বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

কক্সবাজারে খুলছে হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউস

কক্সবাজার সংবাদদাতা : করোনার কারণে দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সীমিত পরিসরে কক্সবাজারের হোটেল- মোটেল, গেস্ট হাউস ও রেস্টুরেন্ট খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে যথারীতি বন্ধ থাকবে পর্যটন স্পটগুলো।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এক সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের নির্দেশনায় জরুরি প্রয়োজনে হোটেল-মোটেল খুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত হয়। তবে ৫০% রুম বুকিং হবে এবং পর্যটকদের রুম ভাড়া না দেওয়ার নিদের্শনা রয়েছে।

তবে হোটেল-মোটেল খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও বেশিরভাগ হোটেল খোলা হয়নি। তালা ঝুলে আছে প্রধান ফটকে। পর্যটন স্পট বন্ধ রেখে হোটেল-মোটেল খুলে দেওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরা। ৮০% পর্যটকের ওপর নির্ভর করে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলগুলো চলে। প্রায় সাড়ে ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল এবং গেস্ট হাউস পর্যটকের ওপর নির্ভরশীল। কিন্ত পর্যটন স্পট বন্ধ থাকলে কিংবা পর্যটক আসতে না পারলে এই হোটেল- মোটেল এবং গেস্ট হাউসগুলোতে কে থাকবে? কেউ যদি না থাকতে পারেন তাহলে খোলার প্রয়োজন আছে কি না এমন দ্বিধা-দ্বন্দের মধ্যে রয়েছে মালিক-ব্যবসায়ীরা।

তবে তাদের মধ‌্যে কেউ কেউ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘অন্তত এতোদিন পর হলেও জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে হোটেলগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।’ তারা আশা করছেন- সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হলে পর্যটনস্পটগুলোও খুলে দেওয়া হবে।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, ‘প্রায় ৩০০ হোটেল খোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অনেক দিন বন্ধ থাকায় অপরিস্ককার হয়ে যাওয়া হোটেলগুলো ধুয়ে-মুছে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রেস্টুরেন্টগুলোতে রান্না-বান্নার কাজও চলছে।’

এদিকে বিচ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন দোকানপাট বন্ধ থাকার কারণে মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক কর্মচারীদের বেতন ও দোকানের ভাড়া বাকি। হোটেল-মোটেল যেভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে, সেভাবে পর্যটন স্পটগুলো যদি খুলে দেওয়া হতো তাহলে আমরা বেশি খুশি হতাম, উপকৃত হতাম।’

হোটেলের অনেক কর্মচারী এখন রিকশা-অটো রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। পর্যটন স্পট কবে খোলা হবে সে চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছেন বলেন জানান অনেকে।

কলাতলী আদর্শ গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘কক্সবাজারের একটি হোটেলে দীর্ঘ ১৫ বছর কর্মচারী হিসেবে ছিলাম। কখনো ভাবিনি হোটেলটা ছেড়ে দিয়ে আমাকে রাস্তায় রিকশা নিয়ে নামতে হবে। মালিকও আমাকে ফ্রিতে বেতন দিয়ে চালাবেন কী করে? তাই পেটের দায়ে হোটেলে ব্যবসায় ছেড়ে দিয়ে রিকশা চালাচ্ছি।’

সৈকতের ঝিনুক মার্কেটের ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘সারা জীবন পর্যটন ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। কোনো পেশায় যুক্ত হইনি। এখন পর্যটন স্পট বন্ধ। লজ্জার কারণে কোনো কাজ করতে পারছি না। এদিকে পরিবারের অবস্থাও ভালো না। কী করবো ভেবে পাচ্ছি না। যদি পর্যটন স্পট খুলে দেওয়া হতো তবে উপকার হতো।’

অতিরিক্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান বলেন, ‘কক্সবাজারে পর্যটন এলাকার হোটেল-মোটেলের সঙ্গে যাদের জীবিকার নিবিড় সম্পর্ক, এসব বন্ধ থাকলে যাদের সংসারে অভাবের টানা-পোড়ন চলে, তাদের দাবির প্রেক্ষিতে শর্ত মেনে হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসগুলো খুলে দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি বাস্তবায়নের জন্য একটি মনিটরিং কমিটিও গঠন করা হয়েছে। দিকনির্দেশনা ও শর্তসমূহ না মানলে আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ জানান, ‘হোটেল খোলা হলেও অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পালন করতে হবে ৫০% রুম বুকিংয়ের পাশাপাশি কোনো পর্যটককে রুম ভাড়া দেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র বিশেষ কাজে যারা কক্সবাজার যাবে তাদের জন্য এই আবাসিক হোটেলগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, কক্সবাজারে দিন দিন করোনার সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে। গত দেড় বছরে ১২২ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। যেখানে ২১ জন রোহিঙ্গা। সবমিলে প্রতিদিন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে কক্সবাজারে। এসব চিন্তা করে হোটেল-মোটেল এবং গেস্ট হাউসগুলো বন্ধ ছিল।

এদিকে হোটেল-মোটেল, কটেজ ব্যবসায় সমিতির সঙ্গে জড়িতরা পর্যটন স্পট ও হোটেলগুলো খুলে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করছেন। তাদের দাবি- হয়তো পর্যটন স্পটসহ হোটেল-মোটেল খুলে দিতে হবে, না হয় ভাত দিতে হবে। এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫০% হোটেল খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়।