বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

বন্ধুকে হত্যার পর পুড়িয়ে দেয়ার দায়ে তিনজনের ফাঁসি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পল্লী এলাকায় নিয়ে রেজাউল ইসলাম নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে হত্যার পর পুড়িয়ে দেওয়ার দায়ে বন্ধু সুইট আলম, জামিল হাসান ও মোকদাদ বিন মোতাহার পলাশকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। এছাড়াও মামলার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জামিল হাসানকে ধরতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করারও আদেশ দেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে জনাকীর্ণ আদালতের বিচারক বিএম তারিকুল কবীর এ রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন নওগাঁ সদর উপজেলার বারিল্লা উত্তর পাড়ার সুইট আলম, দিনাজপুরের চিরির বন্দর উপজেলার পলাশবাড়ী গ্রামের মোকদাদ বিন মাহতাব ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর সরকার পাড়ার হাসান জামিল।

মামলার বিবরণে জানা যায়, দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর থানার আন্ধারমুহা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে রেজাউল ইসলাম স্থানীয় টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজে লেখাপড়ার পাশাপাশি ওয়াল্ডভিশন-২১ নামে একটি মাল্টিলেবেল কোম্পানিতে চাকরি করতেন। একই সঙ্গে চাকরি করার সুবাদে দণ্ডিত আসামিদের সঙ্গে রেজাউলের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। রেজাউলের বাজাজ মোটর সাইকেলের প্রতি অপর বন্ধুদের চোখ পড়ে। তারা ওই মোটর সাইকেলটি হাতিয়ে নিতে রেজাউলকে হত্যার পরিকল্পনা করতে বন্ধু হাসান জামিলের বাড়ি বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর কৈমারী এলাকায় নিয়ে আসে।

২০১৫ সালের ৪ মার্চ সন্ধ্যায় দণ্ডিত আসামিরা সবাই মিলে নিহত রেজাউল ইসলামকে কৈমারী গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে দেয়।
রেজাউলের মোটর সাইকেলটি আসামি জামিলের আত্মীয়র বাড়িতে রেখে কর্মস্থলে ফিরে যায়।

ঘটনার ২দিন পর ৬ মার্চ পুলিশ বাঁশঝাড় হতে নিহতের অজ্ঞাতনামা মরদেহ উদ্ধার করে একটি হত্যা মামলা রুজু করে। ওদিকে মোটর সাইকেলসহ রেজাউল নিখোঁজ হওয়ায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করলে র‍্যাব-১৩ মাঠে নামে এবং হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ওই বছরের ২২ মে দন্ডিত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। উচ্চ আদালত থেকে ভুয়া জামিন নামা তৈরি করে অপর আসামি হাসান জামিল পলাতক থাকেন।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করলে হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়। পরে পুলিশ আসামিদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ৩ জনের বিরুদ্ধে একই বছরের ২৪ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।

লাইটনিউজ