বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

জামিন পেলেন সাংবাদিক নার্গিস জুঁই ও তার পরিবার

মিথ্যা ও বোনোট মামলা থেকে জামিন পেলেন বিটিভির সিনিয়র সাংবাদিক ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য নার্গিস জুঁই। মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টের আমলি আদালত তাকেসহ তার পরিবারকে জামিন দেয়া হয়।

তার পক্ষের আইনজীবী মোহাঃ কবির হোসাইন বলেন, এ মামলা মিথ্যা ও বানোয়াট। নার্গিস জুঁই ও তার পরিবারকে হয়রানি ও অর্থ ব্যয়ের জন্য করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা করে তার ভাশুর সৈয়দ দোলোয়ার হোসেন। মূলত সবগুলো মামলাই হয়রানির উদ্দেশ্য করা হয়েছে। এসব বিষয় শুনে আদালত সাংবাদিক নার্গিস জুঁইসহ তারা পরিবারের সদস্যদের জাবিন দিয়েছেন।

নার্গিস জুঁই জানান, ৫/৭/২০২০ইং তার বাবার কিনে দেয়া ফ্ল্যাটে তার ভাশুরা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়ে গান পাউডার দিয়ে পুরো পরিবারকে হত্যার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ এসে তাদেরকে উদ্ধার করে। এই ঘটনার সময় অসংখ্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। এবং অসংখ্য সংবাদও প্রকাশ হয়। কিন্ত সে ঘটনা উল্টিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা করে নার্গিস জুঁই ও তার পরিবারে বিরুদ্ধে তার ভাশুরা। জুঁই এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও দোষীদের শাস্তির দাবি করেন।

জুঁই জানান, সে ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যে কোন সময় আমার ভাশুররা আমার ছেলে ও স্বামীকে হত্যা করতে পারে। তারা সব সময় আমাদের হত্যা হুমকি দেয়। বিভিন্ন ভাবে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করছে। সে আরো আশঙ্কা করছেন সন্ত্রাসীদের নিয়ে হামলা চালিয়ে আমার ফ্ল্যাট দখল করার ষড়যন্ত্র করছে আমার ভাশুর সৈয়দ দোলোয়ার হোসেন ও সৈয়দ মন্জুর হোসেন। আমাকে প্রতিনিয়ত ভয়ভিতি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে আমার ফ্ল্যাট তাদেরকে দিয়ে না দিলে পুরো পরিবারকে খুন করবে।

এদিকে, সাংবাদি নার্গিস জুইর স্বামী সৈয়দ শাহনেওয়াজ হোসেন অভিযোগ করেছেন, তার শশুরের টাকায় কেনা জায়গায় তার দুই ভাই সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন ও সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন মিলে তিন বছর আগে সাত তলা ভবন নির্মাণ করেছেন। ভবন নির্মাণের আগে সবাই মিলে ঘরোয়া বণ্টনামা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এতে সিদ্ধান্ত হয়, নীচ তলা তিন ভাইর জন্য এজমালী থাকবে। সেখানে দারোয়ান ও ড্রাইভার থাকবে। ২য় ও ৩য় তলায় আমি থাকবো। ৪র্থ ও ৬ তলা আমার বড় ভাই সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন ও ৫ম ও ৭ম তলা আমার সেজো ভাই সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন প্রাপ্ত হবে। এছাড়া, ছাদ সবার জন্য উম্মুক্ত থাকবে। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে আমার কাছ থেকে আমার দুই ভাই চুক্তিনামা দলিলে সই নেয়। আমি বেশ কিছুদিন যাবত লিখিত ও স্বাক্ষরিত চুক্তিনামা দলিলের কপি চাইলে আমাকে দেই দিচ্ছি বলে শুধু শুধু হয়রানি করছে। এখন আমি আমার উত্ত চুক্তিনামা কপি চাইলে আমাকে বাড়ির কোন ফ্ল্যাট দিবে না বলে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

বিভিন্ন সময় জোর করে আমার ভাইরা খালি স্ট্যাম্পে বাসায় আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয় ।এতে আমি হতবাক হয়ে পরি। এখন আমার বড় ভাই সৈয়দ দেলোয়ার হোসেন বলছে আমি তাদের নাকি নাদাবী নামা দিয়েছি। আসলে আমি কখনও তাদের নাদাবী নামা দেইনি। তারা ক্ষমতা ও টাকার জোরে আমাকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমতাবস্থায় আমার পাওনাকৃত ২য় ও ৩য় তলা ফ্ল্যাটের মধ্যে গত এক বছর ধরে ৩য় তলায় আমার স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজন নিয়ে বসবাস করিতেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা ২য় তলা বুঝিয়ে দিচ্ছে না।

