মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি হলে সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে। হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সিরিয়া থেকে অবশিষ্ট সেনাদের প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওই কর্মকর্তা বলেন, সিরিয়ার সরকার নিজেদের সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিতে সম্মত হয়েছে। তাই সেখানে ব্যাপক পরিমাণে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির আর প্রয়োজন নেই।

ইসলামিক স্টেটের (আইএসআইএস) প্রভাব মোকাবিলায় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ২০১৫ সাল থেকে আমেরিকান সেনারা সিরিয়ায় অবস্থান করছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বাসার আল আসাদের আমলে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ২০১৪ সালে আইএস দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অল্প সময়ের মধ্যেই তারা সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে তথাকথিত খেলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়।

আইএসকে দমন করতে ২০১৪ সালে সিরিয়ায় প্রায় ২ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে বিভিন্ন ঘাঁটিতে প্রায় ১ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, আইএস এখনো বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। গোষ্ঠীটিকে নির্মূল করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে আইএসের যে কোনো হুমকির জবাব দিতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আইএসের উত্থানের সময় সিরীয় সরকারকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র সেনা পাঠিয়েছিল। তবে বর্তমানে সিরিয়ায় তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আইএসের হুমকিও আগের মতো শক্তিশালী নয়। সেই বিবেচনায় সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি সেনাদল ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঘাঁটি সিরিয়ার সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সাথে দেখা করতে যান আল-শারা, যা দেশটির ইতিহাসে কোনো সিরিয়ান নেতার প্রথম এ ধরণের সফর ছিল।

বাশার আল আসাদের পতদের পর সিরিয়ার সরকারি সেনাবাহিনী মাঝে মাঝেই স্থানীয় সামরিক গোষ্ঠীগুলির সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে, কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছায় যা কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসকে সিরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে একীভূত করবে।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD