বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে

ইসলাম সহজ ধর্ম

মানবজাতিকে সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন রাব্বে কারিম। তাদের জন্য গ্রহণযোগ্য দ্বীন হিসেবে নির্ধারিত করে দিয়েছেন ইসলামকে। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহর কাছে মনোনীত ধর্ম কেবল ইসলাম।’ –সুরা আলে ইমরান : ১৯

ইহকালীন ও পরকালীন শান্তি, মুক্তি আর সুখময় জীবনের জন্য ইসলাম ছাড়া উপায় নেই। অন্যকোনো ধর্ম গ্রহণযোগ্য নয়। শান্তি এনে দিতে পারবে না। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘যে ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মকে দ্বীন হিসেবে চায়, কিছুতেই তার থেকে সেটা গ্রহণীয় হবে না। আর সে পরকালীন জীবনে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ –সুরা আলে ইমরান : ৮৫

এসব আয়াত থেকে এটা স্পষ্ট যে, মুক্তি পেতে ইসলাম মানতে হবে, পালন করতে হবে। ইসলাম পালনে কোনো জটিলতা নেই। ইসলাম সবসময় সহজতায় বিশ্বাসী। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহতায়ালা তোমাদের জন্য সহজ করতে চান। কঠিন করতে নয়।’ –সুরা বাকারা : ১৮৫

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না। মানুষকে সুসংবাদ শোনাও, ঘৃণা ছড়িয়ো না।’ –সহিহ বোখারি : ৬৯

কাউকে তার সাধ্যাতীত কিছুর আদেশ কিংবা নিষেধাজ্ঞা ইসলাম দেয় না। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ কারও ওপর তার সাধ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দেন না।’ –সুরা বাকারা : ২৮৬

হুট করে কারও ওপর কঠিন সব বিধি-বিধান চাপিয়ে দেওয়ার পদ্ধতি ইসলাম সমর্থন করে না। হঠাৎ অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলতে বলে না। বরং আস্তে ধীরে রয়ে সয়ে সবকিছু করে। আমরা যদি মদ হারামের ঘোষণার ইতিহাসের দিকে তাকাই তাহলে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। শুরুতেই মদ হারাম বলে ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পর্যায়ক্রমে হারামের ঘোষণা এসেছে। সর্বপ্রথম ইরশাদ হয়েছে, ‘(হে নবী!) আপনি বলে দিন, মদ-জুয়াতে বড় পাপ রয়েছে, সঙ্গে মানুষের জন্য কিছু উপকারও রয়েছে।’ –সুরা বাকারা : ২১৯

কিছুদিন পর দ্বিতীয় পর্যায়ে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা মাতাল হয়ে নামাজের নিকটবর্তী হয়ো না।’ –সুরা আন নিসা : ৪৩

তৃতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত হারাম ঘোষণা করে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা, ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কর্ম। তাই এসব থেকে তোমরা বিরত থাকো, যেন তোমরা সফলকাম হও।’ –সুরা আল মায়িদা : ৯০

এভাবে ইসলামের প্রতিটি বিধান নিয়ে চিন্তা করলে এই সহজতা পরিলক্ষিত হয়। সফরে বান্দার কষ্ট হয়। তাই সে সময়কার নামাজ অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে, ‘(সফরে চার রাকাত বিশিষ্ট নামাজে) দুই রাকাত পড়লেই নামাজ পূর্ণ হবে।’ –নাসায়ি : ১৪৪৪

তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না। মানুষকে সুসংবাদ শোনাও, ঘৃণা ছড়িয়ো না

কষ্টের প্রতি খেয়াল রেখে মুসাফির, মারাত্মক অসুস্থ, ক্ষতির আশঙ্কায় দুগ্ধদানকারী নারীদের রোজা না রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমাদের যারা অসুস্থ কিংবা মুসাফির তারা রমজানে রোজা না রেখে অন্যান্য দিনে রোজা রাখতে পারবে।’ –সুরা বাকারা : ১৮৪

খুনের বদলায় রক্তপণ দিয়ে কেসাস এড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে সহজার্থে। বর্ণিত হয়েছে, ‘বনী ইসরাঈলের জন্য দিয়ত বা রক্তপণের কোনো সুযোগ ছিল না। (খুনের বদলে খুন হওয়াই অপরিহার্য শাস্তি ছিল) আর এ উম্মতের উদ্দেশ্যে আল্লাহতায়ালা বলেন, তোমাদের ওপর খুনের বদলায় খুন ফরজ করা হয়েছে।… যে খুনিকে নিহত ব্যক্তির স্বজন মাফ করে দেবে তাকে আর খুন করা হবে না।’ –সুরা আল বাকারা : ১৭৮

বর্ণিত আয়াতের তাফসিরে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, মাফ করে দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে (কেসাসের বদলে) দিয়ত তথা রক্তপণ গ্রহণ করতে রাজী হওয়া।’ –সহিহ বোখারি : ৬৮৮১

উম্মতের কষ্টের কথা বিবেচনা করে মেসওয়াকের অনেক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও তা ফরজ, ওয়াজিব করা হয়নি। বর্ণিত আছে, হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যদি আমার উম্মতের কষ্ট হওয়ার আশংকা না করতাম তাহলে তাদেরকে প্রত্যেক নামাজের আগে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।’ –সহিহ বোখারি : ৭২৪০

একই কারণে তাহাজ্জুদ, তারাবিহ গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতবিশিষ্ট নামাজ হলেও ফরজ করা হয়নি। কিন্তু গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখা যায়, গ্রামে-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় আধাশিক্ষিত মোল্লা কিংবা বাংলা বই থেকে ইসলামি জ্ঞানার্জন করা কিছু মানুষ ইসলামকে অন্যদের সামনে জটিলরূপে উপস্থাপন করে। ইসলামের বিধি-বিধানগুলোকে দূর্ভেদ্যভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরে। নিজেদের অসম্পূর্ণ জ্ঞান দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। ফলে মানুষ ইসলামকে জটিল, কঠিন আর সেকেলে ধর্ম মনে করে দূরে সরে যায়। এভাবে ওইসব লোকদের দ্বারা ইসলামের উপকারের বদলে অপকার বেশি হচ্ছে।

তাই আমাদের উচিত, ইসলামকে পরিপূর্ণ সঠিকরূপে জেনে সে অনুযায়ী নিজে চলা এবং অন্যকে দাওয়াত দেওয়া।