শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন
ব্যাংক খাতে তদারকি ব্যবস্থা বদলে যাচ্ছে

আগামী রোববার থেকে কার্যকর বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সুপারভিশন

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬

আর্থিক খাতে সুশাসন বাড়াতে ব্যাংকগুলোর ওপর তদারকি ব্যবস্থা বদলে ফেলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রথাগত পরিদর্শনের পরিবর্তে বিভিন্ন ডেটার ভিত্তিতে ‘ঝুঁকিভিত্তিক’ তদারকি করা হবে। এ ব্যবস্থায় সব ব্যাংকে একই উপায়ে নজরদারি হবে না। প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকির মাত্রার ভিত্তিতে তদারকি হবে। আজ ১ জানুয়ারি থেকে এ ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে আগামী রোববার থেকে নতুন কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ঝুঁকিভিত্তিক বা রিক্সবেজড সুপারভিশন (আরবিএস) কাঠামো ইতোমধ্যে ঠিক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি সংশ্লিষ্ট ১৩টি বিভাগ পুনর্গঠন করে ১৭টি বিভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ব্যাংক সুপারভিশন’ নামে ১২টি বিভাগ থাকছে। কোন বিভাগের অধীনে কোন ধরনের ব্যাংক থাকবে, তা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যাংকের দেওয়া তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেবে। প্রয়োজনে তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ে আরও তথ্য নেবে।

তদারকির ভিত্তিতে ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, এমডিকে অপসারণ, পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের প্রয়োগ ঘটানো হবে। এসব বিভাগের বাইরে কারিগরি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং তদারকি, ডেটা ব্যবস্থাপনা ও বিশ্লেষণ, তদারকিসংশ্লিষ্ট নীতি প্রণয়ন, পেমেন্ট সিস্টেম সুপারভিশন এবং মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ নামে আরও ৫টি বিভাগ খোলা হয়েছে। নতুনভাবে খোলা মানি লন্ডারিং সংশ্লিষ্ট বিভাগটি বিএফআইইউর আদলে ব্যাংকগুলোর এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম তদারকি করবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিকভাবেই ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থা অনেক আগেই চালু হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এ বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়। গেল বছর কয়েক ধাপে প্রতিটি ব্যাংকের ওপর পরীক্ষামূলক ‘আরবিএস’ কার্যক্রম চালানো হয়। বিদ্যমান ব্যবস্থায় সব ব্যাংকের জন্য অভিন্ন নীতিমালার ভিত্তিতে নজরদারি করা হয়ে থাকে। নতুন ব্যবস্থায় ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকি নিরূপণ করা হবে। সেই আলোকে তদারকি হবে। এ ব্যবস্থা ‘প্রিভেনটিভ’ বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। এর মাধ্যমে একটি ব্যাংক বড় সংকটে পড়ার আগেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিক থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রথাগত তদারকি ব্যবস্থায় মূলত গতানুগতিক আইন পালনের দিকে নজর দেওয়া হয়। কিন্তু ঝুঁকিভিত্তিক ব্যবস্থায় প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক মডেল, অভ্যন্তরীণ সুশাসন এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতা গুরুত্ব পায়। এর ফলে দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুরুতেই চিহ্নিত করা সম্ভব হয় এবং তাদের সংশোধনের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা, আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপের সুযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়। অবশ্য প্রথম দু’এক বছর আরবিএসের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে গিয়েও তদারকি হবে।

ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি ব্যবস্থার পরবর্তী ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক রিপোটিং স্ট্যান্ডার্ড বা আইএফআরএস-৯ চালু হবে। এ ব্যবস্থা চালুর পর প্রতিটি ব্যাংকের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। বর্তমানে বেসরকারি খাতের চারটি ব্যাংক নিজ উদ্যোগে আইএফআরএসের আলোকে বার্ষিক হিসাব বিবরণী তৈরি করে। এ ব্যবস্থায় প্রকৃত তথ্য আড়াল করার তেমন সুযোগ থাকে না।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD