বাংলা ও বিশ্বের সকল খবর এখানে

শিক্ষার্থীদের হাফ পাশ: সরকার-বাসমালিকদের বৈঠক ‘বিফল’

শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহণে হাফ পাশ (অর্ধেক ভাড়া) চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও বাস মালিক সমিতির মধ্যে অনুষ্ঠিত সভা কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। বাস মালিকরা হাফ পাশ চালু করতে রাজি না হওয়ায় সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।ফলে সরকারের সঙ্গে বাস মালিকদের বৈঠকটি কার্যত ‘বিফল’।

বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বনানীতে বিআরটিএর প্রধান দপ্তরে শুরু হয় সভা। বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

বৈঠকে বাস মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যেহেতু সরকার বেসরকারি বাসে ভর্তুকি দেয় না সেহেতু ভাড়া কম নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ যানজটের কারণে ট্রিপের সংখ্যা কমেছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গাড়ির যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই হাফ ভাড়া নিলে লোকসান গুনতে হবে।

এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহণ ভাড়ায় কত ছাড় হলে ক্ষতি নেই, সাত দিনের মধ্যে নিজেরা আলোচনা করে যৌক্তিক প্রস্তাব দিতে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে বিআরটিএ। মালিকপক্ষরাও নিজেরা আলোচনা করে সাত দিনের মধ্যে সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব দেবেন বলে জানিয়েছেন।

বৈঠক শেষে সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা মহানগরে শিক্ষার্থীরা বাসে হাফ ভাড়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাদের এই দাবির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে সরকার এই সমস্যা সমাধানের জন্য আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার শিক্ষার্থীদের এ দাবির প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে বলেই আজকে আমরা বৈঠকে অংশীজনদের নিয়ে বসেছি। বেসরকারি বাসে অর্ধেক ভাড়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা চাপিয়ে দিতে পারি না।কারণ বাসে কত শতাংশ ভাড়া ছাড় দিতে হবে আমরা আজ সেই সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর বাস মালিকরা ধর্মঘট ডাকতে পারেন। তাতে জনদুর্ভোগ বাড়বে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে সরে আসার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ভাড়ার আনুষ্ঠানিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তাব করবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিকে বলা হয়েছে, তারাও তাদের একটি প্রস্তাব আমাদের কাছে দেবেন। সব পক্ষ দ্রুত প্রস্তাব জমা দেবে।

সভায় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে সভায় জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব, আইজিপি, পরিবহণ মালিক সমিতির প্রতিনিধি, শ্রমিক ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।