বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে
শিরোনাম

আল্লাহ সবাইকে সুস্থ রাখুক, সবার মঙ্গল হোক: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্ভাগ্য হলো এই সংসদে একের পর এক সদস্য হারাচ্ছি। এই সংসদে আমরা এতজন সদস্য হারালাম‑ এটা সত্যিই খুব দুঃখজনক। এরকম প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে শোক প্রস্তাব নিতে চাই না। আল্লাহ সবাইকে সুস্থ রাখুক।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীর মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপিকা মাসুদা এম রশীদকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আজকে আমরা আরও একজন সংসদ সদস্যকে হারালাম। তিনি অত্যন্ত বিদুষী ছিলেন। তার মতো শিক্ষা-দীক্ষা ও জ্ঞানী মানুষ মেয়েদের মধ্যে কমই পাওয়া যায়। এ ছাড়া তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, চিত্রশিল্পী, সমাজসেবক, নারী উদ্যোক্তা। খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের নতুনভাবে প্রেরণা জুগিয়েছেন। এরকম বহুগুণ সম্পন্ন মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। এটা আমাদের সমাজের জন্য বিরাট ক্ষতি।

একাদশ সংসদের চলতি অধিবেশনে তিনজন সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব আনা হয়েছে। তিনদিনই প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন। তিনি বলেন, এবারের অধিবেশন যখন শুরু করলাম দুইজন সংসদ সদস্য হারিয়েছি। আবার এবার মুলতবি অধিবেশনের আগে কালকে (সোমবার) খবর পেলাম এই মৃত্যুর খবর। সত্যি খুবই হৃদয় ভারাক্রান্ত হলো।

অধ্যাপিকা মাসুদা রশীদ চৌধুরীর আত্মার মাগফিরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি খুবই মিষ্টভাষী ও জ্ঞানী মানুষ ছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে সমাজকে ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও অনেক অবদান রাখতে পারতেন। তার মৃত্যুতে আমাদের সমাজের যথেষ্ট ক্ষতি হলো। শেখ হাসিনা বলেন, তার বহুমুখী প্রতিভা নারী সমাজকে প্রেরণা দেবে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি ও সাহস জোগাবে।

এ সময় দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাকালীন সময়ে সবাই যেন স্বাস্থ্য-সুরক্ষা মেনে চলেন। যারা টিকা নিয়েছেন তাদেরকেও বলব- স্বাস্থ্যবিধি যেন মেনে চলেন। দেশের মানুষ ও প্রবাসের সবার মঙ্গল কামনা করছি। তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে গেলেও মাস্ক পরা বা হাত ধোয়ার মতো সুরক্ষাবিধিগুলো না মানলে তাদের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি থেকেই যায়। সে কারণে বিশেষজ্ঞরা টিকা নেওয়ার পাশাপাশি সবাইকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জোর দিয়ে আসছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।