বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

করোনাকালে বেড়েছে বিনোদনকেন্দ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

করোনা মহামারিতে রাজধানীর বিভিন্ন পার্ক, উদ্যান ও চিড়িয়াখানাসহ বিনোদন কেন্দ্রগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এসব স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক স্থানে ফুল, ফল ও বনজ গাছে নতুন ফুল ও পাতা গজিয়েছে। কয়েকদিন আগে রমনা পার্ক দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার পর পার্কের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছেন নগরবাসী। রমনা পার্কের পর এবার পহেলা নভেম্বর জাতীয় চিড়িয়াখানা খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গত সাত মাস করোনাভাইরাস মহামারিতে রাজধানীর পার্ক, উদ্যান ও চিড়িয়াখানা বন্ধ থাকার পর কয়েকদিন আগে কিছু পার্ক ও উদ্যান খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সাত মাস পার্ক ও উদ্যান বন্ধ থাকায় নীরব ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশের কারণে সকাল-সন্ধ্যায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আড্ডা ও কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজধানীর পার্ক ও উদ্যানগুলো।

সরেজমিনে রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন ও জাতীয় চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা গেছে, করোনার কারণে পার্ক ও উদ্যানে দর্শনাথী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় এর সৌন্দর্য বেড়েছে। চিড়িয়াখানায় সবুজ ঘাসের পাশাপাশি প্রাণীগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে খাঁচার ভেতর চলাচল করছে। চিড়িয়াখানায় মানুষের কোলাহল না থাকায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বাসা বেঁধেছে। নিরাপত্তারক্ষীরা পার্ক ও উদ্যানের ভেতরে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা সাত মাস বন্ধ থাকায় নতুন করে বিভিন্ন ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। যেখানে রয়েছে কনকচূড়া, মালতী, জারুল, কৃষ্ণচূড়া, গাঁদাচূড়া, কাঞ্চন, হাইকা, পলাশ, চেরি, কাঠকয়লাসহ ইত্যাদি ফুল। ফুলের গাছ ছাড়াও বিভিন্ন রকমের ছোট-বড় গাছ লাগানো হয়েছে। একদিকে দর্শনার্থী না থাকা অন্যদিকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোয় পার্ক ও উদ্যানের সৌন্দর্য বেড়েছে কয়েকগুণ। পার্ক ও উদ্যানের এই মোহনীয় সৌন্দর্য দেখে যে কারও মনে হবে, প্রাণ ভরে যেন নিশ্বাস নিতে পারছে গাছগুলো। অথচ করোনার আগের মুহূর্তে দিনের বেলায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড়ে শত পরিচর্যা করেও পার্ক ও উদ্যানের সৌন্দর্য বাড়ানো সম্ভব হয়নি। করোনার সাত মাসে ঢাকার পার্ক ও উদ্যানে বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছ লাগিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সংসদ ভবনের পাশে চন্দ্রিমা উদ্যানে এখন বিরাজ করছে নিস্তব্ধতা। একই অবস্থা সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউ এলাকায়। অন্য সময়ে সেখানে শত শত মানুষকে হাঁটাহাঁটি করতে দেখা গেলেও এখন মানুষের সমাগম কম।

মিরপুর চিড়িয়াখানা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করলেও করোনার সুরক্ষা সামগ্রী ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। চিড়িয়াখানায় প্রবেশের ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার লক্ষ্যে অমোচনীয় রঙ দিয়ে বৃত্তাকার স্থান চিহ্নিত করা হবে। প্রবেশপথে জীবাণুনাশক টানেল ও ফুটবাথ স্থাপন করা, প্রবেশপথে থার্মাল স্ক্যানারের সাহায্যে দর্শনার্থীর দৈহিক তাপমাত্রা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা করা এবং চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন, সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া, দর্শনার্থীর সংখ্যা দৈনিক সর্বোচ্চ ২ হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা, প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ প্রাণির চারপাশে জীবাণুনাশক স্প্রে করা, পরিদর্শন সময় সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত নির্ধারিত রাখা, ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো এবং ষাটোর্ধ্ব বয়সের ব্যক্তিদের চিড়িয়াখানায় প্রবেশাধিকার বন্ধ রাখার শর্ত দেয়া হয়েছে।

রমনা উষা ব্যায়াম সংগঠনের সদস্য লিয়াকত আলী মণ্ডল বলেন, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রয়েছে প্রচুর ঘাস, লতা-গুল্ম, ছোট ও মাঝারি আকারের মৌসুমী ফুলে সমৃদ্ধ গাছ। বেশ কিছু দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষও রয়েছে রমনা পার্কে। প্রচুর গাছগাছালির কারণে রমনা পার্কে পাখির আনাগোনাও থাকে বছরজুড়ে চোখে পড়ার মতো। চারদিকে সবুজের সমারোহ মুহূর্তের মধ্যে আপনি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে হারিয়ে যাবেন। রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, মিরপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন ও বলধা গার্ডেন দর্শনার্থীদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

রমনা পার্কের নিরাপত্তাকর্মী তরিকুল ইসলাম বলেন, ফুল, ফল আর বনজ গাছে দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে পার্ক। সবুজ ঘাসের বুকে উঁকি দিচ্ছে সাদা ঘাসফুল; যা সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গাছ-পালা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে পরিবেশ কতটা পরিবর্তন করে দিতে পারে তা করোনার ৭ মাসে এই ফুল ও ফলের গাছ দেখেই বোঝা যায়।

রমনা পার্কের আরেক নিরাপত্তাকর্মী রবিউল বলেন, রাজধানীর ফুসফুস খ্যাত রমনা পার্কের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে মানুষ বারবার এখানে ঘুরতে আসেন। রমনা পার্কের মতো সুবজ-শ্যামল সৌন্দর্যবর্ধক রাজধানীর কোথাও নেই। কিছুদিন বৃষ্টি হওয়ায় তিন-চার মিটার উঁচু গাছ, পত্রঘন, সাদা সুগন্ধি ফুলের থোকায় গাছ ভরে গেছে। বাগানবিলাসের অনেকগুলো ঝড় আছে পার্কে, সবই লাল ও বেগুনি রঙের।

বৃক্ষময় রমনাপার্কের সৌন্দর্য বাড়াতে করোনার মধ্যেও কর্মযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগ। পার্কের সড়ক প্রশস্তকরণসহ বিভিন্ন জাতের ফুলের গাছ লাগানো হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে গণপূর্ত বিভাগ লেকসহ গোটা পার্কের সৌন্দর্যায়নের ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে। রমনার নয়নাভিরাম শোভা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে দর্শনার্থী।

প্রসঙ্গত, করোনা মহামারির আগমুহূর্তে ঢাকার বিভিন্ন পার্ক ও উদ্যানে দুর্লভ গাছ ও তরুলতা নষ্ট হয়েছে। জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। করোনায় আট মাস পার্ক ও উদ্যান বন্ধ থাকায় প্রকৃতিক সৌন্দর্য আবার ফুটে উঠেছে। নতুনরূপে সেজেছে রমনাপার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন ও চিড়িয়াখানা।

লাইটনিউজ