এখন তারা আমাকে আমার ৩য় তলা থেকে তাড়িয়ে ফ্ল্যাট দখল করতে নানাভাবে হয়রানি ও হত্যার হুমকি দিচ্ছ । আমাকেসহ আমার স্ত্রী সন্তানকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এ বাড়ি থেকে চলে না গেলে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিবে। এসব বিষয়ে আমার স্ত্রী সাংবাদিক নার্গিস জুই প্রতিবাদ করলে তারা আমাদের মেরে ফেলাও হুমকি দিচ্ছে। বলছে সাংবাদিক মেরে ফেললে কিছু হয় না। এমতাবস্থায় আমি ও আমার পরিবারের সবাই সব সময় আতঙ্কে রয়েছি। এদিকে, সাংবাদিক নার্গিস জুই অভিযোগ করেছেন। আমার স্বামীর অন্য দুই ভাই ও তার সন্তানরা আমাদের দুইটি ফ্ল্যাট দখল করে দীর্ঘদিন ভাড়া দিয়ে খাচ্ছে। এখন আমরা ৩য় তলার একটি ফ্ল্যাট নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বসবাস করতেছি।

আমাদের ২ তলাও তারা বুঝিয়ে দিচ্ছে না। তারা এখন আমাদেরকে ৩য় তলা থেকে সরে যাওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের যে দুইটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার দলিলসহ সব ধরনের কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। এমনকি আগামী এক বছরের খাজনাও আমরা পরিশোধ করেছি। তারা ভূয়া কাগজ দেখিয়ে এখন তারা বলছে এ সম্পত্তি নাকি সব তাদের। তিনি জানান, আমাদের দুই ফ্ল্যাটের কাগজপত্র স্থানীয় কাউন্সিলর ও পঞ্চায়েত কমিটিকেও দেখিয়েছি। তারাও আমাদের সম্পত্তির কাগজপত্র দেখে বলছে এ সম্পত্বির মালিক আমরা। তিনি বলেন, গত বছরের ৫/৭/২০২০ অবস্হানরত ২য় তলার চাবি হামলা চালিয়ে আমাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। ২য় তলায় আমাদের ব্যবহারিত সব মালামালসহ তালা লাগানো আছে। এ বিষয়ে থানায় জিডি করা আছে।

তিনি বলেন, আমাদের কাজপত্র অনুযায়ী যদি আমরা এ সম্পদের মালিক হই তাহলে আমরা এ সম্পদ অবশ্যই পাবো। এখন আমার স্বামীর অন্য ভায়েরা কোন কাগজপত্র ছাড়া তা দাবি করলে তো হবে না। যদি তারা প্রমাণ করতে পারে পুরো ভবনটি তাদের তাহলে আমরা স্বেচ্চায়, বাড়ি ছেড়ে দেবো। তারা গত দুই বছর যাবত আমাদের দুইটি ফ্ল্যাট জোর করে দখল করে ভাড়া দিয়ে খেয়েছে। এসব বিষয় নিয়েই মূলত তাদের সাথে বিরোধ চলছে। এমতাবস্থায় সম্প্রতি তারা আমি ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছে। পরে আদালত মঙ্গলবার আমাদের জাবিন দিয়েছেন।

শাহনেওয়াজ আরো জানান, আমার ভাতিজা সৈয়দ আরমান হোসেন তার সন্ত্রাসীবাহীনি দিয়ে আমাদের সবসময় প্রান নাশের হুমকি দেয়। এছাড়া, আরো মামলা করার হুমকি দেয় সব সময়। আমার সম্মান নষ্ট করতে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ পত্র দেয়। আমার ভাইয়ের ছেলে সৈয়দ আরমান হোসেনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী আছে যা নিয়ে সে সবসময় অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কার্যকম চালাচ্ছে। এবং তাদের দিয়ে আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই ও তাদের শাস্তি চাই।

তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে গত ২১/৮/২০২০ শিংটোলা পঞ্চায়েত বিচার করে। পরে এই বিচারে অসংখ্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। তখন আমার ভাইরা প্রভাব খাটিয়ে বিচার মানে না বলে বয়কট করে।

লাইটনিউজ/এসআই