বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

একদিনেই ৪০ পুলিশ করোনায় আক্রান্ত

করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৩৯২ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশেরই ৪০ জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন, এমন এক হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্যকে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে (সঙ্গরোধ) পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর এবং ডিএমপি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশ সদস্যরা যে হারে করোনায় সংক্রমিত হচ্ছে তা উদ্বেগজনক। সামনে মাঠ পর্যায়ে পুলিশকে করোনার আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে। পেশাজীবীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত একক হিসাবে পুলিশেই আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আর যেসব পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অনেকেই তরুণ ও অবিবাহিত।

বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য সংখ্যা দুই লাখের বেশি। পুলিশের কর্মকর্তা ছাড়া অনেক পুলিশ সদস্যই অবস্থান করেন ব্যারাকে বা জেলাগুলোর পুলিশ লাইনসে। এসব জায়গায় একটি কক্ষে ১২ থেকে ১৫ জন করে সদস্য থাকেন। সেখানে একজন থেকেই অনেকের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই মাঠ পর্যায়ে নানা ধরনের দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ। রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছানো থেকে শুরু করে মানুষের সঙ্গরোধ নিশ্চিত করা, করোনা আক্রান্ত অলি-গলিতে টহল ডিউটি, রাস্তায় জীবাণুনাশক ছিটানো, ত্রাণ বিতরণ, ত্রাণ বিতরণে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা, আক্রান্ত রোগীর দাফনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হচ্ছে। তাই পুলিশের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকবেই।

জানতে চাইলে নাম না প্রকাশের অনিচ্ছুক ডিএমপির দুজন এডিসি জানান, প্রথম দিকে মাঠ পর্যায়ে যেসব পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন তাদের ন্যূনতম সুরক্ষার ব্যবস্থা করা যায়নি। এমনকি একটি থানায় মাত্র পাঁচটি পিপিই দেওয়া হয়েছে। এভাবে চললে পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হবেন এটাই স্বাভাবিক।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সার্বিক দিকনির্দেশনা ও করোনা মোকাবিলায় নিজেদের করণীয় সম্পর্কে নিয়মিত ব্রিফ করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ।

বেনজির আহমেদ বলেন, রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালসহ পুলিশের অন্যান্য হাসপাতালগুলোতে করোনা সংক্রান্ত চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, বিভাগীয় পর্যায়েও নেয়া হয়েছে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা। করোনায় আক্রান্ত পুলিশের যেকোনো সদস্যের সুচিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যাপ্ত আয়োজন রাখা হয়েছে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে যারা আত্মনিয়োগ করেছেন তাদের প্রতি এ দেশের মানুষেরও অকুণ্ঠ ভালবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে।

সুরক্ষার বিষয়ে আইজিপি বলেন, দায়িত্বপালনরত সকল পুলিশ সদস্যের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সুরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা বিভিন্ন ইউনিটেও পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে ডিএমপির করোনা পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশের যে সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছেন, তারা সবাই বাইরে দায়িত্ব পালনে ছিলেন। অসাবধানতাবশত মানুষের কাছাকাছি চলে যাওয়ায় এমন সংক্রমণ হওয়ার ঘটনা ঘটছে। আমাদের আরও সতর্ক ভাবে কাজ করতে হবে। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে যারা মিশেছেন তাদের সঙ্গরোধে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩ জন মারা গেছেন। একই সময়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ৫৪৯ জন।

লাইটনিউজ/এসআই