বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

প্রস্তাবিত বাজেটে ৮ দফা দাবি জানিয়েছে সিএসই

 

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ২০ শতাংশ করা এবং ন্যূনতম তিন বছর পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের শর্ত পুনর্বিবেচনাসহ প্রস্তাবিত বাজেটে ৮ দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (১৭ জুন) সংবাদ সম্মেলন দাবিগুলো উত্থাপন করেছেন সিএসই’র এমডি মামুন উর রশিদ।

গত ১১ জুন ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সিএসইর এমডি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে তালিকাভুক্ত এবং অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যকার কর ব্যবধান বিদ্যমান ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ব্যবধান কমানোর কারণে ভবিষ্যতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো আরো নিরুৎসাহিত হবে বলে আমরা মনে করছি।

অতালিকাভুক্ত কোম্পানির পাশাপাশি তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করার জন্য অনুরোধ করছি। এতে ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। যা পুঁজিবাজারকে সমৃদ্ধ করবে এবং স্বচ্ছ কর্পোরেট রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।

সিএসই’র এমডি আরও বলেন, বাজেটে অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার কথা বলেছেন। ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে ন্যূনতম তিন বছরের মধ্যে বিনিয়োগ প্রত্যাহার না করার শর্তটি তুলে দেয়ার জন্য আমরা অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যা ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদেরকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আরো উৎসাহিত করবে।

বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ড মার্কেটকে আরো আকর্ষণীয় করার জন্য অর্থমন্ত্রী মহোদয় বন্ডের সুদ ও বাট্টা পরিশোধ করার সময় উৎসে কর কর্তনের বিধান রহিত করে সুদ ও বাট্টা পরিশোধ করার সময় উৎস কর কর্তনের প্রস্তাব করেছেন। তাছাড়া বন্ড লেনদেনের জন্য বর্তমান বিধান অনুসারে লেনদেন মূল্যের ওপর উৎসে কর কর্তনের পরিবর্তে লেনদেনর জন্য পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নির্ধারিত কমিশনের ওপর উৎসে কর কর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা বন্ড মার্কেটের বিকাশ ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে বলে আমরা আশা করছি।

নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আয় তিন বছর করমুক্ত রাখা হলে অতালিকাভুক্ত কোম্পানিসমূহ তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। এতে পুঁজিবাজারে গুণগত মানসম্পন্ন শেয়ারের যোগান বাড়বে যা বাজারে লেনদেন বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা আনয়নে ভূমিকা পালন করবে।

এডিবি ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সম্পাদিত ঋণ চুক্তির হিসেবে প্রণীত ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন আইন দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি। ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সরকারও আমাদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে আসছে।

সিএসই’র এমডি মামুন উর রশিদ আরও বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারীর নিকট শেয়ার বিক্রির জন্য সিএসইকে পাঁচ বছরের জন্য কর অব্যহতির সুবিধা দেয়া হলে ডিমিঊচ্যুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী কৌশলগত বিনিয়োগকারী পেতে সহায়ক হবে এবং একই সাথে তুলনামূলক ছোট এক্সচেঞ্জ হিসেবে দেশের পুঁজিবাজারে যথাযথ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে স্টক ব্রোকারদের উৎসে কর কর্তনের হার ২০০৬ সালে চালুকৃত হারে অর্থাৎ ০.০১৫ শতাংশ এ পুনঃনির্ধারনের জোর দাবি জানাচ্ছি। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিনিয়োগ আগ্রহ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বর্তমানে মূলধনী লাভের উপর কর হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে প্রস্তাবিত বাজেট চূড়ান্তের প্রাক্কালে আমাদের বক্তব্যগুলো পুনর্বিবেচনা ও অর্ন্তভুক্ত করা হবে।