বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

কাঁচা চামড়া রফতানির আগ্রহ নেই

কোরবানির পশুর কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া কেস-টু-কেস ভিত্তিতে রফতানির অনুমতি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হলেও এখন পর্যন্ত কোনও ব্যবসায়ী আগ্রহ দেখিয়ে আবেদন করেননি। প্রজ্ঞাপন জারির পর মন্ত্রণালয় একটি কমিটি করলেও এর ১২ সদস্য কোনও বৈঠকে বসেননি। এ কারণে পশুর চামড়া নিয়ে সৃষ্ট বিপর্যয় কাটছে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি অধিশাখা-১-এর যুগ্ম সচিব জিনাত আরা বলেন, ‘শুনেছি চামড়া রফতানির আগ্রহ ব্যক্ত করে একজন ব্যবসায়ীর একটি আবেদন কমিটির কাছে জমা পড়েছে। তবে আমি এখনও তা দেখিনি। খুব দ্রুতই এ বিষয়ে একটি বৈঠক করবো আমরা।

চামড়া ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের দাবি, ‘রফতানির অনুমতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি ও একটি কমিটি করে দেওয়া ছাড়া এ বিষয়ে অগ্রগতির কোনও সংবাদ পাইনি। চামড়া রফতানির আগ্রহ দেখিয়েছেন এমন কোনও ব্যবসায়ীর নাম শুনিনি।’

প্রজ্ঞাপন জারি ও কমিটি করা ছাড়াও চামড়া রফতানির জন্য আরও কিছু কাজ আছে বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী, যা সরকার তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কেই করতে হবে। তার আশা, ‘সময় শেষ হয়ে যায়নি। সারা বছরই চামড়া রফতানির সুযোগ রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বছর ২৯ শতাংশ মূল্য কমিয়ে ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫-৪০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। গত বছর তা ছিল ৪৫-৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে গরুর চামড়ার দর ঠিক করা হয় ২৮-৩২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৩৫-৪০ টাকা। এক্ষেত্রে প্রায় ২০ শতাংশ দাম কমানো হয়। এছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়ার মূল্য ১৩-১৫ টাকা করা হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ২৭ শতাংশ কম। গত বছর প্রতিটি খাসির চামড়ার দাম ছিল ১৮-২০ টাকা। এবার ২৩ শতাংশ মূল্য কমিয়ে বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ১০-১২ টাকা, গত বছর ছিল ১৩-১৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দামে চামড়া কেনার প্রতিশ্রুতি দিলেও তারা তা রাখেননি।

পোস্তার কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ী টিপু সুলতান বলেছেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে গত বছরের অনেক টাকা এখনও বাকি পড়ে আছে। সেগুলো দিলেও তো চামড়া কেনা যেতো। ট্যানারি মালিকরা ঠিকমতো দাম পরিশোধ করলে এমন সমস্যা হতো না।

এ বছর পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কোরবানিদাতারা। তারা অনেকেই এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মসজিদ-মাদ্রাসায় দান করেছেন। বাজার মন্দার কারণে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের তোড়জোড় ছিল না তেমন। তারপরও যারা ঈদুল আজহায় চামড়া সংগ্রহের জন্য পাড়া-মহল্লায় নেমেছিলেন, তারাও তেমন সুবিধা করতে পারেননি। ক্রেতা না পেয়ে অনেকেই সংগৃহীত চামড়া নদীতে কিংবা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছেন। কেউবা রাস্তার পাশে মাটিতে পুঁতে রেখেছেন।

সমস্যার সমাধানে গত ২৯ জুলাই একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা আমদানি ও রফতানির প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর। এতে জানানো হয়, চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। তাদের ও গত ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভার সিদ্ধান্ত এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা যায়, কাঁচা চামড়ার চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে রফতানি নীতি ২০১৮-২০২১-এর অনুচ্ছেদ ৯.১৫-এ কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানিতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা প্রয়োজন। তাই প্রয়োজনে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।’ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। আমদানি ও রফতানির প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে।

ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া চামড়া রফতানির আবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে আছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, আমদানি-রফতানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দফতর, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন এবং এফবিসিসিআই প্রতিনিধিরা। কিন্তু এখনও এসব সংস্থার প্রধানরা তাদের প্রতিনিধি মনোনীত করেননি। এ কারণে কমিটির কোনও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।

লাইটনিউজ/এসআই