বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

মেধার ভিত্তিতেই নিয়োগ হবে, আশাবাদী এনটিআরসিএ

স্টাফ রিপোর্টার : বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে। আড়াই হাজার শিক্ষকের নিয়োগ দেওয়ার হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে। আপিলের শুনানির জন্য আগামী ২৭ জুন তারিখ নির্ধারণ করেছে চেম্বার আদালত। এদিন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এর শুনানি হবে।

এর মাধ্যমে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তির ৫৪ হাজার পদে নিয়োগের সুপারিশ করতে পারছে না এনটিআরসিএ।

সুপারিশের ফল প্রকাশের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে এনটিআরসিএর সচিব ড. এ টি এম মাহবুব-উল করিম বলেন, রিটকারীদের আইনজীবীরা বলছেন, মানবিক জায়গা থেকে আড়াই হাজার শিক্ষককে নিয়োগ দিতে হবে। এটা কোনো মামার বাড়ির আবদার নয় যে, চাইলেই কাউকে নিয়োগ দিয়ে দেওয়া হবে। এটা মেধার জায়গা। এখানে যারা মেধায় এগিয়ে থাকবেন, তারাই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন।

তিনি বলেন, ‘এর আগে দ্বিতীয় গণবিজ্ঞপ্তিতে আমরা শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছি। এখন কেউ একজন পড়াশোনা শেষ করে দীর্ঘকাল পরে ৪০-৫০ বছর বয়সে এসে ৪০-৪৫ মার্ক নিয়ে রিট করলেই তাদের কেন চাকরি দিয়ে দিতে হবে? বিষয়টি মেধার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা মেধাবী শিক্ষক চাই। এখন আমরা যদি এ রিটকারীদের নিয়োগ দিয়ে দেই, এটা হবে মেধাবীদের সঙ্গে প্রহসন। এখন বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে গেছে। আমাদের আইনজীবী সেখানে টু দ্য পয়েন্টে আরও স্ট্রংলি কথা বলতে পারবেন। আশা করছি, আদালত আমাদের দাবি মেনে প্রকৃত মেধাবীদের নিয়োগের সুযোগ করে দেবেন।’

চাকরি প্রার্থীদের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের কষ্ট আমরা বুঝি। কিন্তু বর্তমানে যারা এ পরিস্থিতিটা তৈরি করে রেখেছে, এতে নিয়োগ প্রার্থীদেরও কষ্ট করতে হচ্ছে।’

নিয়োগের এ দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিয়োগ প্রার্থীরা। তারা বলছেন, ‘তিন ধাপে আমাদের পরীক্ষা নিয়ে চুড়ান্ত ফলাফল দিয়েছে এনটিআরসিএ। চুড়ান্ত সুপারিশও করবে এনটিআরসিএ।’

এ বিষয়ে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাশী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি শান্ত আহমেদ বলেন, ‘পরিস্থিতি দেখে যা মনে হচ্ছে, তাতে নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি না দিয়ে সকলকে মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া উচিত ছিল। আমরা পরিষ্কার বলতে চাই- এনটিআরসিএ আমাদের পরীক্ষা নিয়েছে, চূড়ান্ত ফলাফল দিয়েছে এনটিআরসিএ, চুড়ান্ত সুপারিশও করবে তারাই। আমরা কোনো মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আবেদন করেছি, এনটিআরসিএ মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিবে। তাই আর কোনো কালক্ষেপণ নয়, দ্রুত ফলাফল দিতে হবে। উচ্চশিক্ষিত এসব মেধাবী বেকারদের মেধা ও ঘাম আর অশ্রুভেজা আবেদনের টাকার কি কোনো মূল্য নেই এই দেশে? প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।’

২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট একটি রায় দিয়েছিলেন। ওই রায়ে কয়েক দফা নির্দেশনা ছিল। এর মধ্যে একটি ছিল সম্মিলিত মেধা তালিকা অনুযায়ী রিট আবেদনকারী (১ থেকে ১২ তম নিবন্ধনধারী) এবং অন্যান্য আবেদনকারীদের নামে সনদ জারি করবে। কিন্ত ২ বছরেও রায় বাস্তবায়ন না করায় রিট আবেদনকারীরা আদালত অবমাননার আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানি করে ২০১৯ সালে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এ রুল বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় ৫৪ হাজার পদের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে এনটিআরসিএ। এরপর নিয়োগ থেকে বিরত থাকতে একটি আবেদন করেন রিটকারীরা। হাইকোর্ট গত ৬ মে এ রিটকারীদের পক্ষে রায় দেন। এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ দেন। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে ১৩ জুন আপিল করে এনটিআরসিএ। আগামী রোববার (২৭ জুন) আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এটির শুনানি হবে।

সূত্র : রাইজিংবিডি