বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

লিলার দিল্লি বুটিক্স কুর্তি মন কেড়েছে লক্ষ নারীর

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : বাংলাদেশের অনলাইন বুটিকের জগতে পরিচিত মুখ লিলা রোজারিও ও তার ব্র্যান্ড ‘রেড রোজ ক্রিয়েশন’। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং নেতৃত্বের গুণে লিলা শুরু করেছেন তার অনলাইন ভিত্তিক বুটিক শপ।

লিলা রোজারিওর জন্ম নাটোর জেলার, বরাইগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর গ্রামে। শৈশব গ্রামে কাটলেও বেশির ভাগ সময়ই তার কেটেছে বাড়ির বাইরে। মাধ্যমিক পাশ করে উচ্চমাধ্যমিক পড়া শেষ করে নাটোরের রানিভবানি কলেজ থেকে, তারপর অনার্স ঢাকার তেজগাঁও কলেজ ও মাস্টার্স ইডেন কলেজ থেকে।

উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা কখনোই মাথায় ছিল না লিলার।পড়াশোনা চলাকালীন সময় থেকেই প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর চাকরি করেছেন ৪টি প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু পারিবারিকভাবে ২০১০ সালে বিয়ে হয়ে যায়। স্বামী টেড সেতু ঘোষ একটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপক পদে কর্মরত।

লিলা বলেন, জয়েন্ট ফ্যামিলি, নতুন জায়গা, নতুন পরিবেশ। সব কিছু গুছিয়ে উঠতে উঠতেই বছর চলে যায়। তারপর জানতে পারলাম, আমি মা হতে যাচ্ছি। তারপর ২০১১ সালে আমাদের একমাত্র ছেলে নীল জন্ম নেয়। তাকে রেখেই আমার আরও ২ বছর কাজে যেতে হল, এরপর ২০১৪ সালে আমার কোল জুড়ে আসে আমাদের একমাত্র মেয়ে মেঘ তখন থকেই আর কাজে যাওয়ার চিন্তা করতে পারেননি। তখন থেকেই মাঝে মাঝে শখের বশে ইন্ডিয়ান ড্রেস নিয়ে কাজ করা শুরু করলাম, ২০১৫ সালে যাত্রা শুরু হল রেড রোজ ক্রিয়েশনের।

২০১৭ সালের প্রথম দিকে রেড রোজ ক্রিয়েশন তার ব্যবসায়িক যাত্রা শুরু করল একটি মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে, আমি আর আমার কাজিন মুমু রোজারিও দুজন মিলে সেই মেলায় একটি স্টল ভাড়া করি, যদিও স্টল ভাড়া আমরা উঠাতে পারিনি সেই মেলা থেকে। থেমে থাকিনি একটার পর একটা করে ৩ বছরে প্রায় ১০০টিরও বেশি মেলা/একজিভিশনে অংশগ্রহণ করেছি। কিন্তু ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে আমরা শুধু অনলাইনেই আমাদের ব্যবসা পরিচালনা করছি।

২০১৫ সালে মাথায় এলো ফেসবুকে একটি পেজ খোলার চিন্তা। যেই কথা; সেই কাজ। কয়েক দিনের মধ্যে পেজ খুললেন। কিছু শাড়ী ও কুর্তির ছবি তুলে পোস্ট করা শুরু করলেন। প্রতিদিন প্রায় নিয়ম করে ১০/২০টি গ্রুপে পোস্ট দিতেন। এভাবেই আস্তে আস্তে কিছু কিছু অর্ডার পেলেন অনলাইনে। এভাবেই ফেসবুকে ঘুরতে ঘুরতে বিভিন্ন জনের লেখা পড়ে এগোতে থাকলেন। সাহস নিয়ে ম্যাটেরিয়ালস কালেক্ট করা শুরু করলেন ইন্ডিয়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে।

তিনি আরও বলেন, রোদ কি, বৃষ্টি কি। আমি ঘুরে বেড়িয়েছি কুর্তির খোঁজে ঢাকা থেকে কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু। মাত্র ২০,০০০ টাকার প্রডাক্ট দিয়ে শুরু করেছিলাম। আজ ৬ বছর হতে চলল এই একটি ব্যবসা নিয়েই আছি। ম্যাটেরিয়ালস সংগ্রহ থেকে শুরু করে ডিজাইন রেডি করা এবং বানানো সব কিছু নিজের হাতে করি। কাছের দূরের অনেকেই আমার এ কাজ নিয়ে অনেক কথা শুনিয়েছেন। খারাপ লাগতো। তারপরও দাঁতে দাঁত চেপে শুনে যেতাম। কাজ থামাইনি। সেই সময় থেকে আজ অব্দি আমার স্বামীর পূর্ণ সাপোর্ট আমাকে একটি জায়গায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে। এখন আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইউকে ও কানাডাতেও তার কুর্তি পৌঁছে যায় কাস্টমারের কাছে।

মোটামুটি ভালোই চলছিল সবকিছু। সংসার সামলে যতটা করা যায়। তারপর শুরু হলো করোনা। হঠাৎ এ পরিস্থিতিতে টেনশন শুরু হলো। যেখানে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসই বুঝে-শুনে কিনছেন। সেখানে কুর্তির মত প্রডাক্ট কাস্টমার কেন কিনবেন? সে সময়টাতে তিনি ফেসবুকভিত্তিক বিভিন্ন ই-কমার্স গ্রুপে যুক্ত হন। সেখানে যুক্ত হওয়ার ৬ মাসের মাথায় শুধু গহনা বিক্রি করে লাখ টাকার মাইলফলক ছুঁতে পেরেছেন। এখন নিজের আয়ের টাকায় ব্যবসার জন্য প্রোডাক্ট ইমপোর্ট করেন ইন্ডিয়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে সাথে সংসারেও দিচ্ছেন পূর্ণ সাপোর্ট। এখন তার ধ্যান-জ্ঞান, নেশা-পেশা সবকিছুই হল দিল্লী বুটিক্স এর কুর্তি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ বছর একটি ছোট শো-রুম দেওয়ার ইচ্ছা ছিল আমার। কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতি অন্তরায় হয়ে দাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে নিজেদের ডিজাইনে কুর্তি দেশেই কুর্তি তৈরির ইচ্ছা আছে। যেখানে লেখা থাকবে, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’। আরও ইচ্ছা আছে, দেশের ৮ টি বিভাগে ফ্রাঞ্চাইজ খোলার।

রেড রোজ ক্রিয়েশনের চমৎকার সব কালেকশন দেখতে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েব সাইটে ভিজিট করতে পারেন https://redrozcreation.com/

ভিজিট করতে পারেন তাদের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেজ https://www.facebook.com/redroz.creation