বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

কফি পানে দাঁতের দাগ, ঘরোয়া চিকিৎসা

কফি পান করতে কার না ভালো লাগে? করোনাভাইরাস সংক্রমণকালীন চায়ের পাশাপাশি কফি পান করার পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের এ ব্যস্তজীবনে অনেক সময় ক্লান্তি ভর করে। কফি পান করলে শরীরের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। শরীর ও মন চাঙা হয়ে ওঠে।

আমাদের দেশে যখন করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল, তখন আমার স্পষ্ট মনে আছে- একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কফি কিনতে গিয়ে আমি তা পাইনি। করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য মানুষ সব কফি কিনে ফেলেছিল। কফি আমি নিজেও খুব পছন্দ করি। তবে ক্রমাগত কফি পান করার কারণে দাঁতের এনামেলের ওপর বাদামি বর্ণের দাগ পড়ে। তখন দেখতে খুব খারাপ দেখা যায়। খারাপ লাগাটা অবশ্যই আপেক্ষিক একটি বিষয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণকালীন কফি পান করার কারণে ঘরোয়া পদ্ধতিতে আপনি চাইলে দাঁতের দাগ দূর করতে পারেন। হাইড্রোজেন-পার-অক্সাইড এবং বেকিং সোডার মিশ্রণের মাধ্যমে দাঁতের এনামেলের ওপর কফির দাগ উঠান সম্ভব। অক্সিডাইজার হিসেবে হাইড্রোজেন-পার-অক্সাইড কফির ক্ষুদ্র কণাকে অপসারণ করে। বেকিং সোডা এ কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করে থাকে। বেকিং সোডা এবং হাইড্রোজেন-পার-অক্সাইড মিশিয়ে পেস্টের মতো করতে হবে। এ মিশ্রিত পেস্ট দাঁতের ওপর ১০ মিনিটের জন্য প্রয়োগ করতে হবে। কোনো সমস্যা না হলে ২০ মিনিট পর্যন্ত রাখা যেতে পারে। এরপর মিশ্রিত পেস্ট অপসারণ করে রেগুলার টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করে নিতে হবে।

তবে এ নিয়ে আমাদের দেশে কোনো গবেষণা যেহেতু হয়নি, তাই এর কার্যকারিতা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্নের অবকাশ থেকে যায়। আর এ কারণেই অন্যান্য পদ্ধতি আলোচনা করা প্রয়োজন। হাইড্রোজেন-পার-অক্সাইড পানি মিশিয়ে কুলকুচি করতে পারেন প্রতিদিন অথবা কিছু দিন পর পর।

একটি বিষয়ে আলোচনা না করলেই নয়। সেটি হল, কফি পান করার সময় কিছু নিয়ম-নীতি মেনে চললে দাঁতের এনামেলের ওপর দাগ পড়বে না; আর যদি দাগ পড়েও তাহলে সেটি অনেক দাগ হবে না। অল্প অল্প করে অনেক সময় লাগিয়ে কফি পান করার পরিবর্তে এক বসায় ১০ মিনিটের মধ্যে কফি পান শেষ করুন। কিন্তু তাই বলে ১ ঘণ্টা সময় নেয়া কোনো অবস্থাতেই ঠিক হবে না। কফি পান শেষ হয়ে গেলে এক গ্লাস পানি দিয়ে মুখের অভ্যন্তরে ভালোভাবে কুলকুচি করবেন। আর আপনি যদি কোনো অনুষ্ঠানে থাকেন, তাহলে মিনারেল ওয়াটারের বোতল থেকে একটু পানি মুখে নিয়ে নাড়াচাড়া করে তা খেয়ে ফেলুন। এতে করে কফি পান করার কারণে দাঁতের এনামেলের ওপর কোনো দাগ পড়বে না। আর আপনার সামাজিকতাও কোনোভাবেই নষ্ট হবে না।

আপনি যদি আইস কফি বা কোল্ড কফি পান করতে পছন্দ করেন, তাহলে অবশ্যই একটি উন্নতমানের স্ট্র বা পাইপ দিয়ে কফি পান করলে দাঁতের এনামেলের ওপর কফির দাগের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। লক্ষ রাখবেন, আইস কফি পান করার সময় কোনোভাবেই আইস বা বরফ খণ্ড কামড়াবেন না। যদি এ রকম করেন, তাহলে আপনার দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ধীরে ধীরে দাঁতের এনামেলে ফাটল দেখা দিতে পারে। তবে এটি একদিনে না-ও হতে পারে। সাবধান থাকাই ভালো।

হট কফি বা কোল্ড কফি পান করার পর যদি ব্রাশ করার সুবিধা থাকে অর্থাৎ আপনি যদি বাসায় বা অফিসে নিজস্ব রুমে অবস্থান করেন, তাহলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই দাঁত ব্রাশ করে নিবেন। এতে করে কফির কারণে দাঁতের এনামেলে কোনো ধরনের দাগ পড়বে না। ফল এবং শাকসবজি খাবেন। ফলের মধ্যে মাল্টা, আপেল, নাশপাতি, জামবুরা ও আমড়া খেতে পারেন।

তবে একটি কথা না বললেই নয়, তা হল- আপনার দাঁত যদি অতি সংবেদনশীল হয় অর্থাৎ দাঁত শিরশির করে, তাহলে কুলকুচি ছাড়া বাকি ঘরোয়া পদ্ধতি অর্থাৎ দাঁতে পেস্ট লাগিয়ে চেষ্টা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সংবেদনশীল দাঁতের জন্য এনামেলের ওপর দাগ এবং সংবেদনশীলতার চিকিৎসা একসঙ্গে হয়ে যাবে। আলাদাভাবে তেমন কোনো খরচ হবে না।

তবে ঘরোয়া পদ্ধতি অবশ্যই আপনারা প্রয়োগ করতে পারেন। বিশেষ করে কুলকুচি করা, দাঁত ব্রাশ করা এবং নিয়ম-কানুন অনুসরণের মাধ্যমে অবশ্যই আপনার দাঁতের এনামেলের ওপর কফির দাগ ধীরে ধীরে চলে যাবে। এছাড়া বাজারে দাঁতের দাগ উঠানোর জন্য কিছু সলিউশন পাওয়া যায়, সেটি ব্যবহার করে দাঁতের দাগ উঠান যায়। তবে এসব ক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা অতীব জরুরি।

যারা কফি পান করেন, আমি তাদের কফি পান করতে নিষেধ করব না। এটুকু বলব, অতিরিক্ত কফি পান করবেন না। করোনাভাইরাসের সংক্রমণকালীন মাশরুম কফি পান করতে পারেন। বিশ্বের নামি-দামি ব্র্যান্ডের মধ্যে গ্যানোকফি থ্রি-ইন-ওয়ান পান করলে আপনি অনেক ধরনের উপকার পাবেন। একটু সচেতন হলে আর দাঁত ও মুখের যত্ন নিলে আপনি সার্বিকভাবে অনেক ভালো থাকবেন।

লাইটনিউজ