বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

পিএসজির প্রথম নাকি বায়ার্নের ষষ্ঠ

ক্লাবের ৫০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ওঠা প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (পিএসজি) ঘরে ট্রফি যাবে, নাকি এই মৌসুমে উড়তে থাকা ঐতিহ্যবাহী জার্মান ক্লাব বায়ার্নের ঘরে যাবে; তা নিশ্চিত হবে রাতেই।

বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার রাত ১টায় মুখোমুখি হবে পিএসজি ও বায়ার্ন মিউনিখ। এবারের আসরে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছে বায়ার্ন।

চ্যাম্পিয়নস লিগে কোনো ম্যাচ না হেরেই ফাইনালে উঠেছে তারা। দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন বায়ার্নের পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডফস্কি। এর আগে পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জিতেছে বায়ার্ন মিউনিখ। অন্যদিকে এবার প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্সের ক্লাব পিএসজি। নেইমার-এমবাপ্পের মতো তারকা নিয়ে পিএসজির আক্রমণ ভাগ সাজানো। ফাইনালের লড়াইটা যে হাড্ডাহাড্ডি হবে তা অনুমেয়।

বার্সেলোনার সমান পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা রয়েছে বায়ার্নের। এবার ছয় নম্বর শিরোপা জয়ের আশায় মাঠে নামবে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন। এবারের আসরে শিরোপা জয় করতে পারলে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলকে ছুঁয়ে ফেলবে বায়ার্ন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শিরোপা রয়েছে এসি মিলানের সাতটি। সর্বোচ্চ ১৩টি শিরোপা জয় করে প্রথম স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

এবারের আসরে প্রতিপক্ষের রক্ষণে সবচেয়ে বেশি ভীতি ছড়িয়েছে বায়ার্ন। বার্সেলোনাকে ৮-২ গোলে বিধ্বস্ত করে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিয়েছে আগেই।

অন্যদিকে পিএসজি প্রতি ম্যাচেই নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। দলের সেরা তারকা নেইমার গোল না পেলেও গোলে অবদান রাখছেন নিয়মিত। আক্রমণের দিক থেকে এবারের আসরে বায়ার্নের জুড়ি মেলা ভার। শেষ ম্যাচে হাইলাইন ডিফেন্সের কারণে বায়ার্নের রক্ষণে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পেরেছিল অলিম্পিক লিওঁ। এ ম্যাচেও বায়ার্ন একই কৌশল অবলম্বন করলে কিছুটা সুবিধা পেতে পারে পিএসজি। কাউন্টার অ্যাটাকের জন্য পিএসজি দলে রয়েছে ফ্রান্সের তরুণ তারকা এমবাপ্পে। তার গতি কিছুটা ভোগাতে পারে বায়ার্নকে। বায়ার্ন আপলাইন ডিফেন্স খেলালেও পিএসজিকে পজিশন ধরে খেলতেই দেখা যায়। ফলে তাদের রক্ষণের পরীক্ষা নিতে জার্মান জায়ান্টকে বেশ ঘাম ঝরাতে হবে বলেই অনুমান করা যায়।

শেষ দুই ম্যাচে হান্সি ফ্লিকসের শিষ্যদের গোলের সংখ্যা ১১টি। কিন্তু নেইমার-এমবাপ্পে এমন এক জুটি, যারা পূর্ণ ফর্মে থাকলে তাদের আটকানো যে কারও জন্য কঠিন। এমবাপ্পে পুরোপুরি মুখিয়ে আছেন জার্মান চ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হতে। বায়ার্নের হাই ডিফেন্সিভ লাইন ভেঙে তার স্বপ্ন পিএসজিকে স্বপ্নের দরজায় পৌঁছে দেওয়া। আর নেইমার? এরই মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখকে দুমড়েমুচড়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। মাত্র ৫ বছর আগের ঘটনা। চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৩ গোলে বায়ার্নকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল বার্সেলোনা।

ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার ওই সেমিফাইনালে দুই লেগ মিলিয়ে করেছিলেন মোট ৩ গোল। এর মধ্যে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে নেইমার যেন একাই ধসিয়ে দিয়েছিলেন বায়ার্নকে। সেদিন পেপ গার্দিওলার দলকে বায়ার্নের সামনে রহস্যময় করে তুলেছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। সেবার বার্সা চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতেছিল নেইমার এবং মেসির পায়ের ওপর ভর করেই। দুজন মিলে সেবারের আসরে করেছিলেন ১০ গোল করে মোট ২০ গোল।

কিন্তু এখন তো সময় বদলে গেছে। ২০১৭ সালেই নেইমার বার্সা ছেড়ে এসে যোগ দিয়েছেন পিএসজিতে। একটাই উদ্দেশ্য, নিজের নামকে প্রতিষ্ঠা করা। মেসি-রোনালদোদের মতো একটি ক্লাব হবে তার নামে পরিচিত। এবার নেইমারের সেই কাঙ্ক্ষিত সময়টা উপস্থিত। বায়ার্নকে হারিয়ে পিএসজির শিরোপা জিততে হলে অবশ্যই নেইমারের জ্বলে ওঠা খুবই প্রয়োজন। এর আগেও যেটা তিনি পেরেছেন, ৫ বছর পর কি এবার সেটা পারবেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার? চ্যাম্পিয়নস লিগে ফ্রান্সের সৌরভ ছড়াবে নাকি জার্মানরা তাদের পাওয়ার ফুটবল দিয়ে আবারও শিরোপা নিজের করে নেবে? সব প্রশ্নের উত্তর জানতে আপাতত রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

লাইট নিউজ