ইতালি সরকার কৃষি ও পর্যটন খাতে চলমান শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত ৮ হাজার ৮৬৫টি সিজনাল ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন দিয়েছে। ২০২৬ সালের ‘ডিক্রেটো ফ্লুসি’ কর্মসূচির আওতায় নেওয়া এই সিদ্ধান্তে ইতালিগামী কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
ইতালির শ্রম ও সামাজিক নীতি মন্ত্রণালয় এবং দেশটির অফিসিয়াল গ্যাজেট অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তটি ২৮ এপ্রিল অনুমোদিত হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় ৬ মে। গ্রীষ্মকালীন কৃষিকাজ এবং পর্যটন মৌসুমে বাড়তি শ্রমিকের চাহিদা পূরণ করতেই এই অতিরিক্ত কোটা যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন বরাদ্দের মধ্যে কৃষি খাতের জন্য রাখা হয়েছে ৫ হাজার ৩৮৯টি পারমিট। আর পর্যটন, হোটেল ও আতিথেয়তা খাতের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৬টি পারমিট।
এ সিদ্ধান্তকে ইতালিতে সিজনাল ভিসার অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ‘ক্লিক ডে’তে আবেদন করেও কোটা শেষ হয়ে যাওয়ায় সুযোগ পাননি, তাদের আবেদন এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বিবেচনার আওতায় আসবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে নতুন আবেদনকারীরাও এই সুযোগ নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে ইতালির বৈধ নিয়োগকর্তার মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হবে। নিয়োগকর্তাকে দেশটির ওয়ান-স্টপ ইমিগ্রেশন পোর্টালে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে এবং কর্মীর থাকার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা পাওয়ার পর ইতালিতে পৌঁছে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে শ্রমিক সংকট বাড়তে থাকায় ইতালি বিদেশি কর্মীর ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার, বিশেষত বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শ্রমিকদের চাহিদা কৃষি ও পর্যটন খাতে ক্রমাগত বাড়ছে।
এদিকে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন, এই অতিরিক্ত কোটার সুযোগ দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, এমন অতিরিক্ত বরাদ্দ খুব দ্রুতই পূরণ হয়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে ২০১৫ সালের একটি কোটা মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।
সব মিলিয়ে, নতুন এই সিদ্ধান্ত ইতালিগামী শ্রমিকদের জন্য যেমন সম্ভাবনার দরজা খুলছে, তেমনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদও তৈরি করছে।