বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

৩২ বছরের রেকর্ড ভাঙল যমুনায় পানি বৃদ্ধি

বর্ষার শুরুতেই সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর পানি আকস্মিক বাড়তে শুরু করেছে। যমুনা নদীতে অব্যহত পানি বৃদ্ধি আর দফায় দফায় ভারি বর্ষণে জেলায় দেখা দিয়েছে আগাম বন্যার আশঙ্কা। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির হার গত ৩২ বছরের তুলনায় সর্ব্বোচ্চ। এর মধ্যেই চরাঞ্চলের নিম্নভূমি প্লাাবিত হয়ে তলিয়ে যাচ্ছে শত শত একর ফসলি জমি। অপরদিকে পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার নদীতীরবর্তী অঞ্চলজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন।

১৫ জুন অর্থাৎ আষাঢ়ের প্রথম দিন থেকেই ব্যাপকহারে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জের কাছে যমুনা নদীর পানি ২৩ সেন্টিমিটার বেড়ে সমতল থেকে ১২.০১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে দ্রুতই এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করবে বলে আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত মে মাসের শেষের দিকে যমুনা নদীতে যে পরিমাণ পানি প্রবাহিত হয়েছে তা গত ৩২ বছরের হিসাবে সর্ব্বেচ্চ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেকর্ড মতে এই পানি প্রবাহের পরিমান ১৯৮৮ সালের পর আর আসেনি। যমুনা নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ১.৩৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে অব্যাহত পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার অভ্যন্তরীণ নদী করতোয়া, ফুলজোড়,ইছামতি, হুরাসাগর, বড়াল, বিলসুর্য্য ও গুমানীসহ অধিকাংশ নদনদীর পানিও বেড়েছে।

এদিকে আকস্মিক যমুনার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের শত শত একর ফসলি জমি। এর মধ্যেই যমুনা অধ্যুষিত জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় ২০টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাাবিত হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী, জালালপুর কৈজুরী, সদর উপজেলার কাওয়াকোলা, মেছড়া, কাজীপুরের খাসরাজবাড়ী, মাইজবাড়ী, তেকানি, নাটুয়ার পাড়া, চর গিরিশ, নিশ্চিন্তপুর এবং চৌহালীর স্থল, ঘোড়জান, সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের নিম্নভূমি প্লাাবিত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাবিবুল হক জানান, চরাঞ্চলের ৯০ একর জমির পাট, ৫০ একর জমির তিল সম্পূর্ণরূপে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়াও টানা বৃষ্টির ফলে ৫৮০ একর জমির সবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক জমির পাকা ধান তলিয়ে গেছে। পানির মধ্যে থেকেই কৃষকেরা ধান কেটে ঘরে তুলেছেন।

এরই মধ্যে জেলার শাহজাদপুর ও চৌহালীতে যমুনা নদীর ভাঙন শুরু হয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী, জালালপুর ও সোনাতনী ইউনিয়নের যমুনাতীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামে ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙনে ঘরবাড়ি ছাড়াও শত শত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। তীব্র ভাঙনের ফলে যমুনাগর্ভে বিলীন হচ্ছে দক্ষিণ চৌহালীর ঘরবাড়ি, রাস্তা-ঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ খাস পুকুরিয়া ও বাগুটিয়া ইউনিয়নের অন্তত ৫টি গ্রাম।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে যমুনা নদীর ডান তীরজুড়ে রয়েছে ৭৯ কিলোমিটার ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। তবে এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর থেকে কাজিপুরের পাটাগ্রাম এলাকা পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার এবং এনায়েতপুরের ব্রাহ্মণ গ্রাম হাটপাঁচিল এলাকা পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার অংশ ফাঁকা রয়েছে। যে কারণে পানি বৃদ্ধি পেলেইে বাঁধের এই অংশ দিয়ে পানি বাঁধ অভ্যন্তর এলাকায় প্রবেশ করছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, আমরা এর মধ্যেই বন্যার মধ্যে প্রবেশ করেছি। পানি বৃদ্ধির কারণে বাঁধ যাতে ভেঙে না যায় সে জন্যে আমরা পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ ও প্লাস্টিক ব্যাগ মজুদ রেখেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্বক্ষণিক মাঠে আছে। তিনি আরো জানান, সাধারণত জুন ও জুলাই মাসেই আমাদের দেশে বন্যা হয়ে থাকে। এ বছর মে মাসের শেষে যমুনায় যে পরিমাণ পানি এসেছে তেমনটি ১৯৮৮ সালের পর দীর্ঘ ৩২ বছরেও আসেনি। দীর্ঘদিন পর যমুনায় সর্বোচ্চ পানি রেকর্ড করা হয়েছে।

লাইটনিউজ