বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

নেত্রকোনায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ার অপেক্ষায় ৯৬০ পরিবার

নেত্রকোনায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবার অপেক্ষার প্রহর গুনছে ১০ উপজেলার ৯ শ ৬০টি ভূমিহীন গৃহহীন দরিদ্র পরিবার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে নেত্রকোনায় জেলায় ভুমিহীন গৃহহীন অসহায় ৯শ’ ৬০টি পরিবারের মাঝে উপহার স্বরুপ নির্মিত এই আধা পাকা নতুন ঘড় গুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৩ জানুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন ঘর ও জমি বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন ।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ৯৬০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে গৃহ প্রদান ও ৭০টি পরিবারকে আশ্রয়ন প্রকল্প কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠান বিষয়ক অবিহিতকরণ প্রসঙ্গে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সাংবাদিক সম্মেলন হয়। জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে সংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জিয়া উদ্দিন সুমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেওয়ান মোঃ তাজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা মেজিষ্ট্রেট সুহেল মাহমুদসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আবদুর রহমান জানান, নেত্রকোনা জেলার ১০উপজেলায় ৯৬০টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে গৃহ প্রদান ও ৭০টি পরিবারকে আশ্রয়ন প্রকল্পে ঘর প্রদান করা হচ্ছে। আগামী ২৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একযুগে সারা দেশব্যাপি এ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন। এ সময় জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনার অবদান গৃহহীনের বাসস্থান””আশ্রয়নের অধিকার-শেখ হাসিনার উপহার”এই মুজিব শতবর্ষে ২ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত প্রদান পূর্বক একক গৃহ নির্মাণের মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের পুনর্বাসনে ভূমিহীন গৃহহীন পরিবারের স্থায়ীভাবে বাসযোগ্য বাসভবন নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় ১৬ কোটি ৪১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে জেলায় ৯শ’ ৬০টি আধা পাকা ঘরবাড়ি নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে জেলা সদরে ৪৩টি,বারহাট্রা উপজেলায় ৪৫টি,আটপাড়ায় ৯৮টি,পূর্বধলায় ৫৩টি,দূর্গাপুরে ৩৫টি,কেন্দুয়ায় ৫০টি,কলমাকান্দায় ১০১টি,মদনে ৫৬টি,মোহনগঞ্জে ৩৬টি এবং হাওর উপজেলা খালিয়াজুরিতে ৪৪৩টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রত্যেকটি পরিবারের নামে বরাদ্দকৃত ১ লাখ ৭১ হাজার করে টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৯-৬ফুট বাই ২২ফুট প্রস্থের দুটি শয়নকক্ষ, একটি রান্না ঘর, সংযুক্ত টয়লেট-বাথরুম ও সামনে বারান্দাসহ রঙিন টিনের ছাউনি দ্বারা এসব ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। যার পুরোটাই বহন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। এছাড়াও ভূমিহীন গৃহহীন পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ এবং পানি সরবরাহে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) এর ব্যবস্থাপনায় প্রতি ১০টি পরিবারের জন্য একটি করে সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপন ও পানি সরবরাহের কার্যক্রম উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তদারকির মাধ্যমে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ঘর নির্মানের কাজ।

প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষন করেছেন জেলা প্রশাসক কাজি মোঃ আব্দুর রহমান,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। এছাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানবৃন্দ কমিটির অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা,উপজেলা প্রকৌশলী ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিরাও নিয়মিত মনিটরিং করছেন গৃহ নির্মাণ কাজের।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন,এই প্রকল্পে ভিক্ষুক,প্রতিবন্ধী,বিধবা,স্বামী পরিত্যাক্তা,প্রবীণ ভূমিহীন ব্যক্তিদের উপকারভোগী হিসেবে বাছাই করা হয়েছে। নেত্রকোনা সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ এরশাদুল আহমেদ বলেন,সদরের বড়গাড়া এলাকায় ২২ জন,রাজেন্দ্রপুরে ১৪ জন,ল²ীগঞ্জে চারজন ও ব্যক্তি-উদ্যোগে দান করা জায়গায় তিনজনকে ঘর ও জমি দিয়ে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে শত ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে।

জেলার আটপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা সুলতানা জানা,উপজেলার শুনই,দুওজ এবং সুখারী এই ৩টি ইউনিয়নে গুচ্ছগ্রাম-২ পর্যায় নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। উপজেলার সুখারি ইউনিয়নের সোনাজুর মৌজায় ২ একর ভূমির উপর ২০ টি,শুনই ইউনিয়নের ভরতোষী গ্রামে এক একর ৮৬ শতাংশ ভূমির উপর ৫০ টি ও দুওজ ইউনিয়নের শ্রীপুর চারিগাতিয়া মৌজায় ২৮ টি পরিবার পুনর্বাসনের কাজ চলছে। মোট ৯৮ জন ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসন করা হবে। ইতোমধ্যে গৃহ নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন আটপাড়া-কেন্দুয়ার সংসদ সদস্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৫ আল মামুন মুর্শেদ।

খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএইচএম আরিফুল ইসলাম বলেন,হাওড়াঞ্চলের ওই উপজেলায় ৪ শ’ ৪৩টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। হাওড়ে ঢেউয়ের ভাঙ্গন,প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রভৃতি বিবেচনা করে সুবিধাজনক স্থানে তাদের জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। টেকসই ও সুন্দর ঘর নির্মাণে সব সময় তদারকি করা হয়।

দূর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা খানম বলেন,উপজেলার চন্ডিগড়,ফান্দা ও কৃষ্ণেরচর এলাকার ৩৫টি অসহায় ভূমিহীন গৃহহীন পরিবারকে নতুন ঘরে বসতী স্থাপন করে স্থায়ী বন্দোবস্ত দেয়া হচ্ছে।

লাইটনিউজ/এসআই