বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

করোনার কিট তৈরি করতে চায় ঢাবি

করোনাভাইরাস টেস্টের কিট তৈরির সক্ষমতা রয়েছে বলে দেড় মাস আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। নিজেদের প্রতিষ্ঠানে দেশসেরা মাইক্রোবায়োলজিস্ট, বায়োটেকনোলজিস্ট, বায়োকেমিস্ট, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, চিঠি দেওয়ার এতদিন পেরিয়ে গেলেও কোনও সাড়া পাননি তারা। অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, নিজস্ব গবেষণায় কিট তৈরি করতে চাইলে অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। কিট তৈরির জন্য প্রাথমিক সম্মতির দরকার হয় না।

তবে ইতোমধ্যে করোনার নমুনা পরীক্ষা করার অনুমতি পেয়েছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে মঙ্গলবার (৫ মে) টেস্টিং ল্যাব উদ্বোধন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। সরকারের পক্ষ থেকে যেদিন নমুনা সরবরাহ করা হবে সেদিন থেকেই পরীক্ষা শুরু হবে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনিক্যাল কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

কিট তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, কিট তৈরির বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আমাদের কিছুই জানায়নি। তবে এটির সঙ্গে ফিন্যান্সিয়াল বিষয়ও জড়িত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের ৫০ লাখ টাকার মতো লাগতে পারে। আমাদের কম খরচে বেশি পরিমাণ কিট তৈরি করার সক্ষমতা রয়েছে। খরচ ক্রমান্বয়ে আরও কমতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সেরা সেরা বায়োটেকনোলজিস্ট, বায়োকেমিস্ট, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার রয়েছে। তারপরও আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনিক্যাল কমিটিকে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দিতে বলেছি, যা ভবিষ্যতে কাজে আসবে। এসব কাজে যে বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় তা এর ফলের চেয়ে বেশি না। এর ফলটাই অনেক বড়।

উপাচার্য বলেন, আরেকটা জিনিস হলো জিনোম সিকোয়েন্সিং৷ যেটা খতিয়ে দেখা খুব বেশি প্রয়োজন। জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে দেখা যে, ভাইরাসটা কন্টেক্স ভেদে সিনটোম পরিবর্তন করে কিনা। এটি এক একটি এথনিক গ্রুপ এবং ভৌগোলিক অঞ্চলে সিনটোম ভিন্ন ভিন্ন হয়। যা গবেষণা করার বিষয়। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের জ্ঞান এবং বিশেষজ্ঞদের জ্ঞানে সমন্বয় করা প্রয়োজন।

এর আগে গত ২৯ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে টেকনিক্যাল কমিটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়ে করোনা পরীক্ষা এবং কিট তৈরির সক্ষমতার কথা জানান। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও এর কোনও জবাব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আসেনি। এক মাস পরে চিঠির উত্তর দিয়ে শুধু করোনা টেস্টিংয়ের কথা জানানো হয়৷ কিন্তু কিট তৈরির বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকনিক্যাল কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, কেউ কিট তৈরি করতে চাইলে তারা তো করতেই পারে। কেউ গবেষণা করে তা কোর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করাতে হবে। এরপর ওষুধ প্রশাসনে জমা দিতে হবে। কয়েকটি ধাপে এগুলো করতে হয়, সেটা সরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও।

সম্মতির বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, নিজস্ব গবেষণায় কিট তৈরি করতে অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। কিট তৈরির জন্য প্রাথমিক সম্মতির দরকার নেই। তৈরির পর কয়েকটি ধাপে অনুমোদন লাগবে। একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করাতে পারে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর যদি ব্যাপকভাবে তারা করতে চায় সেক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহায়তা দেবে।

লাইটনিউজ/এসআই