বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

এমডি নিয়োগে ব্যর্থতায় ডিএসইকে শোকজ

সাত মাসের বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি যোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক নির্বাচন করতে পারেনি। ফলে পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে ডিএসই নিজস্ব বিধি-বিধান লঙ্ঘন করেছে।

ডিএসই এ ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারে না বলে মনে করছে শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তাই এ ব্যর্থতার কারণ জানতে ডিএসই’র কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশন।

এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ডিএসই’র চলতি দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠিয়েছে বিএসইসি। ডিএসই ও বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসি মনে করে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (৯০ দিন) ডিএসই তাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (বোর্ড অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) রেগুলেশন, ২০১৩ এর রেগুলেশন ১০(৩) লংঘন করেছে।

তাই, এ ব্যর্থতার কারণ ডিএসইকে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য লিখিত হবে জানাতে বলেছে বিএসইসি। ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য ডিএসইকে মঙ্গলবার (১৮ মে) পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ২০২০ সালের ৮ অক্টোবর ডিএসইর তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ছানাউল হক পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ৪ নভেম্বর এমডি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ডিএসই। এদিকে, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ডিএসই’র এমডি পদের জন্য ২১ জন প্রার্থী আবেদন করেন। তাদের মধ্য থেকে ৭ জন প্রার্থীকে বাছাই করে গত ১০ ডিসেম্বর সাক্ষাৎকার নেয় ডিএসইর নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন (এনআরসি) কমিটি। এমডি পদে আবেদন করা প্রার্থীদের মধ্যে এম আশিক রহমানকে বাছাই করে ডিএসই। পরবর্তীতে এমডি পদে তাকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিএসইসির কাছে অনুমতি চায় ডিএসই।

পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার তিন মাস পর অর্থাৎ চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি দায়িত্ব হস্তান্তর করে ডিএসই থেকে বিদায় নেন কাজী ছানাউল হক। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি সার্বিক দিক বিবেচনা করে ডিএসইর এমডি পদের জন্য আশিক রহমানকে অযোগ্য বলে অসম্মতি জানায় বিএসইসি। আশিকুর রহমান এমডি পদে নিয়োগ না পেয়ে ডিএসইর প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (সিআরও) পদে আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবারও ডিএসই আশিকুর রহমানকে সিআরও পদের জন্য নির্ধারণ করে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বিএসইসিতে আবেদন জানায় ডিএসইর পর্ষদ। বর্তমানে ডিএসইর ওই আবেদনটির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা ডিএসইর কাছে এমডি নিয়োগের বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা জানতে চেয়েছি। ডিএসইর বিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমডি নিয়োগ দিতে না পারায় কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

ডিএসইর পরিচালক মো. রকিবুর রহমান বলেন, ‘ডিএসই’র এমডি পদে আমরা যোগ্য লোক খুঁজছি। এ কারণে আমরা কয়েক দফা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম। এবারও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এবার এমডি পদে নিয়োগে যোগ্যতার ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। আশা করছি, এমডি পদে যোগ্য লোক পাওয়া যাবে।’

এ বিষয়ে বর্তমানে ডিএসই’র ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘এমডি নিয়োগের বিষয়ে বিএসসি আমাদের কাছে ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএসইসির চিঠি জবাব দেব।’

প্রসঙ্গত, ডিএসই’র প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) আব্দুল মতিন পাটোয়ারী অসুস্থ থাকায় সাইফুর রহমান মজুমদার সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে এমডির দায়িত্ব পালন করছেন।