম আমর ইবনে আওফের গোত্রপতি কুলসুম ইবনুল হিদমের আতিথ্য গ্রহণ করেন। নবী করিম (সা.) মদিনায় হিজরতের প্রথম দিন কুবায় অবস্থানকালে তিনি কুলসুম ইবনুল হিদমের (রা.) খেজুর শুকানোর পতিত জমিতে মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন এবং নির্মাণকাজে সাহাবাদের সঙ্গে অংশ নেন।

ইতিহাসবিদরা বলেন, হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করেন, তখন কেবলার দিকের প্রথম পাথরটি নিজ হাতে স্থাপন করেন। অতঃপর হযরত আবু বকর (রা.) একটি পাথর স্থাপন করেন। তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে আবু বকর (রা.)-এর পাথরের পাশের পাথরটি স্থাপন করেন হযরত উমর (রা.)। এরপর যৌথভাবে নির্মাণকাজ শুরু হয়।

হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় পৌঁছানোর আগে এক মতানুসারে চার দিন, মতান্তরে ১০ বা ১৪ দিন আবার সহিহ্ আল বোখারির এক বর্ণনা অনুযায়ী ২৪ রাত কুবায় অবস্থান করেছিলেন। এ সময়ের মধ্যে হযরত আলী (রা.) হিজরত করে সেখানে গিয়ে পৌঁছান। মসজিদে কুবা উম্মতে মুহাম্মদির (সা.) সর্বপ্রথম মসজিদ। মসজিদে হারাম, মসজিদে নববি এবং মসজিদে আকসার পরই মসজিদে কুবার সম্মান। পবিত্র কোরআনের সুরা তওবার ১০৮ নম্বর আয়াতে এই মসজিদের কথা উল্লেখ আছে। মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, ‘যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাকওয়ার ওপর (মসজিদে কুবা) তাই বেশি হকদার যে, তুমি সেখানে সালাত কায়েম করতে দাঁড়াবে। সেখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসে। আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা তাওবা, আয়াত ১০৮)

মসজিদের গঠন ও পুনর্নির্মাণ

মসজিদে কুবা প্রথম নির্মাণ থেকে এ পর্যন্ত কয়েক দফা সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয়। মহানবীর (সা.)-এর পর ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.) তার খিলাফতকালে সর্বপ্রথম মসজিদে কুবার সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময় আরও সাতবার এই মসজিদের পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। অনেক পুরনো ও জীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। এ মসজিদ নির্মাণে এক ধরনের সাদা পাথর ব্যবহার করা হয়।

মসজিদে কুবা মদিনা শরিফের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। চার মিনার ও দোতলার মসজিদে কুবার ছাদে একটি বড় গম্বুজ এবং পাঁচটি অপেক্ষাকৃত ছোট গম্বুজ রয়েছে। তা ছাড়া ছাদের অন্য অংশে আছে গম্বুজের মতো ছোট অনেক অবয়ব। পাশে আছে হরিৎ খেজুরের বাগান, যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। হলদে বিকেলে দূর থেকে মসজিদটি দেখলে হৃদয় ভরে যায়। মসজিদে নববির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত এ মসজিদের দূরত্ব নববি থেকে সোয়া তিন কিলোমিটার।

কুবায় নামাজ আদায়ের ফজিলত

মসজিদে কুবায় নামাজের ফজিলতের কথা অনেক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় ১০ বছর কাটিয়েছেন। এ সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) হেঁটে অথবা উটে আরোহণ করে কুবা মসজিদে যেতেন। এরপর তিনি সেখানে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন।

হাদিস শরিফে বর্ণনা আছে, ‘মদিনার জীবনে মহানবী (সা.) প্রত্যেক শনিবার কখনো হেঁটে আবার কখনো উটে আরোহণ করে মসজিদে কুবায় তাশরিফ আনতেন।’

প্রখ্যাত সাহাবি হযরত উসাইদ ইবনে হুজাইব আল আনসারী (রা.) বর্ণনা অনুসারে, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের ঘরে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সুন্নত মোতাবেক অজু করে) মসজিদে কুবায় আগমন করে নামাজ আদায় করে তাকে এক ওমরার সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে।’

হাদিসের এমন বর্ণনার পরিপ্রেক্ষিতে নবীর যুগ থেকেই প্রতি শনিবার মসজিদে কুবায় নামাজ আদায়ের জন্য গমন করা মদিনাবাসীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এখনো তাদের এই আমল অব্যাহত রয়েছে। হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণে কুবা মসজিদে আসা ও দুই রাকাত নামাজ আদায় করা মোস্তাহাব। হজপালন শেষে মদিনায় অবস্থানরত হাজিরাও মসজিদে কুবায় গিয়ে নামাজ আদায় করেন।

