বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

কুয়েতে শ্রমিকদের কাছ থেকে দৈনিক ২২০০ টাকা নিতেন পাপুলের লোকেরা

ডেস্ক রিপোর্ট : মানব ও অর্থপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম পাপুলের আদম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশটিতে যাওয়া ১২ বাংলাদেশি শ্রমিককে আটক করেছে কুয়েত পুলিশ। তাদের এমপি শহিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়। বিনিময়ে তাদের ক্ষতিপূরণসহ দেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। যদিও তাদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ না দিয়ে মাত্র ১৫০ দিনার (৪১ হাজার ৪০০ টাকা) হাতে ধরিয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

আটকদের মধ্যে আবদুল আলিম ও আবদুল জব্বার নামের দুই শ্রমিক পাপুলের বিরুদ্ধে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে কুয়েতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানান, সেখানে পাপুলের লোকজন তাদের কাছ থেকে দৈনিক ৮ দিনার অর্থাৎ ২ হাজার ২০০ টাকা করে নিতেন। যার বিনিময়ে তারা খুচরা কাজের অনুমতি পান। এ টাকা সংগ্রহ করতেন মাহবুব ও আমান নামে দুই ব্যক্তি।

তারা পাপুলের আদম ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ‘কুয়েতে আসার আগে বলা হয়েছিল দৈনিক ৮ ঘণ্টা ডিউটি এবং বেতন ১৪০ দিনার। কিন্তু আসার পর দেখা যায়, ১৬ ঘণ্টা ডিউটি কিন্তু বেতন ১০০ দিনার। এই টাকার বিনিময়ে তাদের বাইরে অন্য কাজ করার অনুমতি ছিল।’

আটক ও সাক্ষ্যের বিষয়ে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারকে এক সাক্ষাৎকারে আলিম বলেন, ‘একদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুয়েতের সিআইডি পুলিশ সেই ক্যাম্পে অভিযান চালায় এবং আমাদের সিআইডি অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে আরও ১১ জনকে দেখি। সেখানে আমাদের পাঁচ-ছয়দিন রাখা হয়।

সিআইডি কর্মকর্তারা আমাদের জানান যে, আমাদের কোম্পানি অবৈধ। তাই আমাদের কুয়েতে থাকাটাও বৈধ নয়। সিআইডি অফিসে আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আমরা শহিদকে কত টাকা দিয়েছি। আমরা তাদের সব বলি। তারপর তারা বলেন, আমরা যে টাকা খরচ করেছি তা ফিরিয়ে দেয়া হবে এবং আমাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। কিন্তু, হঠাৎ ১২ জনকে তারা সোমবার রাতে বিমানবন্দরে নিয়ে আসে। বিমানবন্দরে একজন সিআইডি ও কোম্পানির কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তারা আমাদের সবাইকে ১৫০ দিনার ধরিয়ে দিয়ে বলেন বাকিটা পরে দেয়া হবে।’

ঢাকার ফকিরাপুল এলাকায় শহিদের এজেন্সিকে তিনি সাড়ে ৭ লাখ টাকা দিয়ে কুয়েত পাড়ি দিয়েছিলেন বলেও জানান।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুন মানবপাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে কুয়েতের মুশরেফ আবাসিক এলাকা থেকে দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পাপুলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর পাপুলকে আদালতে হাজির করলে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠান আদালত।

এদিকে, অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর আরও অনুসন্ধানের স্বার্থে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালক শহিদ ইসলাম পাপুলকে সপরিবারে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সূত্র : আরব টাইমস