ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, ভোটকেন্দ্রে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) প্রত্যাহারের পর এবার মোবাইল নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়িত হলো। কার ইশারায়, কার প্রভাবে নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিল?
‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো সবাইকে নিজের মোবাইল ঘরে রেখে যেতে হবে। এমনকি কোনো মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও অ্যালাউড না। অর্থাৎ ভোটকেন্দ্র এলাকায় যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার কোনো তথ্য, ফুটেজ স্বয়ং ভুক্তভোগীর কাছেও থাকবে না। নির্বাচন কমিশনের ওপর ভর করে এই নব্য ফ্যাসিজম জাতির ওপর কারা চাপিয়ে দিল?’
সাদিক কায়েম আরও লিখেছেন, কারা দেশের তরুণদের ভয় পায়? কারা নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখতে চায়? দেশের সর্বস্তরের তরুণ যুবকদের প্রতি আহ্বান- আসুন, আওয়াজ তুলুন। আপনাদের হাতেই জুলাই হয়েছে, আপনাদের হাতেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের দায়িত্ব।
‘দেশের নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়ার জন্য কিংবা কোনো গোষ্ঠীর পারপাস সার্ভ করার জন্য ইলেকশন কমিশন গঠিত হয়নি, ইলেকশন কমিশন গঠিত হয়েছে একটি ফ্রি, ফেয়ার এবং নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে।’
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ করায় সাদিক কায়েমের তীব্র প্রতিবাদ
এর আগে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কেবল দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। এই তালিকায় রয়েছেন প্রিসাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ইনচার্জ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্য এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুজন আনসার।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিষয়টি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে নির্দেশনায় বলা হয়েছে।