মসজিদে কুবার এই সম্মান ও মর্যাদার কারণে মহানবীর (সা.) ইন্তেকালের পরও সাহাবায়ে কিরাম (রা.) যেমন হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.) প্রমুখ মহানবীর (সা.) অনুকরণে প্রায়ই মদিনা থেকে মসজিদে কুবায় আসতেন এবং সেখানে নামাজ আদায় করতেন।

কুবার ভিত্তি তাকওয়ার ওপর স্থাপিত

আল্লাহ তায়ালা কোরআনে দুই ধরনের মসজিদের আলোচনা করেছেন। এক. তাকওয়া ও আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর স্থাপিত মসজিদ। যেমন মসজিদে কুবা ও মসজিদে নববি। দুই. মুনাফেকি ও শত্রুতার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত মসজিদ। কোরআনের ভাষায় যাকে আখ্যায়িত করা হয়েছে ‘মসজিদে জেরার’ হিসেবে।

এ দুই ধরনের মসজিদ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ইরশাদ করেন, ‘হে নবী! তুমি তাতে (তথাকথিত মসজিদে জেরার) কখনো নামাজের জন্য দাঁড়াবে না। তবে যে মসজিদের ভিত্তি প্রথম দিন থেকেই তাকওয়ার ওপর স্থাপিত হয়েছে, সেটাই তোমার দাঁড়ানোর বেশি হকদার। তাতে এমন লোক আছে, যারা পাক-পবিত্রতাকে বেশি পছন্দ করে। আল্লাহপাক পবিত্র লোকদের পছন্দ করেন।’

এই আয়াত থেকে কুবাবাসীর পাক-পবিত্রতার দিকটিও ফুটে উঠেছে, তারা বাহ্যিক পবিত্রতা এবং আমল-আখলাকের পবিত্রতার প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়ে থাকে এবং এটাকে পছন্দও করে। আরও এরশাদ করা হয়েছে, ‘সেই ব্যক্তি উত্তম, যে আল্লাহভীতি এবং তাঁর সন্তুষ্টির ওপর নিজ গৃহের ভিত্তি স্থাপন করেছে, না সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তাঁর গৃহের ভিত্তি স্থাপন করে এক খাদের পতনোন্মুখ কিনারায়, ফলে সেটি তাকে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে পতিত হয়? আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না।’

কুবার বিপরীতে মসজিদে জেরার

কুবা মসজিদের বিপরীত পাশে আরও একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। ইসলামের পরিভাষায় ওই মসজিদটিকে ‘মসজিদে জেরার’ বা শত্রু মনোভাবাপন্ন ইমারত হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই মসজিদটির ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘এবং কিছু লোক এমন, যারা মসজিদ নির্মাণ করেছে এই উদ্দেশ্যে যে তারা (মুসলিমদের) ক্ষতি করবে, কুফরি কথাবার্তা বলবে, মোমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে এবং আগে থেকে আল্লাহ ও তার রাসুলের সঙ্গে যে ব্যক্তির যুদ্ধ রয়েছে, তার জন্য একটি ঘাঁটির ব্যবস্থা করবে। তারা অবশ্যই কসম করবে যে আমরা সৎ উদ্দেশ্যেই এটা করেছি। কিন্তু আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তারা নিশ্চিত মিথ্যুক।’

প্রকৃতপক্ষে ওই মসজিদটি ছিল চরম কুচক্রী মুনাফিকদের দুরভিসন্ধিমূলক কাজ। তারা এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের ভিত্তিতে মসজিদের নামে এক ইমারত নির্মাণ করেছিল। জানা যায়, মদিনা মুনাওয়ারার খাজরাজ গোত্রে আবু আমির নামে এক লোক ছিলেন। তিনি খ্রিস্টান হয়ে গিয়েছিলেন এবং সংসারবিমুখ ও বৈরাগ্যের জীবনযাপন করতেন। নবী করিম (সা.)-এর শুভাগমনের আগে মদিনা মুনাওয়ারার মানুষ তাকে খুব ভক্তি-শ্রদ্ধা করত। মদিনা মুনাওয়ারায় আগমনের পর মহানবী (সা.) তাকেও সত্য দ্বীনের দাওয়াত দিলেন। কিন্তু আবু আমির সেই সত্য গ্রহণ না করে উল্টো নবী করিম (সা.)-কে নিজের প্রতিপক্ষ হিসেবে জ্ঞান করলেন এবং সে হিসেবে তার শত্রুতায় বদ্ধপরিকর হয়ে উঠলেন। বদরের যুদ্ধ থেকে শুরু করে হুনায়নের যুদ্ধ পর্যন্ত মক্কার কাফেরদের সঙ্গে মুসলিমদের যত যুদ্ধ হয়েছে, এর সব কটিতেই কাফেরদের সমর্থন ও সহযোগিতা করেছেন আবু আমির।

