বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্যবাহী আজিমপুর কবরস্থান

 

রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে বড় কবরস্থানের মধ্যে একটি হচ্ছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী আজিমপুর কবরস্থান। ৭৪ দশমিক ৪২ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এ কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দেশের অসংখ্য নামি-দামি ব্যক্তিবর্গ। সম্প্রতি সংস্কারের ফলে পুরো কবরস্থানটি আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে কবরস্থানটি সংস্কার করা হয়। এতে পুরনো দৃশ্যপট একেবারেই বদলে গেছে। অনন্য নির্মাণ শৈলীর কারণে পেয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। পথচারীরা ফুটপাত দিয়ে যাওয়ার সময় প্রিয়জনদের কবরের দিকে তাকিয়ে থাকছেন।

আধুনিক এই কবরস্থানটিতে রয়েছে এক হাজার ৬০০ মিটার দৃশ্যমান সীমানার দেয়াল। উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ৩২০ মিটার সীমানাজুড়ে রয়েছে কাচের দেয়াল। প্রতি দুই সারি কবরের পরপর একটি করে চার ফুট চওড়াসহ মোট ১৬৮টি লম্বা হাঁটাপথ রয়েছে। এগুলো বিশেষ ঢালাইয়ের মাধ্যমে পাকা করা। রয়েছে পানি নিষ্কাশনের ড্রেন। এর ফলে মুষলধারে বৃষ্টি হলেও পানি জমবে না। হাঁটার পথগুলোতে দাঁড়িয়েই প্রার্থনা করা যায়।

এ ছাড়া নান্দনিক এ কবরস্থানে দুটি প্রবেশ ফটক রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই চোখে পড়বে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও সবুজ গাছের সবুজায়ন। সেখানে পর্যাপ্ত অজুখানা, মরদেহের গোসল ও জানাজার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রতিটি কবরের নম্বর নির্ধারণ এবং পুরো এলাকাটি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।

জানা যায়, মোট ৪৮ কোটি ৯৯ লাখ ৪১ হাজার ১৭১ টাকা ব্যয়ে আজিমপুর কবরস্থানের আধুনিকায়নের কাজ হাতে নেয়া হয়। ডিজাইন করেছে বিশিষ্ট স্থপতি রফিক আজমের তত্ত্বাবধানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ইঞ্জিনিয়ার বিভাগ।

এ বিষয়ে ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকায় কেউ মারা গেলে অধিকাংশেরই দাফন এখানে হয়। কিন্তু প্রিয়জনকে কবর দিতে এসে মানুষ ভালো পরিবেশ পায় না। তাই ঐতিহ্যবাহী কবরস্থানটি আধুনিকায়ন করা হয়েছে। যেন স্বাচ্ছন্দ্যে এবং নির্মল পরিবেশে সবাই প্রিয়জনের কবর জিয়ারত করতে পারেন।

লাইট নিউজ