বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

লকডাউনে মুম্বাইয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ছে ফ্লেমিঙ্গো

 

করোনায় লকডাউনের কারণে মানুষ এখন অনেকটাই ঘরবন্দী। চারদিকের অবস্থা দেখে মনে হয়, যেন প্রকৃতি একটু বিশ্রাম নিয়ে নিচ্ছে। আর সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করছে কিছু পশু পাখির দল। ভারতের ব্যস্ত মেট্রো শহরে এখন দেখা মিলছে চিতল হরিণ বা নীলগাইয়ের। পশু পাখিদের এমন অবাধ বিচরণই বলে দেয় এরা মানুষের দ্বারা কতটা অত্যাচারিত। তাই মানুষের যাতায়াত যখন নেই, এরা নিজের মতন করে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তেমনি সম্প্রতি ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের রাজধানী মুম্বাইয়ে দেখা মেলে এক ঝাঁক গোলাপি পাখি (ফ্লেমিঙ্গো) উড়ে বেড়াচ্ছে । যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। দেশের জনবহুল এই শহরে উচ্চ মাত্রার দূষণের কারণে এই ঘটনাটি অবশ্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়।

তবে বম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটি (বিএনএইচএস) এর সহকারী পরিচালক রাহুল খোট বলেন, সাধারণত ফ্লেমিঙ্গোগুলো বছরের সেপ্টেম্বর থেকে মে মাসের শেষ পর্যন্ত খাদ্য সংগ্রহের জন্য এই অঞ্চলে আসে। তবে লকডাউনের কারণে মানুষ ঘরবন্দী থাকায় এবার পাখিগুলোর অবাধ বিচরণ লক্ষ করা যাচ্ছে।

গত বছর এই অঞ্চলে রেকর্ড ১ লাখ ৩৪ হাজার ফ্লেমিঙ্গো গণনা করা হয়েছিল, তবে খোট বিশ্বাস করেন যে এই বছর নতুন রেকর্ড তৈরি হবে। বিএনএইচএস ২৫ মার্চ চালু হওয়া ভারতে লকডাউন হওয়ার আগেই ১ লাখ ২৫ হাজার গোলাপি পাখি গণনা করেছে, খোট বলেন যে মে মাসের শেষের দিকে পূর্ববর্তী রেকর্ডকে যা ছাড়িয়ে যাবে।

খোট যোগ করেন গোলাপি পাখিগুলো জলাভূমিতে ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে তারা আগে বিরল ছিল।

তিনি বলেন, গোলাপি পাখিদের এখন এমন সব জায়গায় দেখা যাচ্ছে যেখানে মানুষের উপস্থিতির কারণে তাদের দেখা যেতো না। লকডাউনের কারণে এখন এই মুম্বাই শহরে মানুষের উপস্থিতি কম, পরিবেশের ওপর মানুষের প্রভাব কমে যাওয়ায় এদের এখন দেখা মিলছে। তাই এর গুরুত্ব আমাদের এখন বুঝতে হবে বলে রাহুল খোট জানান।

ফ্লেমিঙ্গো নামকরণ করা হয়েছে এদের গোলাপি পালকের জন্য। পাখিটির গলা সরু, সরু লম্বা ঠোঁট তবে নিম্নমূখী। ছোট গলা লম্বা এবং বক্রাকার। বছরের নির্দিষ্ট সময়ে এদের সারা শরীরের গোলাপি রং ধারণ করে। এরা সমুদ্রের ধারে দলবদ্ধভাবে থাকতে ভালোবাসে।

লাইট নিউজ