বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর দায় স্বীকার

চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানা এলাকায় পরকীয়া প্রেমের জেরে ভারি বর্ষণের সময় স্ত্রী মারিয়া আক্তার মালাকে (২০) হত্যা করেছেন স্বামী মো. সোহাগ হাওলাদার (২২)। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সারোয়ার জাহানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ধৃত সোহাগ হাওলাদার বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার হাওলাদার বাড়ির মো. খালেক হাওলাদারের ছেলে।

ঘটনার বিষয়ে ইপিজেড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মো. নূরুল হুদা কালের কণ্ঠকে বলেন, গতকাল বুধবার সকালে ভারি বর্ষণের সময় খবর আসে, ইপিজেড থানার সিমেন্ট ক্রসিং কাঁচা বাজার রোডস্থ আবুল কালাম লন্ডনীর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় এক নারীকে হত্যা করছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এই সময় নিহতের মা আকলিমা বেগম কাউকে সন্দেহ করতে পারেন না। পরবর্তীতে সুরতাহাল প্রতিবেদন তৈরির পর নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এরই মধ্যে পুলিশ গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানতে পারে, ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না বলে স্বামীর বাড়ি ছেলে মায়ের বাড়িতে এসে বসত করছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে স্বামী সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় মারিয়া আক্তারের মা আকলিমা বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি সোহাগ হাওলাদারকে বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সারোয়ার জাহানের আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেখানে আসামি নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

জবানবন্দির তথ্য অনুযায়ী, দুই বছর আগে মারিয়ার সঙ্গে সোহাগের বিয়ে হয়। সোহাগ একটি গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে চাকরি করেন। এক বছর দাম্পত্য জীবন ভালো চললেও পরে মারিয়া অন্য এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি টের পেয়ে সোহাগ বাসা পরিবর্তন করে। এতে মারিয়া ক্ষিপ্ত হয় এবং সোহাগের সঙ্গে সংসার করবে না বলে জানায়। পরে উভয় পরিবারের সমঝোতার ভিত্তিতে মারিয়ে দুই বছর মায়ের বাসায় থাকবে বলে সোহাগের বাসা থেকে মা আকলিমা বেগমের বাসায় চলে যান।

এরই মধ্যে সোহাগ জানতে পারেন, মারিয়া গ্রামে চলে যাবে। এতে বাধা দেয় সোহাগ। কিন্তু মারিয়া সেই কথা শোনেনি এবং তার সঙ্গে ঘর করবে না মর্মে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই বুধবার সকালে ভারি বর্ষণের সময় মারিয়াকে গলাটিপে ধরে সোহাগ। এতে মারিয়ার মৃত্যু হয়।

ঘটনার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুল হুদা বলেন, হত্যার পরপরই আসামিকে শনাক্ত করে কৌশলে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্তের কাজ শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

লাইট নিউজ