বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

কোভিড থেকে সেরে উঠলে যেদিকে নজর দেবেন

ডা. লে. কর্নেল (অবঃ) মো. কবির আহমেদ খান

কোভিড-১৯ একটি সম্পূর্ণ নতুন রোগ। লক্ষণগুলো সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়। আংশিকভাবে এই ধারণার উপর ভিত্তি করে করোনাভাইরাস দ্বারা সংক্রমিতদের প্রাথমিকভাবে ১৪ দিনের জন্য আইসোলেটেড করা হয়।

কিছু সংখ্যক রোগী আছেন, যাদের প্রাথমিক অসুস্থতা এবং এর সংক্রমণ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও বহু সপ্তাহ বা মাস ধরে অসুস্থ থাকে।

যেহেতু দিন দিন এই ভাইরাসের প্রলম্বিত প্রভাবের মোকাবেলা করা জনসাধারণের সংখ্যা বাড়ছে, তাই তাদের জন্য এক বিশেষ পোস্ট-কোভিড-১৯ সিন্ড্রোম চালু হয়েছে।

কোভিড-১৯ পরবর্তী সিন্ড্রোম কী?

জুলাইয়ের শেষের দিকে, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) প্রথম বারের মত কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের স্বীকৃতি দেয়। পরীক্ষায় পজিটিভ এমন ২৯২ জনের একটি সমীক্ষায় সিডিসি দেখল যে, পরীক্ষার দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরেও ৩৫ শতাংশ তাদের ‘স্বাভাবিক স্বাস্থ্য অবস্থায়’ ফিরে আসেনি।

এদের মধ্যে ২০ শতাংশের বয়স ১৮-৩৪ এর মধ্যে এবং যাদের কোনো ক্রনিক মেডিকেল কন্ডিশনস ছিল না। তীব্র সংক্রমণের সমাধান হওয়ার বেশ কয়েক মাস পরেও রোগীরা শ্বাসকষ্ট, কখনও কখনও কাশি এবং গভীর ক্লান্তি অনুভব করে।

ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিন-এর পিএইচডি, নাটালি ল্যামবার্ট দ্বারা পরিচালিত একটি নতুন সমীক্ষা অনুসারে, করোনায় দীর্ঘদিন ধরে যারা ভুগছেন; তারা তাদের মধ্যে বিভিন্ন লক্ষণ দেখতে পান।

এগুলো হচ্ছে, ক্লান্তি, পেশি বা শরীরের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, মনোনিবেশ করতে অসুবিধা, ব্যায়াম করতে বা সক্রিয় হতে অক্ষম, মাথাব্যথা, ঘুমে অসুবিধা, দুশ্চিন্তা, স্মৃতি সমস্যা, মাথা ঘোরা, অবিরাম বুকের ব্যথা বা চাপ, কাশি, হাড়ের ব্যথা, হৃদস্পন্দন ও ডায়রিয়া।

এ ছাড়াও অস্বাভাবিক দৃষ্টি অস্পষ্টতা, অম্বল এবং কাঁপুনির মতো প্রভাব রয়েছে। অন্যান্য রোগীদের হৃদপিন্ডের সমস্যা, রক্ত জমাট বাঁধা, একটানা গলা ব্যথা এবং চুল পড়ার ঘটনার অভিজ্ঞতাও ঘটেছে।

সিএনএন হেলথের একটি প্রকাশনা অনুসারে, গবেষণা এখন ইঙ্গিত করছে যে, করোনভাইরাস একটি মাল্টি-সিস্টেম রোগ যা কেবল ফুসফুসকেই নয়; কিডনি, লিভার, হার্ট, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ট্র্যাক, মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং ত্বকের ও ক্ষতি করতে পারে।

কখন পোস্ট কোভিড-১৯ কেয়ার সন্ধান করবেন?

কোভিড-১৯ থেকে রোগীর ক্ষেত্রে সেরে উঠার পর, পোস্ট-ডিসচার্জ অথবা ডিসচার্জ-এর আনুমানিক ২ সপ্তাহ পর অথবা উল্লেখ্য রোগীর যদি অস্বাভাবিক কোন লক্ষণ দেখা দেয়; এমতাবস্থায় তার কোভিড-১৯ পরবর্তী সিন্ড্রোম কেয়ারের সন্ধান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নে কয়েকটি কোভিড-১৯ পরবর্তী সন্দেহজনক লক্ষণ দেয়া হল।

বিশ্রামের সময় শ্বাস নিতে সমস্যা, ক্লান্তি বা কম শক্তি, ক্ষুধা ও ওজন হ্রাস, ঘুমের অসুবিধা ও ক্রমাগত বুকে ব্যথা এবং বুকে বা ফুসফুসে জ্বালা অনুভব।

এছাড়া মানসিকভাবেও কিছু সমস্যা হতে পারে। যেমন ভুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক উদ্বেগ, স্পষ্টভাবে চিন্তা ভাবনায় অপারগ, সংগঠিতকরণ, পরিকল্পনা এবং সমস্যা সমাধানের মত দৈনন্দিন কাজগুলো করতে অসুবিধা হওয়া।

অন্য কোনো অসুখ থাকলে কী করবেন

ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থুলতার সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চলবেন। কোভিড-১৯ এর প্রভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা সাধারণত বেশি হয়ে যায়।

এছাড়া হাইপারটেন্সিভ রোগীদের ওষুধ ব্যবস্থাপনায়ও পরিবর্তন আনতে হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের বা হাঁপানি রোগীদের পালমোনারি ফাংশন টেস্ট করতে হতে পারে।

কোভিড ভালো হওয়ার পর যা করবেন

দৈনিক রাতে ৭-৯ ঘণ্টার ঘুম, দিনে প্রয়োজনমত হালকা নিদ্রা গ্রহণ, প্রচুর বিশ্রাম নেয়া, প্রচুর পানি পান করা, দিনে হালকা ব্যায়াম করা, ভারী এবং চর্বিযুক্ত খাবার যেমন ভাজা বা ফাস্ট ফুড পরিহার করা, এছাড়া সুষম এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।

লেখক: ডা. লে. কর্নেল (অবঃ) মো. কবির আহমেদ খান, সিনিয়র ফ্যামিলি ডক্টর, প্রাভা হেলথ

সূত্র : যুগান্তর