বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

এবার ঈদে বন্ধ থাকতে পারে ট্রেন চলাচল

স্টাফ রিপোর্টার : যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনায় ১৪ দফা নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। কিন্তু সেই বিধি মেনে ট্রেন চালানো কতটা সম্ভব হবে এটা নিয়ে সন্দিহান রেল কর্মকর্তারাই। টিকিট বিক্রি থেকে ট্রেন পরিচালনা পর্যন্ত যত ধরনের নিরাপত্তার কথা বলা হয়েছে সেগুলো রেলের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হলেও যাত্রীরা কতটুকু মানবেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।

টিকিট অনলাইনে বিক্রি করলেও আগের মতই ভিড় পরিলক্ষিত হবে স্টেশনগুলোতে ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে। তাছাড়া প্রতি কোচে যে পরিমাণ যাত্রী ধরে সেই পরিমাণ টিকিট বিক্রি করলে সেখানে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলচলা সম্ভব না। ফলে প্রতি ট্রেনে সীমিত টিকিট বিক্রির মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা চিন্তা করা হলেও পরিবহণ কর্মকর্তারা বলছেন ট্রেনে ওঠা ও সিটে বসার ক্ষেত্রে যাত্রীদের কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। আবার টিকিট স্বল্প করে দিলে টিকিটের জন্য স্টেশনে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

এতো সব চিন্তা মাথায় রেখে ট্রেন চালানোর ব্যাপারে প্রস্তুতি নিচ্ছে রেলওয়ে জানিয়ে মহাপরিচালক শামসুজ্জামান বলেন, এমন অবস্থায় যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর কথাবার্তা হলেও এখন পর্যন্ত আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে নির্দেশনা পেলে করোনা প্রতিরোধে সব ধরনের গাইডলাইন মেনে ট্রেন পরিচালনা করতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। সে ক্ষেত্রে সাধারণ যাত্রীরা কতটুকু সামাজিক দূরত্ব পালন করে ট্রেনে ভ্রমণ করবেন- তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

তবে শোনা যাচ্ছে, এবারের ঈদ স্ব স্ব জায়গায় থেকে পালনের নির্দেশ আসছে। সে ক্ষেত্রে ঈদ উপলক্ষেও ট্রেন পরিচালনা করার কোনো যুক্তি নেই। ঈদের সময়ে স্টেশন ও ট্রেনগুলোতে যে ভিড় হয়, তা কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

২৫ মার্চ থেকে দেশে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুধু স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে নয়- ব্রিটিশ আমলেও যাত্রীবাহী ট্রেন এভাবে বন্ধ ছিল না।

যুগ যুগ ধরে ঈদ উপলক্ষে নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিশেষ ট্রেনও (ঈদ স্পেশাল) চলে আসছে। এবার তার ব্যতিক্রম হতে পারে। আসছে ঈদুল ফিতরে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকতে পারে বলে ইংগিত দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। মালবাহী ও পার্সেল ট্রেন চললেও আশানুরূপ মালামাল পাওয়া যাচ্ছে না।

৩৫৯টি যাত্রীবাহী ট্রেনের মধ্যে ৯৪টি ট্রেন আন্তঃনগর। আন্তঃনগর ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে দেয়া হয়। আন্তঃনগরের বাকি ৫০ শতাংশ টিকিট এবং ২৬৫টি লোকাল, মেইল ও কমিউটার ট্রেনের শতভাগ টিকিট স্টেশন থেকে দেয়া হয়। এতে টিকিট কাউন্টারে টিকিট প্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড় হবে। সেখানে সামাজিক দূরত্ব কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তা প্রশ্ন সাপেক্ষ এমন যুক্তি দিচ্ছেন পরিবহন বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা।

তবে সরকারি সিদ্ধান্ত পেলে ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলওয়ে অপারেশন দফতর থেকে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে রেল সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে- ট্রেন চালানোর নির্দেশনা এলে, নির্ধারিত টিকিটের অর্ধেক টিকিট বিক্রি করা হবে।

অর্থাৎ একটি কোচে ৬০ টিকিট থাকলে- ৩০টি বিক্রি করে, একটি সিট খালি রেখে রেখে যাত্রী বসানো হবে। মেইল-লোকাল ও কমিউটার ট্রেনের শতভাগ টিকিট স্টেশনেই বিক্রি করা হয়। ফলে এসব ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রাথমিক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

লাইটনিউজ