মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তেল আনতে ফুরাচ্ছে তেল সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে উল্টো ফেরত দিচ্ছে জিয়াউলের বিরুদ্ধে গুম-খুনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য আজ অবশেষে সক্রিয় মক্কা চুক্তি : সৌদিতে সেনা পাঠাচ্ছে পাকিস্তান, তুরস্ক ঘুষের টাকা দিয়ে আমি পোশাক লাগিয়েছি, ঘুষ খাওয়ার জন্যই একসঙ্গে ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএমসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ আলজেরিয়াকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ১০ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রি ইরানি কোম্পানির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টা বা ইচ্ছা সরকারের নেই: তথ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: এমপি দিপু ভূঁইয়া

চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষায় করণীয়

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য। ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করবে এবং পরকালের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে। এ জন্য আল্লাহ যা হালাল করেছেন, তা মান্য করা এবং যা হারাম করেছেন, তা বর্জন করা অবশ্য কর্তব্য। কোনো অবৈধ কাজে জড়ানো বা অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করা কঠিন পাপ। এতে নষ্ট হয় মানুষের চরিত্রগত পবিত্রতা। চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষা করার ক্ষেত্রে ইসলাম অনেক গুরুত্ব আরোপ করেছে। যে সব কারণে মানুষের চারিত্রিক কলুষ তৈরি হয়, সেগুলোকে নিষিদ্ধ করেছে। তারপরও কেউ যদি অপকর্মে লিপ্ত হয়, তাহলে তার কঠিন শাস্তির বিধান দিয়েছে। নিজের চরিত্র পবিত্র রাখা মানুষের অবশ্য কর্তব্য। চরিত্রহীন ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও দেশের কলঙ্ক। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা হজরত লূত (আ.) এর সম্প্রদায়ের অশ্লীলতা, চারিত্রিক অধঃপতন ও তাদের ওপর নেমে আসা ভয়াবহ শাস্তির কথা আলোচনা করেছেন। বর্ণিত হয়েছে, ‘অবশেষে যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছল, তখন আমি উক্ত জনপদের ওপরকে নিচে করে দিলাম এবং তার ওপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ করলাম।’ (সুরা হুদ : ৮২)। এখনো যারা চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষায় গুরুত্ব দেবে না, তাদের জন্য থাকবে দুনিয়া ও আখেরাতের কঠিন আজাব। চরিত্রগত পবিত্রতা বজায় রাখতে কিছু বিষয় আলোচনা করা হলো।

নজর হেফাজত করা: নারী-পুরুষ উভয়ের দৃষ্টি সংযত রাখা। দৃষ্টিপাতের মাধ্যমেই সূত্রপাত হয় অনেক পাপাচারের। তাই নারী পুরুষ প্রত্যেকে নিজের দৃষ্টি অবনত রাখতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি মুমিনদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা রয়েছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। ইমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে অবনত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে।’ (সুরা নূর : ৩০-৩১)

নির্জনে একত্রিত না হওয়া: নারী পুরুষ একান্ত নির্জনে একত্রিত হলে শয়তান তাদের ওপর আক্রমণ করে কুকর্মে লিপ্ত করে। একাকী ঘরে পর্দার আড়ালে হলেও নির্জন বাস শরিয়তে নিষিদ্ধ। হাদিস শরিফে নরী করিম (সা.) ইরশাদ করেন, ‘কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সাথে একান্তে গোপনে অবস্থান না করে। কারণ, শয়তান উভয়ের কুটনি হয়।’ (মিশকাত শরিফ : ৩১৮৮)। অন্য হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘মাহরামের বিনা উপস্থিতিতে কোনো পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে না। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্ত্রী হজ করার জন্য বেরিয়ে গেছে এবং অমুক অমুক জেহাদে অংশগ্রহণের জন্য আমার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নবীজি বললেন, ফিরে যাও এবং তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ সম্পন্ন করো।’ (বুখারি : ৫২৩৩)

কোমল কণ্ঠে কথা না বলা: নারী-পুরুষের পরস্পরের প্রতি আল্লাহ তাআলা একটা আকর্ষণবোধ সৃষ্টি করেছেন। এর কারণে নারী-পুরুষ যখন পরস্পরের সান্নিধ্যে আসে, তখন উভয়ের মনে কুবাসনা জাগ্রত হয়। মোম যেমন আগুনের স্পর্শে এলে গলে যায়, নারী-পুরুষ একত্রিত হলেও শয়তান তৃতীয়জন হয়ে তাদের অশ্লীল কাজের প্রতি আহ্বান করে। এ জন্য আল্লাহ তাআলা নারী ও পুরুষের মধ্যে পর্দার বিধান দিয়েছেন। পুরুষের সঙ্গে মোলায়েম কণ্ঠে কথা না বলা, দৃষ্টি অবনত রাখা, শরীরের সৌন্দর্য প্রকাশ না করা ইত্যাদি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না। ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে।’ (সুরা আহযাব : ৩২)। এই আয়াতে পুরুষের সঙ্গে নরম ও কোমল কণ্ঠে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে এবং কোমল কণ্ঠে কথা বলার খারাপ পরিণতিও উল্লেখ করা হয়েছে। কোমল ও আকর্ষণীয় কণ্ঠের কারণে পরস্পরের প্রতি আকর্ষণবোধ ও কামুকভাব সৃষ্টি হয়। সুতরাং বেগানা নারী-পুরুষের মধ্যে তা নিষিদ্ধ। পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলার একান্ত প্রয়োজন হলে কর্কশ কণ্ঠে কথা বলবে।

সৌন্দর্য প্রকাশ না করা: নারীর মধ্যে আল্লাহ তাআলা কমনীয় সৌন্দর্য দান করেছেন। নারীর সৌন্দর্য শুধু স্বামীর জন্য। স্বামীর সামনেই যাবতীয় সৌন্দর্য প্রকাশ করবে। পরপুরুষের সামনে তা প্রকাশ করা মানে হলো অশ্লীলতার পথ খুলে দেওয়া। আল্লাহ তাআলা নারীদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে। মূর্খতাযুগের অনুরূপ নিজেদের প্রদর্শন করবে না।’ (সুরা আহযাব : ৩৩)। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা নারীকে নিজেদের ঘরে অবস্থান করতে বলেছেন এবং বাইরে বাইরে ঘুরে সৌন্দর্য প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন। সৌন্দর্য প্রকাশের মাধ্যমে পুরুষের কামোত্তেজনা সৃষ্টি হয়। হয়তো যে নারী সৌন্দর্য প্রকাশ করেছে সরাসরি সে পুরুষের দ্বারা আক্রান্ত হয় না, কিন্তু তার সৌন্দর্য-প্রকাশ পুরুষের কামুকভাগ জাগিয়ে তুলে এবং অপর কোনো নারী আক্রান্ত হয়।

বর্তমান সমাজে চরিত্রের অধঃপতন খুবই উদ্বেগজনক। চতুর্দিকে চরিত্র ধ্বংসের রমরমা আয়োজন। নারী-পুরুষের অবাধ চলাফেরা। অল্পবয়স্ক ছেলেমেয়েরাও জড়িয়ে পড়ছে অশ্লীলতায়। পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে কে কত সুরেলা কণ্ঠে কথা বলতে পারে ও কে কত সুন্দর সাজুগুজু করে রাস্তায় বের হতে পারে—তার প্রতিযোগিতা চলছে। ফলে সমাজে পরিবারে নেমে আসছে চারিত্রিক অধঃপতন। শিক্ষালয়ে কর্মস্থলে নারী হারাচ্ছে সম্ভ্রম। সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে বেহায়াপনা। এর থেকে উত্তরণ করা না গেলে আমাদের ওপর নেমে আসবে আসমানি আজাব। আল্লাহ হেফাজত করুন।

লেখক: ইমাম ও খতিব

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD