কুরবানির গোস্ত ভাগসহ অন্যান্য নিয়ম

মুসলিম ঐতিহ্যের দুটি ঈদ উৎসব। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা। মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম (আঃ) এর সুন্নাহ হিসেবে উম্মতে মোহাম্মদির উপযুক্ত নরনারীর উপর কুরবানিকে ওয়াজিব করা হয়েছে।

কুরবানির পশু বাছাই:

সুস্থ সবল সুন্দর ও সুঠামদেহী নিখুঁত পশু কুরবানি দিতে হবে। বিশেষ করে দাঁত, লেজ, দৃষ্টিশক্তি, শিং এবং পা ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। জবেহের স্থানে হেঁটে যাওয়ার মতো সুস্থও হতে হবে কুরবানির প্রাণিকে।

ভাগে কুরবানি:

গরু, মহিষ ও উট সর্ব নিম্ন এক শরিক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ সাত শরিকে এ ছাড়া ছাগল, মেষ বা দুম্বা এক শরিকে কুরবানি দিতে হয়। কেউ চাইলে কুরবানির সাথে সন্তানের আকিকাও দিতে পারেন, তবে তা জায়েজ থাকলেও সুন্নত নয় বলে ইসলামিক স্কলারগণ মত দিয়েছেন।

গোস্ত ভাগ:

কুরবানির ছাগল ও দুম্বা এক বছর, গরু মহিষ দুই বছর এবং উটের বয়স হতে হবে ন্যূনতম পাঁচ বছর। হৃষ্টপুষ্ট দুম্বা ছয় মাস বয়সী হলেও চলবে। কুরবানিকৃত পশুর গোস্ত তিন তাগ করে এক ভাগ দরিদ্র, এক ভাগ আত্মীয়স্বজন ও এক ভাগ নিজেরা রাখাই উত্তম পদ্ধতি।

প্রদর্শন না করা:

অনেকে কুরবানির পশু ক্রয় করে প্রদর্শন করে থাকেন যাকে মাকরূহ বলা হয়েছে, এ ছাড়া কেউ যদি রিয়া ( প্রদর্শনেচ্ছা) বশত এমন কাজ করে তবে তার কুরবানি কবুল হবে না।

গোস্ত বিক্রি:

কুরবানির পশুর দুধপান ও তা দিয়ে হালচাষ জায়েজ হলেও জবেহকৃত পশুর কোনো অংশই বিক্রি বা পারিশ্রমিক হিসেবে দেয়া যাবে না। কোনো কিছু বিক্রি করলে তা দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করে দিতে হবে।

Facebook Comments