কিন্তু সর্বশেষ হুনায়নের যুদ্ধেও যখন মুসলিমরা জয়ী হয়, তখন তিনি শাম চলে যান এবং সেখান থেকে মদিনা মুনাওয়ারার মুনাফিকদের চিঠি লিখেন, ‘আমি চেষ্টা করছি, যাতে রোমের বাদশাহ মদিনা মুনাওয়ারায় হামলা চালায় এবং মুসলিমদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়। কিন্তু এর সফলতার জন্য তোমাদেরও কাজ করতে হবে। তোমরা নিজেদের সংগঠিত করো, যাতে আক্রমণ করলে ভেতর থেকে তোমরা তার সহযোগিতা করতে পারো।’

আবু আমির তার অনুসারীদের এই পরামর্শও দিলেন, তারা যেন মসজিদের নামে একটা স্থাপনা তৈরি করে, যা বিদ্রোহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। গোপনে সেখানে অস্ত্রশস্ত্রও মজুদ করা হবে। পারস্পরিক শলাপরামর্শের জন্যও ওই স্থানটিকে ব্যবহার করা হবে।

আবু আমির অনুসারীদের বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে কোনো দূত গেলে তাকেও সেখানেই (মসজিদে জেরার) থাকতে দেবে।’

আবু আমিরের পরামর্শে তাই মুনাফিকরা কুবা এলাকায় একটি ইমারত তৈরি করল। ইমারত নির্মাণের পর তারা নবী করিম (সা.)-এর কাছে আরজ করল, ‘আমাদের মধ্যে বহু কমজোর লোক আছে। কুবার মসজিদ তাদের পক্ষে দূর হয়ে যায়। তাই তাদের সুবিধার্থে আমরা এই মসজিদটি নির্মাণ করেছি। আপনি কোনো একসময় এসে এখানে নামাজ পড়ুন, যাতে আমরা বরকত লাভ করতে পারি।’

নবী করিম (সা.) তখন তাবুক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি বললেন, ‘এখন তো আমি তাবুক যাচ্ছি। ফেরার পথে আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা হলে আমি সেখানে গিয়ে নামাজ পড়ব।’ কিন্তু তাবুক থেকে ফেরার সময় তিনি যখন মদিনা মুনাওয়ারার কাছাকাছি পৌঁছালেন, তখন ‘যু-আওয়ান’ নামক স্থানে এক আয়াত নাজিল হয় এবং এর দ্বারা তাঁর সামনে তথাকথিত ওই মসজিদের মুখোশ খুলে দেওয়া হয়। আর তাঁকে নিষেধ করে দেওয়া হয়, যেন তাতে নামাজ না পড়েন। তিনি তখনই মালিক ইবনে দুখশুম ও মা’ন ইবনে আদি (রা.) আনহুমা এ দুই সাহাবিকে মসজিদ নামের ওই ঘাঁটিটি ধ্বংস করার জন্য পাঠিয়ে দিলেন। আদেশ পেয়ে সাহাবিরা গিয়ে সেটি জ্বালিয়ে ভস্ম করে দিলেন।

সুরা তাওবা, ১১০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ এরশাদ করেন, ‘তারা যে ইমারত তৈরি করেছিল, তা তাদের অন্তরে নিরন্তর সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকবে, যে পর্যন্ত না তাদের অন্তর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আল্লাহ পরিপূর্ণ জ্ঞানের অধিকারী, পরিপূর্ণ হিকমতের অধিকারী।’ আয়াতে উল্লিখিত মসজিদের স্বরূপ উন্মোচন করা হয়েছে। তাই এখানে সেটিকে ইমারত বলা হয়েছে, মসজিদ বলা হয়নি। কেননা বাস্তবে সেটি মসজিদই ছিল না। তার প্রতিষ্ঠাতারা মূলত কাফের ছিল এবং প্রতিষ্ঠাও করেছিল ইসলামের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে। এ কারণেই সেটিকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো মুসলিম মসজিদ নির্মাণ করলে তা জ্বালানো জায়েজ নেই। ওই আয়াতে বলা হয়েছে, ‘ইমারতটি তাদের অন্তরে নিরন্তর সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকবে।’ এর অর্থ, সেটি ভস্মীভূত করার ফলে মুনাফিকদের কাছেও এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে, তাদের ষড়যন্ত্রের বিষয়টা মুসলিমদের কাছে ফাঁস হয়ে গেছে।

সুতরাং, তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সর্বদা সন্দেহে নিপতিত থাকবে এই কথা ভেবে যে, না জানি মুসলিমরা তাদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করে। তাদের এই সংশয়জনিত অবস্থার অবসান শুধু সে সময়ই হবে, যখন তাদের অন্তর ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে, অর্থাৎ মৃত্যু ঘটবে।