বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

রমজান জুড়ে খাদ্যাভ্যাসে রাখুন সাগুদানা

 

সাগুদানা সাধারণত শিশুদের খাবার হিসেবেই বেশি প্রচলিত। তবে বিভিন্ন ধরনের নাশতা ও মিষ্টান্ন তৈরিতেও ব্যবহার করা হয় সাগু। ক্যাসাভা রুট থেকে তৈরি করা হয় সাগু। ফলে এতে কার্বোহাইড্রেটসহ আরও পাওয়া যাবে আঁশ, চিনি, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, সিংক, ফলেট, থায়ামিন, ভিটামিন-বি৬।

উপকারী এই খাদ্য উপাদানটি ইফতারে বিভিন্ন খাবারের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে সহজেই রাখা যায়। পরিচিত ও সাদামাটা এই খাবারটি থেকেও পাওয়া যাবে বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা।

শারীরিক শক্তির উৎস
সাগুর সবচেয়ে বড় ও প্রধান উপকারিতাটি হল, এটা গ্রহণে শরীরে পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় শক্তি পাওয়া সম্ভব হয়। ১০০ গ্রাম সাগু থেকেই পাওয়া যাবে ৮৮.৬৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, যা শরীরে এনার্জি হিসেবে কাজ করে।

হাড়কে সুস্থ রাখে
স্বল্প পরিমাণে হলেও সাগু থেকে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রন। এই তিনটি মিনারেলই হাড়ের গঠন, হাড়ের ঘনত্ব ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। রমজানে বৃদ্ধদের প্রতিদিনের শরবত কিংবা দুধের সাথে মিশিয়ে সাগু খাওয়ার অভ্যাসটি উপকারে আসবে।

রক্তচাপ কমায়
সাগুদানায় থেকে পাওয়া যাবে বেশ ভালো পরিমাণ পটাশিয়াম, প্রতি ১০০ গ্রাম সাগুতে ১১ মিলিগ্রাম। এদিকে রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পটাশিয়াম প্রয়োজনীয় মিনারেল। সেক্ষেত্রে প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণ সাগু খেলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব হবে।

খাদ্য পরিপাকে উন্নতি ঘটায়
পেটের সমস্যা দেখা দিলেই শিশুদের সাগু খাওয়ানো হয়। কারণ সাগু গ্যাসের সমস্যা, পেট ফাঁপাভাব, বদহজম ও কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যা কমায়। মূলত এতে থাকা আঁশ, প্রোটিন, ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট মেটাবলিজমকে ত্বরান্বিত করে পরিপাকক্রিয়াকে চালু ও সুস্থ রাখে। এছাড়া পাকস্থলিস্থ ভালো ব্যাকটেরিয়ার মাত্রাও বৃদ্ধি করে সাগু।

হৃদযন্ত্র বান্ধব
সাগুর সবচেয়ে ভালো দিকটি হল, এতে একেবারে কোন কোলেস্টেরল নেই। তাই যাদের হাই কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে সাগু খেতে তাদের কোন বাধা নেই। শূন্য কোলেস্টেরল যুক্ত সাগুকে এ কারণে বলা হচ্ছে হৃদযন্ত্র বান্ধব খাবার। এছাড়া রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখায় সাহায্য করে বলেও তা হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

ওজন বৃদ্ধিতে অবদান রাখে
কোন খাবার গ্রহণে ওজন কমবে, এটা নিয়েই কথা বলা হয় সবসময়। কিন্তু কোন উপকারী খাবার ওজন ইতিবাচকভাবে ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে সেটা নিয়ে খুব একটা কথা বলা হয় না। পর্যাপ্ত ক্যালোরি ও কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ এই খাবারটি শরীরকে তার প্রয়োজনীয় এনার্জি দেওয়ার পাশাপাশি ওজন বাড়াতেও কাজ করবে। যারা আন্ডারওয়েট এবং ওজন বাড়াতে চাচ্ছেন, তারা প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে সাগু রাখতে পারেন।

লাইট নিউজ