বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

পুরোনো কৌশলে গাদাগাদি করে ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার : বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থেকে ঈদুল ফিতরের আগমুহূর্তে সড়ক, রেল ও নৌপথ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপরও ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে সড়কে ঘরমুখো মানুষের ঢল দেখা গেছে। বাস, ট্রেন ও লঞ্চ বন্ধ থাকলেও প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ট্রাক, পিকআপ ও মোটরসাইকেলে ঢাকা ছাড়েন লাখ লাখ মানুষ। এবার করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ায় ঈদুল আজহার একমাস আগেই দূরপাল্লার বাস, ট্রেন ও লঞ্চ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরও ঘরমুখো মানুষের যাত্রা থেমে নেই। সেই পুরোনো কৌশলে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ট্রাক ও মোটরসাইকেলে ঈদের আগেই গাদাগাদি করে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন মানুষ।

বুধবার (২৩ জুন) সরেজমিন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও আব্দুল্লাপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দিনের বেলায় এসব বাস স্ট্যান্ডে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ও মোটসাইকেল খুব একটা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা না গেলেও সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বাস স্ট্যান্ডে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। রাত যত গভীর হতে থাকে যাত্রীদের চাপ বাড়ার পাশাপাশি প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসের ভিড় বেড়ে যায়। দাঁড়িয়ে থাকা যানবাহনগুলোতে একটু বেশি টাকা দিয়ে হলেও ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ।

ফেনী ও কুমিল্লায় যাওয়ার জন্য যাত্রাবাড়ী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করেন শফিকুজ্জামানসহ কয়েকজন যাত্রী। শফিকুজ্জামান বলেন, ফেনীতে যাওয়ার জন্য রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে যাত্রাবাড়ীতে এসেছেন। এখান থেকে কোনো মাইক্রোবাস পেলে চড়বে। আর যদি মাইক্রোবাস নাই পান, তাহলে লোকাল বাসে চড়ে চট্টগ্রাম রোডে গিয়ে অন্য গাড়িতে ওঠার পরিকল্পনা করেছেন। শফিকুজ্জামানের মতো অনেকেই ভেঙে ভেঙে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য যাত্রাবাড়ী, গাবতলী ও আব্দুল্লাপুর বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছেন মানুষ।

অন্যদিকে সাভার প্রতিনিধির তথ্য মতে, করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে সরকারের ঘোষিত লকডাউনের মধ্যেও সাভারে বাইপাইলের বাস কাউন্টারগুলো থেকে দূরপাল্লার বাস চলছে। হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে বাসের যাত্রী ডাকা হচ্ছে। অনেকে আবার খালি মুখেও ডাকাডাকি করছেন। দেশের উত্তরাঞ্চলের উদ্দেশে যাত্রী ঠাসাঠাসি করে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ছেড়ে যাচ্ছে মাইক্রোবাসে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাইপাইল আজিজ পাম্পের সামনে থেকে ৫০-৬০টি মাইক্রোবাস ছেড়েছে। নিয়ম না মেনে মাইক্রোবাসে যাত্রী বোঝাই করা হয়েছে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় কাউন্টারের স্টাফরাই মূলত এই কাজ করছেন। কমিশন হিসেবে মাইক্রোবাস চালকদের কাছ থেকে যাত্রী প্রতি যাত্রী প্রতি ২০০ টাকা নিচ্ছেন তারা।

স্ত্রীকে রংপুর পাঠানোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন শাহিন আলম বলেন, ওর ভাইভা ছিল চট্টগ্রামে। কাইলকা এখান থেকে চট্টগ্রামে যাইতে পারে নাই। আবার রংপুরে ক্লিনিকে চাকরি করে। আইজকা না গেলে চাকরি থাকবে না। ভাড়াতো ১০০০ টাকা করে নিচ্ছে। যতটা সিট ততজন নিচ্ছে। আমাদের বলছে ১৩ জন যাবে।

বগুড়ার যাত্রী আশারফ হোসেন বলেন, গাদাগাদি হলেও কিছু করার নাই ভাই। আমাদের বাড়িত যেতে হবে। ভাড়া ৬০০ টাকা নিছে।

এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও ট্রাফিক বিভাগ) আব্দুল্লাহ হিল কাফী বলেন, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের নন্দন ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাড়ইপাড়ায় আমাদের চেকপোস্ট আছে। কোনো গাড়ি সাভার থেকে পাশের জেলা মানিকগঞ্জ ও গাজীপুরে প্রবেশ করতে পারবে না। বিকল্প রুট ধামরাইয়ের কালামপুর হয়ে মির্জাপুরগামী অনেক বাস আটক করা হয়েছে। লোকাল বাসেও যারা অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেবো।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঢাকার আশপাশের চার জেলাসহ সাত জেলায় মঙ্গলবার থেকে ৯ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। জেলাগুলো হলো নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ী। এসব জেলায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।