বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

চা উৎপাদনে বিপর্যয়

করোনাকালীন সময়ে চা বাগানগুলো চালু রাখলেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে চলতি বছর দেশে চায়ের উৎপাদনে বিপর্যয় নেমে এসেছে। অথচ গত বছর দেশে চায়ের উৎপাদন হয় রেকর্ড পরিমাণে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যায় ৯৫ মিলিয়ন কেজিতে। আর চলতি ২০২০ সালে চায়ের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নেমে এসেছে অর্ধেকের নিচে।

গত বছর ২০১৯ সালে প্রায় ১০ কোটি কেজি চায়ের উৎপাদনের বিপরীতে চলতি ২০২০ সালে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় সাত কোটি ৭০ লাখ কেজি। কিন্তু এ বছরের জুলাই পর্যন্ত অর্জিত চায়ের পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র তিন কোটি ৩৯ লাখ ৯০ হাজার কেজি।

চা-সংশ্লিষ্টরা প্রতিকূল আবহাওয়ার পাশাপাশি অধিক উৎপাদনের আশায় টি প্লান্টারদের অধিক হারে পেষ্টিসাইট ব্যবহার ও আবহাওয়া অনুযায়ী পেষ্টিসাইট প্রয়োগে ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ উৎপাদনে বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্র (বিটিআরআই) এর পরিচালক ড. মোহাম্মদ আলী।

তিনি বলেন, খরা, অতিবৃষ্টি এবং মেঘলা পরিবেশের কারণে এবার দেশে চা উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে। এবারের চা মৌসুমের নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত খরা এবং এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত অতি বৃষ্টি চায়ের জন্য উপযোগী আবহাওয়া ছিল না। শুধু জুন মাসে ৩৪০.৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রাতে বৃষ্টি ও দিনে রোদ চায়ের জন্য অধিকতর উপযোগী, কিন্তু মে জুনে দিনে-রাতে অবিরত বৃষ্টিপাতের কারণে চা গাছের কুঁড়ি তৈরি করতে বাধাগ্রস্ত হয়। এতে করে চলতি বছর চা’র উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বছরের বাকি সময়ের মধ্যে চায়ের উৎপাদন ঘুরেও দাঁড়াতে পারে বলে মনে করেন এই চা বিশেষজ্ঞ।

বাংলাদেশীয় চা সংসদ সিলেট ভ্যালি সভাপতি ও জেমস ফিনলের ভাড়াউড়া চা ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোহাম্মদ শিবলী জানান, এ বছর প্রচণ্ড খরার মুখে চায়ের উৎপাদন ব্যাহত হয়। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত মাত্র ২১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। জুলাই-আগস্ট মাসে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকায় উৎপাদন কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তবে তা গত বছরের তুলনা প্রায় ৩০ শতাংশ কম।

এদিকে উৎপাদন ধরে রাখতে সরকারি সিদ্ধান্তে চা-বাগানগুলো চালু রাখা হলেও দেশে করোনার সংক্রমণের মুখে সার্বিক ভাবে চায়ের বেচাকেনা কমে গেছে। এর ধারাবাহিকতায় চায়ের নিলামে তোলা বেশির ভাগ চা পাতা অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। এর প্রভাবে বাজারে চায়ের দামও কিছুটা কমে এসেছে বলে স্থানীয় চা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

লাইট নিউজ