গত বছরই ওয়াশিংটন নিজেকে আইএনএফ চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। চলতি বছরের মে মাসে ওপেন স্কাই ট্রিটি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও বলতে শোনা যায় মার্কিন প্রশাসনকে। সর্বশেষ জার্মানিতে মোতায়েনকৃত সাড়ে ৯ হাজার সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ওই সেনারা জার্মানি ছাড়বে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত সামরিক জোট ন্যাটোকে জোর ধাক্কা দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কে ব্যাপক দূরত্ব সৃষ্টি করেছে। ওয়াশিংটনকে এর আগে কখনো ইউরোপ প্রশ্নে এমন আত্মবিধ্বংসী সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায়নি। অথচ ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিনিয়ত এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত মিত্র কুর্দি ফোর্স ও ইউরোপিয়ান ফোর্স উভয় অংশই অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টোলটেনবার্গ জার্মানি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে হতভাগ হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছে ফ্রান্স, জার্মানি ও বেলজিয়াম। তারা বলছে, চুক্তি থেকে বের হওয়া ও সৈন্য প্রত্যাহারের ঘটনায় ওয়াশিংটনকে ফল ভোগ করতে হবে।
অন্যদিকে, চুক্তি থেকে রাশিয়া এখনো নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়নি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানোকে ইউরোপের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। আবার যদি রাশিয়াও এই চুক্তি থেকে বের হয়ে যায়, তাহলে ইউরোপের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। এমতাবস্থায় কোনোভাবেই রাশিয়াকে হারাতে চাইবে না ইউরোপ।