বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

ফুটবল কিংবদন্তি চুনী গোস্বামী আর নেই

 

এক মাস হয়েছে কিংবদন্তি ফুটবলার ও কোচ পিকে ব্যানার্জি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। এবার পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন আরেক ফুটবল লিজেন্ড চুনী গোস্বামী।

অনেক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন চুনী গোস্বামী। দীর্ঘ লড়াই শেষে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল পাঁচটায় বেসরকারি এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ভারতীয় ফুটবলের এই উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।

বৃহস্পতিবার যোধপুর পার্কের ফ্ল্যাটেই ছিলেন চুনী গোস্বামী। দুপরে দুবার হার্ট অ্যাটাক হয় তার। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এই ফুটবল কিংবদন্তিকে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিকেল পাঁচটায় ফের হার্ট অ্যাটাক হয়। এরপরই চির শান্তির ঘুমে চলে যান তিনি।

চুনী গোস্বামীর মৃত্যুতে তার স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে শোকাহত দেশটির পুরো ফুটবলাঙ্গন। শুধু ফুটবলার ছিলেন না তিনি। ক্রিকেটার হিসেবেও ছিলেন নিপুণ। এক সময় বাংলার হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট মাঠও দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। রঞ্জি ট্রফির দলে ডাকও পেয়ে ছিলেন। কিন্তু ফুটবলের প্রতি তার টান যেন একটু বেশিই ছিল।

গত ২০ মার্চ পরলোকে পাড়ি জমান ফুটবল ব্যক্তিত্ব পিকে ব্যানার্জি। প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন চুনী গোস্বামী। করোনাভাইরাসের দাপটের কারণে শেষ দেখাও হয়নি প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে। সেই কারণে আত্মার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার তাড়া যেন একটু বেশি ছিল তার। তাই তো ঠিক এক মাস পর চলে গেলেন তিনিও। পরলোক থেকেই হয়তো দুই বন্ধু মিলে এখন নজর রাখবেন দেশের ফুটবলে।

বর্তমান বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জে সেই ১৯৩৮ সালে জন্ম চুনী গোস্বামীর। ২৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক। জাতীয় ফুটবল দলের তারকা ছিলেন এই বাঙালি ক্রীড়াবিদ। তারই নেতৃত্বে ১৯৬২ সালে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে ভারতীয় ফুটবল দল এবং ১৯৬৪ সালে হয় রানার-আপ। এরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবল ছেড়ে দেন তিনি। ভারতের জার্সি গায়ে প্রায় ৫০টির ওপর ম‍্যাচ খেলেছিলেন এই কিংবদন্তি।

শুধু ফুটবলেই নয়, ক্রিকেটেও সমানভাবে দক্ষ চুনী। ১৯৭১-৭২ সালে বেঙ্গল রঞ্জি ট্রফির অধিনায়ক হন তিনি। তার নেতৃত্বেই রঞ্জি ট্রফিতে ফাইনালে উঠে বাংলা।