বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

করোনা উপসর্গে কীভাবে নিজের অক্সিজেন লেভেল পরীক্ষা করবেন

লাইট নিউজ ডেস্ক : বিশ্বব্যাপী এক আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। মরণঘাতী এ ভাইরাসে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। কবে থামবে এই মহামারি তা কারোই জানা নেই। ভাইরাসটিতে আক্রান্তদের মধ্যে মৃতের পরিমাণ ৪ শতাংশের বেশি। তবে আশার কথা হচ্ছে আক্রান্তদের অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

ভাইরাসটির মূল লক্ষণগুলো হলো; জ্বর, সর্দি, শুকনো কাশি ও শ্বাসকষ্ট। বিশেষজ্ঞরা এগুলোকেই প্রধান উপসর্গ বলে আখ্যায়িত করছেন। তবে দিনে দিনে উপসর্গেও পরিবর্তন আসছে। অনেকের আবার উপসর্গ ছাড়াও কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া চিকিৎসা ছাড়াও বাড়িতে সঙ্গরোধে থেকে সুস্থ হচ্ছেন অনেকে।

যদি আপনার শরীরে করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ দেখা যায়, তাহলে কীভাবে বুঝবেন আপনি আক্রান্ত এবং আপনাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এমনি সব তথ্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম গার্ডিয়ান। যা  পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

করোনা ভাইরাসের সমস্ত উপসর্গ একসঙ্গে দেখা যায় না। ভাইরাসটির উপসর্গ ধীরে ধীরে মানব শরীরে প্রকাশ পায়। সাধারণত প্রথম দিকে শরীরে ঘাম, ব্যথা, কাশি ও ক্লান্তি দেখা যায়।

এ নিয়ে করোনা আক্রান্ত মাইকেল নামে ২৭ বছর বয়সের এক যুবক বলেন, প্রথমদিকে আমার সাধারণ ফ্লু’র মতো মনে হল। কিন্তু ধীরে ধীরে আমার অবস্থা খারাপের দিকে গেল। আমার শরীরে প্রচুর পরিমাণে ক্লান্তি দেখা দেয়। এমনকি মনে হত আমার বুকের ওপর কোনো ছোট শিশু বসে আছে। যার ফলে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হতে লাগলো। আমি হাঁটতে পারতাম না। আমি বয়স্কদের মতো হাঁটছিলাম। এমনকি তার থেকেও ধীরগতিতে আমি হাঁটতে পারতাম।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আক্রান্তের তৃতীয় সপ্তাহে আমি রয়েছি। এখন আমি অনুভব করছি আমার অবস্থা আগের থেকে কিছুটা ভালো। এ সময়টা আমার কাছে একটি কালো অধ্যায়ের মতো।

মাইকেলের বিষয়ে গার্ডিয়ানকে স্বাস্থ্য বিষয়ক সাংবাদিক ডা. এন রবিনসন বলেন, তাকে সঠিকভাবে গাইড দেওয়া উচিত। এটা সত্য যে ভাইরাসটির জটিলতা এবং পরিণতিগুলো এখনো উদঘাটিত করা যায়নি। আমার মতে, সংকটের শুরুতেই চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে ও তাদের নিয়মাদি মেনে চলতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এখানে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো এটি নিউমোনিয়ার মতো। যখন কারও নিউমোনিয়া হয় তখন ফুসফুসে ছোট বাতাসের থলির কোনো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা খিটখিটে কণা দ্বারা স্ফীত হয়ে তরলে ভরে যায়, ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ফুসফুসে খুব অল্প অক্সিজেন রক্তে প্রবাহিত করতে পারে যাকে চিকিৎসার ভাষায় হাইপোক্সিয়া বলা হয়। স্থায়ী হাইপোক্সিয়া দেহের বিভিন্ন অঙ্গ কার্যক্ষমতা শেষ করে দেয় ও কোষের মৃত্যু ঘটায়। আর এ জন্যই ভেন্টিলেশনের মাধ্যমে অক্সিজেন দিতে হয়।

স্বাস্থ্য বিষয়ক এ সাংবাদিক বলেন, ফলে মানুষের বুকে সংক্রমণটি বড় হতে থাকে ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা বাড়াতে থাকে। আর এতে নিউমোসাইটস নামে পরিচিত যা অক্সিজেন গ্রহণ করে সেই অ্যালেভোলিটিকে ছেড়ে দেয়। এতে অবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। এ সময় আক্রান্তের তাপমাত্রা ৩৭.৮ সেলসিয়াস, পালস রেট প্রতি মিনিটে ১০০ এর উপরে উঠে যায় ও রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। বুকের এক্সরে ও সিটি স্ক্যান করলে এমনটা দেখা যেতে পারে। তবে এগুলো সম্পূর্ণ নির্ভরযোগ্য নয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আপনার উদ্বিগ্নতা, জ্বর ও ক্যাফিন পান করার ফলে আপনার পালস রেট বেড়ে যেতে পারে।

রবিনসন বলেন, তবে ঘরে বসেই আপনি আপনার দেহের অক্সিজেন রেট পরিমাপ করতে পারবেন। এমনকি চারপাশে অক্সিজেনের পরিমাণ কত তাও পরিমাপ করা যায়। এর জন্য প্রয়োজন শুধুমাত্র পালস অক্সিমিটার। পালস অক্সিমিটার আঙুলে লাগানো হলে ডিভাইসের অভ্যন্তরে একটি এলইডি দ্বারা দুটি তরঙ্গদৈর্ঘ্য লাইট নির্গত হয়। নখদর্পণে যে আলো প্রবেশ করে তা পরিমাপ করা হয় এবং রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ জানা যায়। এমনকি এতে হার্টের পালসও প্রদর্শন করে।

তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বা যাদের উপসর্গ রয়েছে তাদের জন্য পালস অক্সিমিটার অত্যন্ত জরুরি। এতে কার হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে, কার অক্সিজেন থেরাপির দরকার ও কাকে আইসিউতে নিতে হবে ও ভেন্টিলেশনে রাখতে হবে তা সহজেই জানা যায়। তবে হাত যদি ঠাণ্ডা বেশি থাকে তাহলে অক্সিমিটার সঠিকভাবে কাজ করে না। তবে কোনো ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হয় তবে তার উচিত জরুরি পরিষেবায় ফোন দেওয়া। যদি হার্টবিট প্রতি মিনিটে ৯০ এর নিচে এবং প্রতি মিনিটে শ্বাস-প্রশ্বাসের পরিমাণ ২০ এর নিচে হয় তাহলে অতিসত্বর হাসপাতালে যাওয়া উচিত।

লাইটনিউজ