বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

মার্কেটে সামাজিক দূরত্ব মানতে চায় না ক্রেতারা

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান, মার্কেট এবং শপিং মল সীমিত আকারে খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। এছাড়া রাজধানীতে ১৪টি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয় শপিং মলে বাস্তবায়ন করা গেলেও এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না মার্কেটে। দোকানের সামনের জায়গার পরিধি ছোট হওয়ায় অনিচ্ছাকৃতভাবেই ক্রেতা-বিক্রেতা একে অপরের কাছাকাছি চলে আসছেন। জায়গার কথা ভেবে কেউ একজনের বেশি দোকানে প্রবেশের সুযোগ না দিলেও বাইরে লেগে যাচ্ছে ছোটখাটো জটলা। দোকানের বাইরে বৃত্ত এঁকে ঘর করা থাকলেও সেটা অনেকেই খেয়াল করছে না। রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, ঢাকা কলেজ, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড এলাকা ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

রবিবার থেকে দোকান, মার্কেট, শপিং মল খোলার অনুমতি পাওয়া গেলেও অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান খোলা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। রবিবার অল্প পরিসরে দোকানপাট খুললেও বন্ধ ছিল বেশিরভাগ শপিং মল। কিন্তু সোমবার (১১ মে) বেশিরভাগই খোলা ছিল। এরমধ্যে আছে তৈরি পোশাক, শিশুদের কাপড়, শাড়ি, লুঙ্গি, কসমেটিক্স, জুতা, বেল্ট, পাঞ্জাবির দোকান।

নিউমার্কেট এলাকায় ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট বন্ধ থাকলেও মার্কেটের বাইরের অংশের দোকান প্রায় সবগুলোই খোলা। এই দোকানগুলোর আকার অনেক ছোট। দুই-তিনজন ক্রেতা প্রবেশ করলেই দোকান ভরে যায়। এসব দোকানে মূলত শিশুদের তৈরি পোশাক বিক্রি করা হয়। এছাড়া আছে লুঙ্গি এবং সালোয়ার কামিজের দোকান।

এখানকার ব্যবসায়ী ও দোকানের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোকানে তারা একজনের বেশি ক্রেতা প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। এস আর ফ্যাশনের কর্মচারী হোসেন জানান, তারা ক্রেতাদের পোশাকে হাত দিতে দিচ্ছেন না। তাছাড়া সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে বাইরে দাগ কেটেছেন। হোসেন বলেন, ‘আমরা দোকান সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখি। এছাড়া আমরা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেই। পোশাক পছন্দ করলে সেটা দেই। তিনি আরও বলেন, ‘গত দেড় মাস বন্ধ থাকায় আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা আগামী দুই বছরে পোষাতে পারবো না। ক্রেতা আসে, তবে খুব একটা না। ঈদের আগে যে পরিমাণ ক্রেতা আসার কথা সেরকম নাই। বাচ্চাদের পোশাক কিনে, তবে বড়দের পোশাক আমরা খুব একটা বিক্রি করতে পারছি না।

এ সময় পাশের কয়েকটি দোকানের সামনে ক্রেতাদের ছোটখাটো জটলা দেখা যায়। সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়টি খেয়াল রাখছেন কিনা জানতে চাইলে একজন ক্রেতা একটু সরে দাঁড়ান। পাশে অপর এক দোকান মীম ফ্যাশনের কর্মচারী ইসমাইল খান জানান, দোকানে জায়গা কম হওয়ায় তারা একজন ক্রেতাকেই প্রবেশ করার সুযোগ দিচ্ছেন। একজন বের হলে আরেকজন প্রবেশ করছে। এছাড়া ক্রেতাদের জন্য জীবাণুনাশকের ব্যবস্থা আছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পিঠ একদম দেয়ালে ঠেকে গেছে। যে ক্ষতি হয়েছে এই কয়দিন কেন, আগামী এক-দুই বছরেও পোষানো সম্ভব হবে না। আমরা তো কারও কাছে হাত পাততে পারি না। তাই বাধ্য হয়ে দোকান খুলতে হইসে।’

হকার্স মার্কেটের অপর এক শাড়ি বিক্রেতা এবং আরমান বস্ত্রালয়ের স্বত্বাধিকারী আলামিন জানান, তারা ক্রেতাদের শাড়ি ধরার আগে হাত জীবাণুমুক্ত করার কথা বলছেন। অনেক ক্রেতা বিরক্ত হচ্ছেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া একই সময়ে একজনের বেশি ক্রেতাকে তারা শাড়ি দেখতে দিচ্ছেন না বলেও জানান তিনি।

গাউসিয়ার নূর ম্যানশনের জে কে স্টোরের কর্মচারী ইসমাইল জানান, তাদের দোকানের পণ্য ক্রেতাদের ধরতে দেওয়া হচ্ছে না। ক্রেতার যেটা পছন্দ সেটা নিজেদের হাতে দেখিয়ে ক্রেতাকে প্যাকেট করে দেওয়া হয়। তাছাড়া পণ্য পরিবর্তন কিংবা ফেরতের সুযোগ নেই। ইসমাইল বলেন, ‘কাস্টমারকে ধরতে না দিলেও অনেক বিরক্ত হয়। আমরা বলে দেই যে কিছু করার নেই।’

এলিফ্যান্ট রোডের জুতার দোকানগুলো বেশিরভাগই খুলেছে আজ। দোকানের সামনে একটু পর পর জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন কর্মীরা। তবে দোকানের পরিসর এবং মার্কেটের জায়গা ছোট হওয়ায় বেশিরভাগ বিক্রেতা অবস্থান করছে একে অপরের কাছাকাছি। এরকম জায়গায় কীভাবে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে জানতে চাইলে শো গার্ডেনের কর্মচারী সাজ্জাদ হোসেন জানান, আমরা ক্রেতাদের জুতা পরিয়ে দিচ্ছি না, ক্রেতাদের নিজেদেরই জুতা পরে দেখতে হয়। পাশের অপর এক দোকানের একজন কর্মচারী বলেন, ‘এখানে মার্কেটের জায়গাটাই এরকম। এখানে যতটুকু করা যায় আমরা সেভাবেই করছি।’

ঈদে সবচেয়ে বেশি চাহিদা পাঞ্জাবির থাকলেও করোনা পরিস্থিতিতে ক্রেতা নেই পাঞ্জাবির দোকানগুলোতে। তাই অলস সময় পার করছেন বিক্রেতারা। এসব দোকানের সামনে কর্মচারীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে দোকানের বাইরে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকার পাঞ্জাবির দোকানে চান্দ সন্সের কর্মচারী তাইফুর রহমান বলেন, ‘ক্রেতাদের নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে পাঞ্জাবি পছন্দ করতে হয়। দোকানের ভিতরে দাগ কাটা আছে। আর পাঞ্জাবি ধরে দেখার সুযোগ নেই, যেটা পছন্দ হবে সাইজ বললে আমরা মাপ নিশ্চিত করে দেখিয়ে প্যাকেট করে দিয়ে দিচ্ছি।

লাইটনিউজ/এসআই