বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

অনিশ্চিত যাত্রায় বাড়িফেরা মানুষ

ডেস্ক রিপোর্ট : করোনার কারণে নিজ নিজ কর্ম এলাকায় ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছে সরকার। তবে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অনিশ্চিত জেনেও ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে।

রোববার (৯ মে) দুপুরে রাজধানীর আমিনবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে ঢাকা ছাড়ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পাটুরিয়া ফেরিঘাটে যাওয়ার জন্য তারা আমিনবাজার এলাকায় এসে ভিড় করছেন। সেখান থেকে বার বার বাস বদল করে, মোটরসাইকেল অথবা মাইক্রোবাস ভাড়া করে তারা পাটুরিয়া যাচ্ছেন।

মেহেদী হাসান নামে এক যাত্রী যাবেন খুলনা। তিনি বলেন, ‘পরিবার নিয়ে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু শুনেছি ফেরি বন্ধ। তবে ফেরি না চললেও স্টিমার চলছে। ছোট ছোট লঞ্চ, ট্রলার চলছে শুনেছি। ঘাটে তো যাই, এক ব‌্যবস্থা হয়ে যাবে।’

যাত্রীরা জানান, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসে জনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। অন্যদিকে বাসে জনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। তবে প্রশাসনের তৎপরতায় যাত্রীদের গাবতলী থেকে হেঁটে আমিনবাজার গিয়ে ঘাটের গাড়ি ধরতে হচ্ছে।

আরিফুল ইসলাম নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘মাকে নিয়ে রওনা হয়েছি এই অনিশ্চিত যাত্রায়। তবে লঞ্চ ও ট্রলার চলছে জেনেই যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনার পরেও বাড়ি ফেরা মানুষদের কোনোভাবেই আটকে রাখা যাচ্ছে না। গাবতলী থেকে কোনো গাড়ি ছেড়ে না যাওয়ায় ঘরে ফেরা মানুষ আমিনবাজারে আসছে। এখানে এসে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য কিছু না কিছু পাওয়া যাচ্ছে।’

ফারুখ হাসান নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘দূরপাল্লার বাস বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু মানুষের যাত্রা তো বন্ধ নেই। বরং ঝুঁকি নিয়ে মানুষ বাড়ি ফিরছে। এর চেয়ে দূরপাল্লার বাস খোলা রেখে শতভাগ স্বাস্থ‌্যবিধি মেনে চলার ব‌্যবস্থা করলে ভালো হতো।’
আসমা নামে এক যাত্রী বলেন, ‘ঈদ করতে বাড়িতে যাচ্ছি। ঈদ শেষে আবার ঢাকায় আসবো। প্রাইভেট কারে যাবো। ভাড়া একটু বেশি লাগবে, তবে বাড়িতে যেতে পারবো এটাই স্বস্তির।’

করোনা সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা গত ৫ এপ্রিল থেকে কয়েক দফায় বাড়িয়ে ১৬ মে পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধির মেনে চলার শর্তে আন্তঃজেলা বাস সার্ভিস চালুসহ দোকানপাট খুলে দিয়ে নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।