সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০১:২৭ অপরাহ্ন

থাইল্যান্ড ভ্রমণের নতুন অভিজ্ঞতা!

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২২

এ এক অন্যরকম থাইল্যান্ড ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। ২৮ এপ্রিল ২০২২। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৮৮ নম্বর ফ্লাইটে উঠলাম। গন্তব্য ব্যাংকক। এরপর থাই পাস নিয়ে টেস্ট এন্ড গো হোটেল সিয়াম বে’শোর পাতায়া। সেখানে করোনা টেস্টের পর নেগেটিভ রিপোর্ট হলে এরপর বের হতে পারবো। বিমানের বিজি ফ্লাইট শিডিউল ছিল ১.৩০ এ। উঠে বসতেই প্রচণ্ড গরমে শরীর ঘেমে যাচ্ছে। যাত্রীরা সিট পকেটে থাকা নিরদেশিকা হাতে নিয়ে বাতাস করতে শুরু করলেন।
কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। কেবিন ক্রুদের কেউ কিছু বলছেও না। এক জন কেবিন ক্রুকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই সমস্যা কি? উনি বললেন, স্যার বিমানটি উপরে উঠলেই এসি আস্তে আস্তে কাজ করতে। কি আর করার চুপচাপ বসে থাকতে হবে। সবাই নিরুপায়। বোয়িংয়ের ৭৩৭-৮০০ জেট মডেলের এই বিমানের এমন দুরনাম আগেও ব্যাংককগামী যাত্রীদের কাছে শুনেছি। এবার নিজেই এর ভুক্তভোগী। ক্ষণীকের জন্য মনে হলো, বিমান নয়, যেন উত্তপ্ত এক মাইক্রোওভেনে বসে আছি। উড্ডয়নের প্রায় এক ঘন্টা পর এসির বাতাস স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। যাত্রীদের কষ্ট লাঘব হয়েছে।
জীবনে বহুবার থ্যাইল্যান্ড ভ্রমণ করেছি। তবে এবারের অভিজ্ঞতাটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভ্রমণের জন্য যেসব ডকুমেন্ট একত্রে করতে হয়েছে সেগুলো হলো:
০১. বিমানের টিকিট
০২. থাই পাস বা থাইল্যান্ড পাস
০৩. ৫০ হাজার ডলারের ট্রাভেল ইন্সুরেন্স। (আপনারা চাইলে আরো ১০ হাজার ডলারেরও করতে পারেন।)
০৪. হোটেল বুকিং
যদিও আসছে ১ মে থেকে এসব নিয়মকানুন পরিবর্তন হচ্ছে। এগুলো আর কিছুই লাগবে না। শুধু মাত্র ভ্রমণের ০৫ দিনের মধ্যে করোনার টেস্টের পিসিআর টেস্ট রিপোর্ট লাগবে। যাই হোক, সব কাগজপত্র একত্রে করে স্ত্রীসহ রহওনা দিলাম। সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্টে এসে বিমান থেকে নামার পরপর-ই থাইল্যান্ড পাস চেকিং কাউন্টার। যদি কেউ থাইল্যান্ড পাস নিয়ে না আসে তাহলে তাকে পরবর্তি ফ্লাইটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। সেখানে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ খুবই সুশৃঙ্খলভাবে এই কাজটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে। যা সত্যিই প্রশংসার দাবীদার।


