বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

মাত্র ৪০ মিনিটে মুশফিকের ব্যাটের দাম উঠে ২২ লাখ!

 

পাঁচদিনের নিলামের তিনদিন পূর্ণ হওয়ার আগেই মুশফিকুর রহীমের ডাবল সেঞ্চুরির ব্যাটের নিলামের দর উঠেছে ৪১ লাখ টাকা- মঙ্গলবার দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামতেই অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এ খবর।

কেউ কেউ তা বিশ্বাস করেও ফেলেন। ভাবতে শুরু করেন, ওরে বাবা! তৃতীয় দিনেই যদি ৬ লাখ টাকা ভিত্তি মুল্য থেকে প্রায় ৭ গুণ দর হাঁকানো হয়, আর বাকি দুই দিনও যদি এই অনুপাতে দর উঠতে থাকে, তাহলে পাঁচদিন শেষে মুশফিকের ব্যাটের মূল্য গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৭০ লাখ টাকা!

সেটা যে স্বাভাবিক নয়, তা বুঝতে ভুল হয়নি নিলামের আয়োজক ও ব্যবস্থাপকদের। তারা ধরে ফেলেন মুশফিকুর রহীমের ডাবল সেঞ্চুরির ব্যাটের নিলাম নিয়ে রীতিমত তুঘলকি কান্ড শুরু হয়েছে! স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণে দর হাঁকানো হচ্ছে।

যারা হাকাচ্ছেন তারাও এমনি এমনি দর হাঁকিয়ে গা ঢাকা দিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাওয়া যাচ্ছে না। যেগুলাকে ধরা হয় ফলস কল। এই ফলস কলের জ্বালায় অতিষ্ঠ হয়ে মঙ্গলবার বিকেল থেকে ঘন্টা দুয়েক বন্ধ রাখা হয়েছিল মুশফিকের ব্যাটের নিলাম।

পরে সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ আবার তা চালু করা হয়। ওপরের অংশ পড়ে যে কেউ ভাবছেন, পাঁচদিনের নিলামে মঙ্গলবার ছিল তৃতীয় দিন আর সেদিন এসেই বুঝি ফলস কলের হিড়িক দেখা দিয়েছে। সেই ফলস কলের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই বুঝি সাময়িকভাবে নিলাম বন্ধ রেখেছিলেন আয়োজকরা।

বিষয়টি পুরোপুরি ঠিক নয়। জানা গেছে, কাল তৃতীয় দিনে গিয়ে নয়, নিলামের প্রথম দিন থেকেই মুশফিকের ব্যাটের অস্বাভাবিক দর হাঁকানো হচ্ছে। তখন থেকেই আয়োজকরা বুঝতে পেরেছেন এখানে ফলস কল আসছে প্রচুর। সেই ফলস কলের ধরন এবং অস্বাভাবিকতার প্রমাণ দিয়েছেন মুশফিকের ম্যানেজার বর্ষণ কবির।

মঙ্গলবার রাতে নামী ক্রীড়া সাংবাদিক নোমান মোহাম্মদের সঙ্গে ইউটিউব লাইভে এসে বর্ষণ জানিয়েছেন এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তৃতীয় দিনে এসে ৪১ লাখ টাকা মুল্য ওঠাই শেষ কথা নয়, প্রথম দিনই ২২ লাখ টাকা দর হাঁকানো হয়েছিল। তখনই তাদের কাছে মনে হয় এর ভেতরে কোথাও না কোথাও বড় ধরনের ঘাপলা আছে।

সেই ২২ লাখ টাকা উঠতে ২৪ ঘন্টা কেন, এক ঘন্টাও লাগেনি। নিলাম প্রক্রিয়া শুরুর ৪০ মিনিট না যেতেই দর উঠে যায় ২২ লাখ টাকা। মুশফিকের ম্যানেজার সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক বর্ষণ কবিরের মন্তব্য, ‘তখনই সন্দেহের বীজ অঙ্কুরিত হয় আমাদের মনে। তখনই আমাদের চিন্তায় ঢুকল, হচ্ছেটা কী?’

বর্ষণ কবির আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘অমাদের আসল ও একমাত্র লক্ষ্য ছিল, নিলামে মুশফিকের ব্যাটের মূল্য যাতে বেশি ওঠে। যেহেতু এর একটি টাকাও অন্যত্র কাজে লাগানো হবে না, পুরোটাই যাবে করোনায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষদের সাহায্যে। তাই আমরা শুরু থেকেই চেয়েছিলাম একটি সাজানো গোছানো ও বড়সড় প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল নিলাম করার।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সে কারণেই আমাদের দেরি হয়েছে। সবার আগে ব্যাট নিলামে তোলার ঘোষণা দিয়েছিলেন মুশফিক। কিন্তু সেটা নিলামে উঠতে উঠতে লেগে গেছে প্রায় এক মাস। পুরোটা সময় আমরা ভেতরে ভেতরে কাজ করেছি। এর মধ্যে ব্র্যাকের চলে আসা। আমরা পিকাবুর মাধ্যমে একটি সুন্দর সাজানো গোছানো প্রক্রিয়া চাচ্ছিলাম।’

‘একটি বড়সড় অংকে ব্যাট নিলামের সম্ভাব্য সবরকম কাজই ছিল চূড়ান্ত। কিন্তু সেই মানবিক আবেদন ও মহৎ উদ্যোগেও কেউ কেউ নিলামে দর হাঁকানো নিয়ে এমন অস্বাভাবিক ফলস কল দিতে পারেন এবং এমন একটা মানবিক আবেদনসম্পন্ন কর্মকাণ্ডে কেউ এমন আচরণ করতে পারে- তা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি।’

লাইট নিউজ