বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

ভারতে করোনায় মৃত্যুহার ‘কমের’ রহস্য

লাইট নিউজ ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) দাপট, প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে। তবে ভারতে এই চিত্র ভিন্ন। দেশটির সরকারি যে হিসাব সে অনুযায়ী ভারতের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশে আক্রান্তের বিপরীতে মৃত্যুহার অনেক কম।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতে মৃত্যুহার কমের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এর অন্যতম হলো, ভারতজুড়ে প্রায় একমাস ধরে লকডাউন চলছে। গত ২৪ মার্চ থেকে ভারতের ২৮টি রাজ্য এবং ৯টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে এই লকডাউনের আওতায় আনা হয়। তারা বলছেন, সময়মতো লকডাউনই ভারতে করোনায় মৃত্যুহার কমের অন্যতম কারণ।

আবার অনেকে বলছেন, ভারতের তরুণেরা প্রাণহানিকে কম রাখতে সহায়তা করছে। কেননা করোনায় বয়স্ক ব্যক্তিদের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। কেউ কেউ দেশটির উষ্ণ আবহাওয়ার কথাও বলছেন। তারা বলছেন, উষ্ণ আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ভারতে কম। তবে উষ্ণ আর্দ্র আবহাওয়ায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ কম- এই ধারণার এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ বিজ্ঞানীরা দিতে পারেননি।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৮৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে কভিড-১৯। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৫৩৭ জনের এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ লাখ ৬৪ হাজার ২৫৫ জনে। ভারতে এখন পর্যন্ত মোট ২৯ হাজার ৪৩৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং মোট মৃত্যু হয়েছে ৯৩৪ জনের। আর এখনও পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৮৬৯ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন।

বিশ্বে যখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত আর মৃতের হার তখন ভারতের এই কম আক্রান্ত ও মৃত্যুহার নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ যেখানে মৃতের সংখ্যায় লাগাম টানতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে ভারতে এ সংখ্যা অবাক করার মতো। তবে এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা এও বলছেন, ভারতে করোনার পর্যাপ্ত পরীক্ষা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ভারতীয়-আমেরিকান চিকিৎসক এবং ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মৃত্যুহার কম হওয়ার বিষয়টি একটি রহস্য। আমি বলব রহস্যের একটি অংশ হলো আমরা পর্যাপ্ত পরীক্ষা করছি না। যদি আমরা আরও পরীক্ষা করতে পারতাম তাহলে সঠিক উত্তরটি জানতে পারতাম। করোনায় মৃত্যুহার ভারত সরকার গোপন করছে বলেও ধারণা করছেন অনেকে।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অনেকেই করোনায় মারা যাচ্ছেন, তাদের তথ্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে আসছে না- এমনটাই মনে করছেন সমালোচকরা। তাদের দাবি, এ কারণেই ভারতে কভিড-১৯ রোগে মৃত্যুহার পশ্চিমের দেশগুলোর তুলনায় এত কম।

এ বিষয়ে টরেন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্রভাত ঝা বলেছেন, ভারতে এখনও শতকরা ৮০ ভাগ  লোক বাড়িতে মারা যান। তারা ম্যালেরিয়া, নিউমোনিয়ার মতো রোগে ভোগেন। অনেকেই করোনার লক্ষণ নিয়ে মারা যাচ্ছেন। তবে  হাসপাতালে না আসার কারণে এবং টেস্ট না করার কারণে ভারতে করোনায় মৃত্যুর সঠিক হারটা জানা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এছাড়া তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে ভারতজুড়ে মানুষের মৃত্যুর বড় একটি কারণ সড়ক ও রেল দুর্ঘটনা, মাদক গ্রহণ ও হৃদরোগে। এই ধরনের মৃত্যুর রেকর্ড হাসপাতালে থাকে। তবে এখন লকডাউনে সড়ক ও রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় দুর্ঘটনা কমেছে। কমেছে মৃত্যুর সংখ্যাও।

অধ্যাপক প্রভাত ঝা বলেন, জনগণ যেন আতঙ্কিত হয়ে না পড়ে তার জন্য অনেক দেশের সরকারই মৃত্যুর সংখ্যাটি কমিয়ে বলে। তবে কেউই মৃত্যুর সংখ্যাটি ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে বলে না। কারণ ব্যাপক মৃত্যুর বিষয়টি কোনো দেশই গোপন রাখতে পারে না। সূত্র: বিবিসি

লাইট নিউজ ডেস্ক