কোনো ধরনের হ্যাসেল ছাড়া ইমিগ্রেশন শেষ করলাম। এয়ারপোর্টের ভেতর ডিটাক সিম কোম্পানির একটি ৭ দিন ময়োদী সিম কার্ড কিনলাম। মূল্য ইন্টারনেট প্যাকেজসহ মাত্র ১৯৯ বাথ। সিমটা ভরেই থাইল্যান্ড প্রবাসী বড় ভাই নাজির আহমেদ সরকারকে কল দিলাম। তিনি বললেন ১০ নম্বর গেটে গাড়ি এবং ড্রাইভার রেডি। কথা মতো ১০ নম্বর গেটে দিয়ে প্লাকার্ড নিয়ে হোটেলের লোক দেখলাম। তিনি গাড়ির কাছে নিয়ে গেলেন। এবার গন্তব্য পাতায়া সিয়াম বে শোর পাতায়া হোটেল। বিলাশ একটা মাইক্রোবাস। ভেতরে সিট ১৫টি। ড্রাইভারের সাথে কথা বলা বা যোগাযোগে কোনো ব্যবস্থা নেই। পুরোটাই কাঁচ দিয়ে পার্টিশন দেয়া। এত বড় গাড়িতে যাত্রী শুধু মাত্র আমরা দু’জন।
যাত্র শুরু হলো। যথা সময়ে হোটেলে এসে পৌছলাম। গেটের ভেতরে প্রবেশের পর আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো কোয়ারেন্টাইন সাইডে। সেখানে ৩ জন স্বাস্থ্যকর্মী মোবাইলে একটি এ্যাপস ডাউনলোড করে দিলেন। দু’টি ফর্ম পূরণ করলেন এবং সব শেষ দুই দফায় করোনা টেস্ট করার জন্য নাক এবং মুখ থেকে স্যাম্পল নিলেন।
আমাদের বলা হলো, সকালের মধ্যে টেস্ট রিপোর্ট চলে আসবে। এর মধ্যে রুম থেকে বের হওয়া কিংবা হোটেলের অন্যকোনো স্থানে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ। রাতের খাবার একটি প্যাকেটে করে দেয়া হলো। সেটা রুমের ভেতরে খেয়ে আবর্জনাগুলো রুমের বাহিরে রাখতে হবে। পিপিই পড়া একজন হোটেল বয় আমাদের রুমে নিয়ে এলো। পাঁচতলায় উঠতে ছেলেটি দুটি তালা খুলেছে। অর্থাৎ এখান থেকে বাহিরে বের হওয়া কোনো ভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু হোটেলের খাবারগুলো দেখে মনের ভেতর হালাল এবং হারামের সন্তেহ জেগেছে।
নাজির ভাইকে ফোন করে বললাম। কি করবো? উনি বললেন, আপনি থাকেন আমি ব্যবস্থা করছি। তখন পাতায়া শহরের আকাশে মেঘেদের গর্জন। শুরু হলো ঝড়ো হাওয়া। এর মধ্যে নাজির ভাই ফোন দিয়ে বললেন, আমি এসেছি। খাবার পেয়েছেন? আমি বললাম না। এর পরপরই রুমের ইন্টারকমে একটা কল আসলো, এক ব্যক্তি বললেন, আমাদের একজন কর্মী আপনার রুমের সামনে যাচ্ছে। আপনার জন্য আপনার ভাই কিছু খাবার এনেছেন। সেগুলো দরজার সামনে রেখে আসাব হবে। এরপর রিসিপশন থেকে কল পওয়ার পর আপনি দড়জা খুলে সেটি ভেতরে নিতে পারবেন।
তাদের ইন্সট্রাকশন মোতাবেক পরবর্তি ফোন পাওয়া পর দরজা খুললাম। দেখলাম দরজার পাশে একটি তাকের ওপর খাবার গুলো রাখা। সেগুলো ভেতরে এনে খুলে মনে হলো এখনও বাংলাদেশেই আছি। নাজির ভাই শামীম ভাইয়ের রেস্টুরেন্ট থেকে ডাল, সবজি, মুরগী ভুনা আর সাদা ভাত এনেছেন।
করোনার এই মহামারীতে পৃথীবিটা অনেক নিষ্ঠুর হতে বাধ্য হয়েছে। মহামারীর হাত থেকে রক্ষা পেতে ক্ষণীকের জন্য আপন মানুষ গুলোকেও দূরে সরে যেতে বাধ্য হতে হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। আমরা কখনও এমন পৃথীবির প্রত্যাশা করিনি।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD