রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন

থমকে গেল ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি সংলাপ

লাইটনিউজ রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

বিশ্ব যখন মধ্যপ্রাচ্যের মারণাস্ত্রের বিধ্বংসী তাণ্ডব দেখছিল, তখন যুদ্ধরত দুই পক্ষকে এক টেবিলে বসিয়েছিল পাকিস্তান। বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনার প্রথম দফা ভেস্তে গেলে নাটকীয় মোড় নেয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বৈরী সম্পর্ক। ক্রমশ বেঁকে বসতে থাকে ইরান। যদিও ওয়াশিংটন ‘সম্মানজনকভাবে’ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে বেরিয়ে যেতে চাচ্ছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের ধারাবাহিক বাগাড়ম্বর ও উসকানির ফাঁদে পা দেয়নি তেহরান। উল্টো ওয়াশিংটনকে কূটনীতির চালে ফাঁসিয়ে নিজেদের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।

ইরানে যুদ্ধবিরতি থাকলেও সংকট কাটেনি। দাবি-দাওয়া নিয়ে ইসলামাবাদ সফরকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নাচক করে দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেই শনিবার (২৫ এপ্রিল) ইরানি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো বৈঠক করবেন না বলে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় এই শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার এই প্রতিনিধিদলে থাকার কথা ছিল। আপাতত ইরান আলোচনায় সায় না দেওয়ায় তাদের যাত্রা বাতিল করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই সফর সময়ের অপচয় হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, তিনি তার দলকে ইসলামাবাদে যাওয়া থেকে বিরত রেখেছেন। তিনি বলেন, ১৮ ঘণ্টার দীর্ঘ ফ্লাইট করে সেখানে যাওয়ার কোনো দরকার নেই। কারণ, সব ক্ষমতা এখনও তাদের হাতেই আছে। ওরা যখন খুশি আমাদের ফোন করতে পারে, কিন্তু তোমরা আর ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইট করে শুধু বসে বসে আজেবাজে কথা বলবে না। অর্থাৎ ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এখন আর তাড়াহুড়ো করতে রাজি নয়।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, আমি এইমাত্র আমার প্রতিনিধিদের পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরানিদের সঙ্গে দেখা করার সফর বাতিল করেছি। ভ্রমণে অনেক বেশি সময় নষ্ট হয়, অনেক বেশি কাজ! তাছাড়া, তাদের নেতৃত্বের মধ্যে প্রচণ্ড অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং বিভ্রান্তি রয়েছে। তারা নিজেরাও জানে না যে আসলে কে দায়িত্বে আছে। এছাড়াও, সব ক্ষমতা আমাদের হাতে, তাদের হাতে কিছুই নেই! তারা যদি কথা বলতে চায়, তাহলে শুধু একটা ফোন করলেই হবে!!!

মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। জেডি ভ্যান্স ও প্রথম দফার আলোচনায় ইরানি আলোচক দলের নেতা মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ উভয়েই সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অনুপস্থিত থাকা কথা ছিল। গতকাল খবর বেরিয়েছিল ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব থাকা দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার গালিবাফ পদত্যাগ করেছেন। যদিও এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরানি প্রতিনিধিদলের পাকিস্তান ত্যাগ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সফর বাতিল স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা এখানেই থমছে গেল। একই সঙ্গে প্রশ্ন তৈরি হলো বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি আদৌ কার্যকর থাকবে নাকি পুনরায় সংঘাতের বিভীষিকা দেখতে যাচ্ছে বিশ্ব। অন্যদিকে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টিও সুরাহা হওয়ার পথ জটিল হয়ে পড়ল।

আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2020 Lightnewsbd

Developer Design Host BD