ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিবরণকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে তেহরান।
মঙ্গলবার (৫ মে) ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ওমান উপকূলের খাসাব এলাকা থেকে ইরানের দিকে পণ্য বহনকারী দুটি ছোট নৌযানকে লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। আধা-সরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থা এক সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, ঘটনাটি তদন্ত করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
ইরানের ওই সূত্র আরও দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী প্রথমে ছয়টি ইরানি স্পিডবোটে হামলার কথা বললেও বাস্তবে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কোনো যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। পরে স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে বিষয়টি যাচাই করা হয়।
হামলায় পাঁচজন বেসামরিক যাত্রী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। আইআরজিসির দ্রুতগতির নৌযান কার্যক্রমকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ইরান এটিকে মার্কিন বাহিনীর “আতঙ্কপ্রসূত ও তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কামান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে “হুমকিস্বরূপ ইরানি ছোট নৌযান” ধ্বংস করেছে। তাদের দাবি, এসব নৌযান সামুদ্রিক পরিবহনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছিল।
সেন্টকম আরও অভিযোগ করে, সোমবার ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বাণিজ্যিক জাহাজের দিকে গুলি চালিয়েছে।
সম্প্রতি অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বেড়েছে, বিশেষ করে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ নেয় এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।
পরে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা স্থায়ী হয়নি। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য তা বাড়ান।
এদিকে, ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে ইরানি সামুদ্রিক চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ জারি করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।